আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ২১৪
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর পথচলা এবং চলাপথে এদিক সেদিক দৃষ্টিপাত করার নীতি
২১৪। হযরত রাবীয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা হযরত আনাস ইব্ন মালিক (রাযিঃ)-এর দরবারে গেলাম এবং তাঁকে নবী (ﷺ) -এর অনুপম গুণাবলি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। উত্তরে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন পথ চলতেন তখন তিনি যেন কোনো ঢালু ভূমি দিয়ে চলছেন। (অর্থাৎ চলার পথে তাঁর হ্যাঁটার গতি ছিল কিছুটা দ্রুত।)
أبواب الكتاب
صِفَةُ مَشْيِهِ وَالْتِفَاتِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
214 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بنِ الْجُنَيْدِ، نَا يَحْيَى بْنُ غَيْلَانَ، نَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ رَبِيعَةَ، قَالَ: دَخَلْنا عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، فَسَأَلْنَاهُ عَنْ صِفَةِ النَّبِيِّ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: كَانَ إِذَا مَشَى كَأَنَّمَا يَمْشِي فِي صَبَبٍ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উপরোক্ত হাদীসসমূহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথ চলার নিয়মনীতি বর্ণনা করা হয়েছে। এ সকল হাদীসের আলোকে বোঝা যায় যে, তাঁর পথ চলার মধ্যে তিন ধরনের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিলোঃ
এক. তিনি নম্রতা অবলম্বনের লক্ষ্যে সম্মুখের দিকে ঝুঁকে চলতেন। অহংকারসুলভ বুকটান করে হাঁটতেন না। (তবে যুদ্ধের ময়দানে মুজাহিদগণের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম রয়েছে। কেননা তাদের ব্যাপারে নির্দেশ হলো কাফিরদের মুকাবিলায় বিনয় ও নম্রতার প্রকাশ নয়; বরং নিজেদের শক্তি, বীরত্ব ও অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতার প্রকাশ করা আবশ্যক।)
দুই. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পথ চলার সময় মাটি থেকে পা তুলে তুলে সবল পুরুষের মত হাঁটতেন। অলস ও খোঁড়ার মত মাটিতে পা টেনে চলতেন না। কেননা এটি অপছন্দনীয় ও দোষের।
তিন. তিনি তুলনামূলকভাবে দ্রুত চলতেন। খুব ধীর গতিতে অলসের মত কিংবা মেয়েলি চলন তাঁর ছিলো না।
দীন ইসলামের হেফাযতকারীগণ যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যান্য গুণ, বৈশিষ্ট্য, নীতি ও চরিত্রের আমলী সংরক্ষণ করেছেন তদ্রূপ তাঁর চাল-চলন ও হাঁটার পদ্ধতিও তাঁরা যথার্থভাবে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ছোট থেকে ছোট কোন গুণ কিংবা কোন অভ্যাসকে উপেক্ষা করেননি। বস্তুত এটি সাহাবায়ে কিরামের এমন এক কৃতিত্ব যার উপমা ইতিহাসের কোনো কালেও দেখা যায় না। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শেষ নবী হওয়ার এত প্রকৃষ্ট দলীল যা কেউই অস্বীকার করতে পারে না। অর্থাৎ যে ভাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাত ও নবুওয়াতের যাবতীয় বিষয় কিয়ামত পর্যন্ত সময়কালের জন্য সংরক্ষিত হয়ে আছে, সেভাবে তাঁর আকার-আকৃতি, চাল-চলন, উঠা-বসা ইত্যাদির পদ্ধতিও যথাযথভাবে সংরক্ষিত। আর এভাবেই অনাগত ভবিষ্যত বংশধরের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহান সত্তা একটি সমুজ্জ্বল আদর্শ হয়ে অটুট থাকবে।
এক. তিনি নম্রতা অবলম্বনের লক্ষ্যে সম্মুখের দিকে ঝুঁকে চলতেন। অহংকারসুলভ বুকটান করে হাঁটতেন না। (তবে যুদ্ধের ময়দানে মুজাহিদগণের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম রয়েছে। কেননা তাদের ব্যাপারে নির্দেশ হলো কাফিরদের মুকাবিলায় বিনয় ও নম্রতার প্রকাশ নয়; বরং নিজেদের শক্তি, বীরত্ব ও অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতার প্রকাশ করা আবশ্যক।)
দুই. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পথ চলার সময় মাটি থেকে পা তুলে তুলে সবল পুরুষের মত হাঁটতেন। অলস ও খোঁড়ার মত মাটিতে পা টেনে চলতেন না। কেননা এটি অপছন্দনীয় ও দোষের।
তিন. তিনি তুলনামূলকভাবে দ্রুত চলতেন। খুব ধীর গতিতে অলসের মত কিংবা মেয়েলি চলন তাঁর ছিলো না।
দীন ইসলামের হেফাযতকারীগণ যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যান্য গুণ, বৈশিষ্ট্য, নীতি ও চরিত্রের আমলী সংরক্ষণ করেছেন তদ্রূপ তাঁর চাল-চলন ও হাঁটার পদ্ধতিও তাঁরা যথার্থভাবে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ছোট থেকে ছোট কোন গুণ কিংবা কোন অভ্যাসকে উপেক্ষা করেননি। বস্তুত এটি সাহাবায়ে কিরামের এমন এক কৃতিত্ব যার উপমা ইতিহাসের কোনো কালেও দেখা যায় না। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শেষ নবী হওয়ার এত প্রকৃষ্ট দলীল যা কেউই অস্বীকার করতে পারে না। অর্থাৎ যে ভাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাত ও নবুওয়াতের যাবতীয় বিষয় কিয়ামত পর্যন্ত সময়কালের জন্য সংরক্ষিত হয়ে আছে, সেভাবে তাঁর আকার-আকৃতি, চাল-চলন, উঠা-বসা ইত্যাদির পদ্ধতিও যথাযথভাবে সংরক্ষিত। আর এভাবেই অনাগত ভবিষ্যত বংশধরের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহান সত্তা একটি সমুজ্জ্বল আদর্শ হয়ে অটুট থাকবে।