আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ২২৪
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
কোন মজলিস ত্যাগ করার সময় নবী (ﷺ) -এর পঠিত দুআ
২২৪। হযরত রাফি’ ইব্ন খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন কোন মজলিস ত্যাগ করতে ইচ্ছা করতেন তখন এ দুআ পড়তেনঃ আল্লাহ্! তুমি মহান ও পবিত্র। আমরা তোমারই হাম্দ ও প্রশংসা করি। আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এ শব্দগুলো পাঠ করার জন্য আপনি নিজ থেকে মনোনীত করে নিয়েছেন? নবী (ﷺ) উত্তর দিলেন, না। এ শব্দগুলো হযরত জিব্রীল (আ) আমার কাছে নিয়ে আসেন।
أبواب الكتاب
ذِكْرُ قَوْلِهِ عِنْدَ قِيَامِهِ مِنْ مَجْلِسِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
224 - أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ الْفَارِسِيُّ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الثَّلْجِ، نَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، نَا مُصْعَبُ بْنُ حَيَّانَ، عَنْ مُقَاتِلِ بْنِ حَيَّانَ، عَنِ الرَّبِيعِ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنْ رَافِعٍ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنْهَضَ، قَالَ: سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ. قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إنْ هَؤُلَاءِ كَلِمَاتٍ أَحْدَثْتَهُنَّ؟ قَالَ: أَجَلْ، جَاءَنِي بِهِنَّ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলম-এর যাবতীয় শিক্ষার সারনির্যাস হলো তিনি নিজের কাজ-কর্ম, রীতি-নীতি ও কর্মপদ্ধতির দ্বারা সর্বদা মানুষকে মহান আল্লাহর সাথে সম্পর্ক সৃষ্টির জন্য সচেষ্ট থাকতেন। উম্মতকে তিনি এমন শিক্ষা ও পথনির্দেশ দিয়ে যান যাতে প্রকৃত ইলাহ্ মহান আল্লাহ্র সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়ে ওঠে। এবং জীবনের কোন অবস্থাতেই যেন তারা প্রকৃত মাওলা থেকে উদাসীন না থাকে। যাবতীয় ইবাদত-বন্দেগীর এই হলো সারনির্যাস। এরই মধ্যে নিহিত আছে মানব জীবনের সর্বাঙ্গীণ সফলতা ও কল্যাণ। উপরোক্ত হাদীসদ্বয়েও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কিছু দু’আ ও কালেমা শিক্ষা দেন যেখানে আল্লাহ্ পাকের হামদ ও প্রশংসা, তাঁর পবিত্রতার ঘোষণা, তাঁর একত্ববাদের স্বীকৃতি এবং তাঁর কাছে সর্বদা তাওবা ও ইস্তিগফার করা ইত্যাদির প্রতি উৎসাহ দান করা হয়েছে কোন সন্দেহ নেই, মানুষ যখন কোনো মজলিসে কিংবা কোন মাহফিলে বসে তখন সেখানে দুনিয়া-আখিরাত সব ধরনের কথাবার্তা চলে। কখনো কখনো অর্থহীন আলাপ-আলোচনাও শুরু হয়। কাজেই এ স্থানেও উম্মতকে আল্লাহ্ পাকের দিকে মনোযোগী করার লক্ষ্যে বর্ণিত দু’আটি পাঠ করেন । তা ছাড়া সেই মজলিসে জানা কিংবা অজানাভাবে যে সমস্ত ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটে যায় বর্ণিত দু’আর বরকতে তা থেকেও ক্ষমা পাওয়া যায়। এ দু’আর বিষয়ে অপর একখানা হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ দু’আটি হলো মজলিসের কাফ্ফারা স্বরূপ। (আবূ দাউদ, পৃষ্ঠা ৬৬৭)
বর্ণনাকারী: