আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ২৫১
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর জামা এবং জামা পরিধানের সময় মহান আল্লাহর প্রতি হাম্দ ও প্রশংসা
২৫১। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন কোন নতুন কাপড় পরিধান করতেন তখন (আল্লাহ্ পাকের শুকরিয়া প্রকাশের উদ্দেশ্যে) কাপড়টির একটি নাম রাখতেন। সেটি লুঙ্গি হোক কিংবা জামা কিংবা পাগড়ি। তারপর এ দুআ পাঠ করতেন। اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ كَمَا كَسَوْتَنِي هَذَا، أَسْأَلُكُ مِنْ خَيْرِهِ، وَخَيْرِ مَا صُنِعَ لَهُ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهِ، وَشَرِّ مَا صُنِعَ لَهُ –হে আল্লাহ্! সকল হামদ্ ও প্রশংসা একমাত্র তোমারই জন্য। তুমি যেভাবে আমাকে এ কাপড় পরিধান করতে দিয়েছো, সেভাবে আমি তোমার শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। (হে আল্লাহ্!) আমি তোমার কাছে ঐ কাপড়ের কল্যাণ এবং এ কাপড় যে কাজের জন্য তৈরী করা হয়েছে সে কাজের কল্যাণ লাভের প্রার্থনা করছি। এবং আমি তোমার কাছে এ কাপড়ের অনিষ্টতা এবং কাপড়টি যে কাজের জন্য তৈরী সে কাজের অনিষ্টতা থেকে পানাহ চাই—অর্থাৎ এ কাপড় আমার জন্য যেন আত্মম্ভরিতা ও লোক দেখানোর কারণ না হয় এবং এ কাপড় পরিধান করে আমার থেকে যেনো কোন পাপ কাজ কিংবা অন্যায় আচরণ ঘটতে না পারে।
أبواب الكتاب
ذِكْرُ قَمِيصِهِ وَحَمْدِ رَبِّهِ عِنْدَ لِبْسِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
251 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، بْنُ عُمَرَ بْنِ أَبَانَ، نَا أَبُو أُسَامَةَ، نَا الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اسْتَجَدَّ ثَوْبًا سَمَّاهُ بِاسْمِهِ، إِزَارًا كَانَ أَوْ قَمِيصًا، أَوْ عِمَامَةً، ثُمَّ يَقُولُ: اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ كَمَا كَسَوْتَنِي هَذَا، أَسْأَلُكُ مِنْ خَيْرِهِ، وَخَيْرِ مَا صُنِعَ لَهُ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهِ، وَشَرِّ مَا صُنِعَ لَهُ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
যাবতীয় নিয়ামত তা প্রকাশ্য হোক আর অপ্রকাশ্য একমাত্র মহান আল্লাহ্ প্রদত্ত। কোন একটি নিয়ামতের উপর এই মহান স্রষ্টা ও মহান অধিপতির যতই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হোক তা তুচ্ছ ও নগণ্য। প্রত্যেক মানুষের জন্য কর্তব্য যে, তার মহান প্রভুর দেয়া এ নিয়ামতরাজির শুকরিয়া সকল অবস্থায় আদায় করে যাওয়া। শোকর আদায় করার দু’টি পদ্ধতি রয়েছে। প্রথম হলো, নিজের কাজকর্ম ও আমলের দ্বারা শুকরিয়া আদায় করা। অর্থাৎ এ নিয়ামতকে সঠিক স্থানে সঠিকভাবে ব্যবহার করবে। নিয়ামত দানের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য তথা আল্লাহ্ পাকের ইবাদত ও বন্দেগীর প্রতি যত্নবান হবে। দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো, মুখের দ্বারা এ জগত পালনকর্তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা। স্মরণ রাখতে হবে আল্লাহ্ পাকের প্রতিটি নিয়ামতকে যদি তাঁর নির্দেশ মোতাবেক ব্যবহার করা হয় তাহলে মানুষের জন্য সেই নিয়ামত কল্যাণ তথা ইবাদতে পরিণত হয়। বরং বলা চলে যে, তখন এটি পূর্বাপেক্ষা অধিকতর কল্যাণের কারণ হয়ে থাকে, অধিকতর কল্যাণের পথ খুলে দেয়। পক্ষান্তরে সেই নিয়ামত যদি তাঁর নির্দেশের বিপরীতে ব্যয় বা ব্যবহার করা হয় তখন সেটি মানুষের জন্য অনিষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। মানুষের নাফরমানী ও অবাধ্যতার পথ সুগম করে। কাজেই আল্লাহ্ পাকের কোন নিয়ামত লাভ হওয়ার মুহূর্তেই তাঁর কাছে নিয়ামতের কল্যাণের দু’আ করা এবং অনিষ্ট থেকে পানাহ চাওয়া উচিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নতুন পোশাকের ব্যাপারটিও ছিল এরূপ। এ কারণেই তিনি উপরোক্ত দু’আ পাঠ করার শিক্ষা দিয়েছেন।
বর্ণনাকারী: