আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৫৪৪
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রাতে, ঘুমের সময়, ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে এবং বিছানা ত্যাগের সময় যে আমল করতেন
৫৪৪। আতা (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি, আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন উমর ও উবায়দুল্লাহ্ ইব্‌ন উমাইর (রা) একযোগে আয়েশা (রা)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। ইব্‌ন উমর (রা) তাঁকে বললেন, আপনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সর্বাধিক বিস্ময়কর যে ঘটনা লক্ষ্য করেছেন তা আমাকে বলুন। রাবী বলেন, আয়েশা (রা)-এর কান্না পেল। অতপর বললেন, তাঁর প্রত্যেকটি কাজই ছিল বিস্ময়কর। এক রাতে, যখন আমার সাথে থাকার পালা ছিল, তিনি এলেন এবং আমার সাথে লেপের মধ্যে ঢুকে পড়লেন। তিনি এত নিকটবর্তী হলেন যে, তাঁর দেহ আমার দেহের সাথে লেগে গেল। তিনি বললেন, হে আয়েশা! আমাকে অনুমতি দাও, আমি আমার প্রভুর ইবাদত করি। আমি বললাম, আমি আপনার নৈকট্য ও অনুরাগ পছন্দ করি। অতপর তিনি উঠে ঘরে রক্ষিত একটি মশকের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং ওযূ করলেন, অতপর দাঁড়িয়ে কুরআন পড়লেন। আয়েশা (রা) বলেন, অতপর তিনি কাঁদলেন, এমনকি তাঁর চোখের পানি তাঁর ক্রোড় পর্যন্ত গড়িয়ে আসতে দেখলাম। তারপর তিনি তাঁর ডান পার্শ্বদেশে ভর দিয়ে কাত হলেন এবং নিজের ডান হাত ডান ঘাড়ের নীচে স্থাপন করে কাঁদতে লাগলেন। এমনকি আমি তাঁর চোখের অশ্রু মাটিতে গড়িয়ে পড়তে দেখলাম। আয়েশা (রা) বলেন, অতপর বিলাল (রা) এসে তাঁকে ফজরের সালাত পড়ার কথা বললেন। তিনি তাঁকে কাঁদতে দেখে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি কাঁদছেন, অথচ আপনার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ্ আল্লাহ্ মাফ করে দিয়েছেন। তিনি বললেন, আমি কি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না? তিনি আরও বললেন, আমি কাঁদব না ? অথচ আল্লাহ্ তাআলা আজ রাতে আমার উপর (নিম্নোক্ত আয়াত) নাযিল করেছেন : “আকাশ মণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে বোধশক্তি সম্পন্ন লোকের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে এবং আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্বন্ধে চিন্তা করে এবং বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এটা নিরর্থক সৃষ্টি করনি, তুমি পবিত্র, তুমি আমাদেরকে দোযখের শাস্তি থেকে রক্ষা কর।” (সূরা আল ইমরান ১৯০, ১৯১)
ধ্বংস সেই ব্যক্তির জন্য যে এই আয়াত তিলাওয়াত করে অথচ তার সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করে না।
أبواب الكتاب
ذِكْرُ فِعْلِهِ فِي لَيْلَتِهِ، وَفَى فِرَاشِهِ، وَعِنْدَ انْتِبَاهِهِ مِنْ نَوْمِهِ، وَعِنْدَ قِيَامِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
544 - حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ الْعَبَّاسُ ابْنُ الشَّيْخِ أَبِي الْعَبَّاسِ السَّقَانِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ، نا الْإِمَامُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَارِثِ التَّمِيمِيُّ الْفَقِيهُ الْحَافِظُ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ أنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَيَّانَ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الْفِرْيَابِيُّ، نَا الْحُسَيْنُ بْنُ عِيسَى الْقُومَسِيُّ، نَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، نَا أَبُو جَنَابٍ الْكَلْبِيُّ، نَا عَطَاءٌ، قَالَ: دَخَلْتُ أَنَا وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، وَعُبَيْدُ بْنُ عُمَيْرٍ، عَلَى عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: حَدِّثِينِي بِأَعْجَبَ مَا رَأَيْتِ مِنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: فَبَكَتْ، ثُمَّ قَالَتْ: كُلُّ أَمِرِهِ كَانَ عَجَبًا أَتَانِي فِي لَيْلَتِي، حَتَّى إِذَا دَخَلَ مِعِي فِي لِحَافِي، وَأَلْزَقَ جِلْدَهُ بِجِلْدِي، قَالَ: يَا عَائِشَةُ ائْذَنِي لِي، أَتَعَبَّدُ لِرَبِّي، فَقُلْتُ: إِنِّي لَأُحِبُّ قُرْبَكَ وَهَوَاكَ قَالَتْ: فَقَامَ إِلَى قِرْبَةٍ فِي الْبَيْتِ، فَمَا أَكْثَرَ صَبَّ الْمَاءِ، ثُمَّ قَامَ فَقَرَأَ الْقُرْآنَ قَالَتْ: ثُمَّ بَكَى، حَتَّى رَأَيْتُ أَنَّ دُمُوعَهُ بَلَغَتْ حِجْرَهُ، ثُمَّ اتَّكَأَ عَلَى جَنْبِهِ الْأَيْمَنِ، ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى تَحْتَ خَدِّهِ، ثُمَّ بَكَى، حَتَّى رَأَيْتُ أَنَّ دُمُوعَهُ قَدْ بَلَغَتِ الْأَرْضَ قَالَتْ: فَجَاءَ بِلَالٌ فَآذَنَهُ بِصَلَاةِ الْفَجْرِ، فَلَمَّا رَأَهْ يَبْكِي، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَبْكِي وَقَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ؟ قَالَ: أَفَلَا أَكُونُ عَبْدًا شَكُورًا؟ وَقَالَ: أَلَا أَبْكِي وَقَدْ أُنْزِلَ عَلَيَّ اللَّيْلَةَ: {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ} إِلَى قَوْلِهِ {سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ} [آل عمران: 191] وَيْلٌ لِمَنْ قَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ وَلَمْ يَتَفَكَّرْ فِيهَا
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান