আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৬৮৬
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ)-এর আহার শেষে হাত ধোয়ার বিবরণ
৬৮৬। হযরত আনাস ইব্ন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজ ঘরের বরকত বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা করে সে যেন তার খাবার উপস্থিত হলে হাত ধুয়ে নেয় এবং তা তুলে নেওয়ার পরও হাত ধুয়ে নেয়।
أبواب الكتاب
ذِكْرُ غُسْلِهِ يَدَهُ بَعْدَ الطَّعَامِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
686 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْكَرِيمِ، نَا أَبُو زُرْعَةَ، نَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبَانَ الْأَزْدِيُّ، نَا كَثِيرُ بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ أَحَبَّ أَنْ تَكْثُرَ بَرَكَةُ بَيْتِهِ، فَلْيَتَوَضَّأْ إِذَا حَضَرَ غَدَاؤُهُ وَإِذَا رُفِعَ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উপরোক্ত হাদীসে ওযু শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এর দ্বারা ওযু করাও বুঝা যায়। অর্থাৎ আহার গ্রহণের পূর্বে ওযু করে নেওয়া ৷ কিন্তু এখানে ওযু শব্দের অর্থ হাত ধোয়াই গ্রহণ করা উত্তম ৷ কারণ খাওয়ার পূর্বে ওযু করলে আবার খাওয়া শেষে ওযু করার কোন অর্থ হয় 'না। একটি হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মটর আহার শেষে হাত ধোয়ার পর বলতেনঃ يا عكراش هذا الوضوء مما مست النار “হে ইকরাশ। আগুনে রান্না করা জিনিস আহারের পর এভাবে ওযু করতে (হাত ধুতে) হয় (তিরমিযী)।
“ঘরে বরকত হওয়া” কথাটি ব্যাপক অর্থবোধক। পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যের উন্নতি হওয়া, অল্প আহারে পরিতৃপ্ত হওয়া, অভাব-অনটন থেকে মুক্ত থাকা এর অন্তর্ভুক্ত । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত অনুযায়ী আমল করার কারণে ঈমান ও তাক্ওয়া বৃদ্ধি পেতে পারে, বেশি বেশি সৎকাজ করার অনুপ্রেরণা জাগ্রত হতে পারে ইত্যাদিও বরকতের অন্তর্ভুক্ত। স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও আহারের পূর্বে ও পরে হাত পরিষ্কার করার উপকারিতা রয়েছে। ইমাম গাযালী (র) লিখেছেন, অলসতা ও অমনোযোগিতা সহকারে পানাহার করলে অলসতা ও 'অমনোযোগিতা বৃদ্ধি পায় এবং মনোযোগ সহকারে ও আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে ‘বিসমিল্লাহ্‌' বলে আহার করলে মনোযোগিতা ও সতর্কতা ও আল্লাহ্‌র যিকির করার গুণাবলি বৃদ্ধি পায় (ইহ্‌ইয়া উলূমিদ্‌ দীন)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান