আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

৬৪- আদব - শিষ্টাচারের অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৬৫৫
আন্তর্জাতিক নং: ৬০৮৪
- আদব - শিষ্টাচারের অধ্যায়
৩২৩০. মুচকি হাসি ও হাসি প্রসঙ্গে। ফাতিমা (রাযিঃ) বলেন, একবার নবী (ﷺ) আমাকে গোপনে একটি কথা বললেন, আমি হাসলাম।
ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ হাসানো ও কাঁদানোর একমাত্র মালিক।
৫৬৫৫। হিব্বান ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রিফাআ কুরাযী (রাযিঃ) তাঁর স্ত্রীকে তালাক দেন এবং অকাট্য তালাক দেন। এরপর আব্দুর রহমান ইবনে যাবির তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি পূর্বে রিফাআর কাছে ছিলেন এবং রিফাআ তাকে শেষ তিন তালাক দিয়ে দেন এবং তাঁকে আব্দুর রহমান ইবনে যাবির বিয়ে করেন। আল্লাহর কসম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এর কাছে তো শুধু এ কাপড়ের মত রয়েছে। (একথা বলে) তিনি তাঁর ওড়নার আঁচল ধরে উঠালেন।
রাবী বলেনঃ তখন আবু বকর (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর নিকট বসা ছিলেন এবং খালিদ ইবনে সাঈদ ইবনে আসও ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি লাভের অপেক্ষায় হুজরার দরজার কাছে বসা ছিলেন। তখন খালিদ (রাযিঃ) আবু বকর (রাযিঃ) কে উচ্চস্বরে ডেকে বললেনঃ হে আবু বকর, আপনি এই মহিলাকে কেন ধমক দিচ্ছেন না, যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে (প্রকাশ্যে) এসব কথাবার্তা বলছে, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কেবল মুচকি হাসছিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সম্ভবত তুমি আবার রিফাআ (রাযিঃ) এর নিকট ফিরে যেতে চাও। তা হবে না, যতক্ষণ না তুমি তার এবং সে তোমার মিলন স্বাদ গ্রহণ করবে।
كتاب الأدب
بَابُ التَّبَسُّمِ وَالضَّحِكِ وَقَالَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلاَمُ: «أَسَرَّ إِلَيَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَضَحِكْتُ» وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: «إِنَّ اللَّهَ هُوَ أَضْحَكَ وَأَبْكَى»
6084 - حَدَّثَنَا حِبَّانُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّ رِفَاعَةَ القُرَظِيَّ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ فَبَتَّ طَلاَقَهَا، فَتَزَوَّجَهَا بَعْدَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الزَّبِيرِ، فَجَاءَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص:23] فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّهَا كَانَتْ عِنْدَ رِفَاعَةَ فَطَلَّقَهَا آخِرَ ثَلاَثِ تَطْلِيقَاتٍ، فَتَزَوَّجَهَا بَعْدَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الزَّبِيرِ، وَإِنَّهُ وَاللَّهِ مَا مَعَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِلَّا مِثْلُ هَذِهِ الهُدْبَةِ، لِهُدْبَةٍ أَخَذَتْهَا مِنْ جِلْبَابِهَا، قَالَ: وَأَبُو بَكْرٍ جَالِسٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَابْنُ سَعِيدِ بْنِ العَاصِ جَالِسٌ بِبَابِ الحُجْرَةِ لِيُؤْذَنَ لَهُ، فَطَفِقَ خَالِدٌ يُنَادِي أَبَا بَكْرٍ: يَا أَبَا بَكْرٍ، أَلاَ تَزْجُرُ هَذِهِ عَمَّا تَجْهَرُ بِهِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمَا يَزِيدُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى التَّبَسُّمِ، ثُمَّ قَالَ: «لَعَلَّكِ تُرِيدِينَ أَنْ تَرْجِعِي إِلَى رِفَاعَةَ، لاَ، حَتَّى تَذُوقِي عُسَيْلَتَهُ، وَيَذُوقَ عُسَيْلَتَكِ»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

শরীয়তের এ নির্দেশ কুরআন মজীদেও বর্ণিত হয়েছে। সূরা বাকারায় বলা হয়েছে:

فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ

(অর্থাৎ স্বামী যদি স্ত্রীকে দুই তালাকের পর তৃতীয় তালাকও দিয়ে দেয় তবে সেই মহিলা এ স্বামীর জন্য তত সময় পর্যন্ত হালাল হবে না, যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্বামীর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়)। এরপর সেই দ্বিতীয় স্বামী যদি মৃত্যুবরণ করে অথবা তালাক দিয়ে দেয় তবে ইদ্দত পূর্ণ করার পর প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে।

বস্তুত আলোচ্য হাদীস থেকে এবং এছাড়াও বিভিন্ন হাদীসমূহ থেকে উল্লিখিত আয়াতের তাফসীর ও ব্যাখা এই জানা গেল যে, অন্য স্বামীর সাথে কেবল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যথেষ্ট নয় বরং সেই কাজও প্রয়োজন যা বিবাহের বিশেষ উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। এ বিষয়ে উম্মতের অধিকাংশ আলিমগণের অভিমত এটাই। বিষয় হচ্ছে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে যদি সহবাসের বাধ্যবাধকতা না থাকে তবে দ্বিতীয় বিবাহের শর্ত একেবারে মূল্যহীন ও অর্থহীন হয়ে দাঁড়াবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)