আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ৫৪৮
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রাতে, ঘুমের সময়, ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে এবং বিছানা ত্যাগের সময় যে আমল করতেন
৫৪৮। হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁর নিকট উল্লেখ করা হলো যে, কিছু লোক এক রাতের মধ্যেই গোটা কুরআন মজীদ একবার অথবা দুইবার পাঠ করে থাকে। আয়েশা (রা) বলেন, তারা কুরআন পড়েছে আবার পড়েওনি। আমি কখনও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে সমস্ত রাত দাঁড়িয়ে ইবাদত করতাম। তিনি সূরা বাকারা, সূরা আলে ইমরান ও সূরা নিসা পাঠ করতেন। তিনি কোন ভীতিপ্রদর্শনমূলক আয়াতে পৌঁছে সেখানে থেমে মহান আল্লাহ্র নিকট দুআ না করা পর্যন্ত সামনে অগ্রসর হতেন না। অনুরূপভাবে কোন সুসংবাদ সম্বলিত আয়াতে পৌঁছে আল্লাহ্র নিকট দুআ না করে সামনে অগ্রসর হতেন না।
أبواب الكتاب
ذِكْرُ فِعْلِهِ فِي لَيْلَتِهِ، وَفَى فِرَاشِهِ، وَعِنْدَ انْتِبَاهِهِ مِنْ نَوْمِهِ، وَعِنْدَ قِيَامِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
548 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْفِرْيَابِيُّ، نَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، نَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ نُعَيْمٍ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ مِخْرَاقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: ذُكِرَ لَهَا أَنَّ نَاسًا يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ فِي لَيْلَةٍ مَرَّةً، أَوْ مَرَّتَيْنِ، قَالَتْ: أُولَئِكَ قَرَءُوا، وَلَمْ يَقْرَءُوا، كُنْتُ أَقُومُ مَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةَ التَّمَامِ، وَكَانَ يَقْرَأُ سُورَةَ الْبَقَرَةِ، وَآلَ عِمْرَانَ، وَالنِّسَاءَ، فَلَا يَمُرُّ بِآيَةٍ فِيهَا تَخْوِيفٌ إِلَّا دَعَا اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَاسْتَعَاذَهُ، وَلَا يَمُرُّ بِآيَةِ اسْتِبْشَارٍ إِلَّا دَعَا اللَّهَ وَرَغِبَ إِلَيْهِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উপরোক্ত হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদের সালাত ধীরে-সুস্থে, এবং থেমে থেমে কুরআন মজীদ তিলাওয়াত করতেন। যেসব আয়াতে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বা শাস্তির কথা উল্লেখ আছে, পাপাচারী ও কাফিরদের করুণ পরিণতির কথা বলা আছে, দোযখের শান্তি ও আখিরাতের ভয়াবহ অবস্থার কথা বর্ণিত হয়েছে সেসব আয়াত পাঠ শেষে আল্লাহ্র কাছে দোযখের শাস্তি ও আখিরাতের করুণ পরিণতি থেকে বাঁচার জন্য দু’আ করতেন। আবার যেসব আয়াতে আল্লাহ্র পরাক্রমশীলতা ও উচ্চ মর্যাদার কথা বর্ণিত হয়েছে সেসব আয়াত পাঠ শেষে তিনি বিনয়, নম্রতা ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করতেন। আবার যেসব আয়াতে জান্নাতের নিয়ামতরাজির, জান্নাতবাসীদের সফলতা ও আল্লাহ্ রহমতের বর্ণনা রয়েছে, সেসব আয়াত পাঠ শেষে তিনি আল্লাহ্র রহমত কামনা করতেন। মোটকথা তিনি প্রতিটি আয়াতের বিষয়বস্তুর দাবি পূরণ করে সামনে অগ্রসর হতেন। সুবহানাল্লাহ্। কত উচ্চতর পর্যায়ের সালাত তিনি পড়তেন। আমাদের সকলের এভাবেই কুরআন তিলাওয়াত করা উচিত এবং প্রাসঙ্গিক আয়াত তিলাওয়াত শেষে আল্লাহ্র নিকট প্রাসঙ্গিক মুনাজাত করা উচিত।