আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ৩২৯
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ)-এর কাতান, তুলা ও ইয়ামানী পোশাক ব্যবহার করার বর্ণনা
৩২৯। হাম্মাদ ইব্ন যায়দ (রাযিঃ) হযরত আইউব (রাযিঃ)-এর এক বন্ধুর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, সালত ইব্ন রাশিদ মুহাম্মাদ ইব্ন সীরীনের কাছে গেলেন। সে সময় তিনি (সালত ইব্ন রাশেদ) পশমী জুব্বা, পশমী লুঙ্গি ও পশমী পাগড়ি পরিহিত ছিলেন। মুহাম্মাদ ইব্ন সীরীন তাঁর এই পোশাক অপছন্দ করলেন এবং বললেন, আমার ধারণা কিছু সংখ্যক লোক পশমী পোশাক পরিধান করে এবং বলে যে, ঈসা ইব্ন মারিয়াম (আ)-ও পশমী পোশাক পরিধান করেছেন। অথচ আমি যাকে মিথ্যা বলার সন্দেহ করতে পারি না- এমন একজন লোক আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তুলা এবং নক্শাদার ইয়ামানী কাপড়ের পোশাক ব্যবহার করেছেন। আমাদের নবী (ﷺ)-এর সুন্নতই অধিক অনুসরণযোগ্য। সুতি,
أبواب الكتاب
ذِكْرُ لِبَاسِهِ الْكَتَّانِ وَالْقُطْنِ وَالْيُمْنَةِ
329 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، نَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، نَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، نَا جَلِيسٌ لِأَيُّوبَ، قَالَ: دَخَلَ الصَّلْتُ بْنُ رَاشِدٍ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، وَعَلَيْهِ جُبَّةُ صُوفٍ، وَإِزَارُ صُوفٍ، وَعِمَامَةُ صُوفٍ، فَاشْمَأَزَّ مِنْهُ مُحَمَّدٌ، وَقَالَ: أَظُنُّ أَنَّ أَقْوَامًا يَلْبَسُونَ الصُّوفَ يَقُولُونَ قَدْ لَبِسَهُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَقَدْ حَدَّثَنِي مَنْ لَا أَتَّهِمُ: أَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ لَبِسَ الْكَتَّانَ وَالْقُطْنَ وَالْيُمْنَةَ، وَسُنَّةُ نَبِيِّنَا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَقُّ أَنْ تُتَّبَعَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
সালত ইব্ন রাশিদ (রা) যেভাবে আপাদমস্তক শুধু পশমী পোশাক পরিধান করেছিলেন তা দেখে এ ধারণা হতে পারতো যে, এটি সুন্নত পোশাক। তাই ইমাম মুহাম্মদ ইব্ন সীরীনের অপছন্দ করার অর্থ এ নয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক পশমী পোশাক পরিধান প্রমাণিত নয়। বরং এর অর্থ হচ্ছে পশমী বস্ত্র ছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর অন্যান্য পোশাকও পরিধান করেছেন এবং সেটিই তাঁর অগ্রাধিকারযোগ্য সুন্নত। সুতরাং পশমী পোশাককে প্রতীক বানিয়ে নেয়ার অর্থ হবে এই যে, পোশাকের ব্যাপারে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অগ্রাধিকারযোগ্য সুন্নতকে উপেক্ষা করছি। ফিকহের এই মাসয়ালাটিকে এর দৃষ্টান্ত হিসেবে পেশ করা যায় যে, সালাতে সর্বদা একই সূরা পড়া ‘মাকরূহ’। কারণ এ কাজ দ্বারা কুরআন মজীদের অন্যান্য সূরার প্রতি বেপরোয়াভাব দেখানো হয়। সুতরাং বোঝা যায় যে, নির্দিষ্ট সূরা পাঠ অপছন্দনীয় নয় এবং কুরআনের অবশিষ্টাংশ না পড়াটা মাকরূহ।