আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ২০৩
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ)-এর কথাবার্তা বলার নীতি
২০৩। হযরত হাসান ইব্‌ন আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার মামা হযরত হিন্দা ইব্‌ন আবু হালা (রাযিঃ)-কে নবী (ﷺ) -এর কথাবার্তা বলার নীতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম । তখন তিনি বললেন, নবী (ﷺ) তাঁর নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য মহান আল্লাহ্ পাকের সন্তুষ্টি মোতাবেক পালন করার চিন্তায় চির আত্মনিমগ্ন এবং উম্মতের সফলতা ও কল্যাণ চিন্তায় সর্বদা বিভোর থাকতেন। সামান্য পরিমাণের অস্থিরতাও তাঁর ছিলো না। কাজেই অধিকাংশ সময় তিনি চুপ থাকতেন, প্রয়োজন ব্যতিরেকে কোন কথা বলতেন না। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কথা বলতেন খুবই স্পষ্টভাবে। তাঁর কথাগুলি ছিলো উপযুক্ত শব্দমালার দ্বারা গঠিত সৌষ্ঠবতাপূর্ণ বাক্য। এক বাক্য অন্য বাক্য থেকে পৃথক থাকতো। কথাগুলির মধ্যে না কোন অতিরিক্ত শব্দ থাকতো, আর না মর্ম প্রকাশে অক্ষম কোন শব্দ পাওয়া যেত। তিনি ছিলেন মিষ্টভাষী। কদর্যতা কিংবা রূঢ়তা তাঁর ভাষায় ছিলো না। আল্লাহ্ পাকের কোন নিয়ামত তা যতই ছোট হোক, তিনি এর খুবই কদর করতেন। কখনো তা হেয় কিংবা তুচ্ছ মনে করতেন না। জাগতিক কোন কাজ তাকে ক্রোধান্বিত করতো না, (কেননা তাঁর দৃষ্টিতে জাগতিক বিষয়াদির তেমন কোন গুরুত্ব ছিল না) আর জাগতিক কাজকর্ম ক্রোধ নিপাতের বন্ধুও নয়। তবে সত্য ও ন্যায়ের উপর হস্তক্ষেপ করা হলে তার চেহারা এত পরিবর্তন হয়ে যেতো যে, কেউ তাঁকে তখন চেনা কঠিন হতো। আর সে মুহূর্তে তাঁর ক্রোধের সামনে দাঁড়িয়ে কোন বিষয় টিকতে সক্ষম হতো না; যতক্ষণ না তিনি অন্যায়ের প্রতিকার করতেন। তিনি যখন কারোর দিকে ইশারা করতেন তখন সম্পূর্ণ হাত দ্বারা ইশারা করতেন। (কেননা শুধু অঙ্গুলী দ্বারা ইশারা করা ভালো নয়।) তিনি কখনো কোন কাজে বিস্ময় প্রকাশ করলে হাত মুবারক ঘুরিয়ে নিতেন। কথা বলার সময় কখনো কখনো হাতও নাড়াচাড়া করতেন। এভাবে কখনো তিনি ডান হাতের তালু বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলের পেটের উপর মারতেন।
أبواب الكتاب
صِفَةُ مَنْطِقِهِ وَأَلْفَاظِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
203 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ أَيُّوبَ، نَا عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ. وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ جَمِيلٍ، نَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا جُمَيْعُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي رَجُلٌ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ مِنْ وُلْدِ أَبِي هَالَةَ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ: سَأَلْتُ خَالِي هِنْدًا، قُلْتُ: صِفْ لِي مَنْطِقهُ، فَقَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُتَوَاصِلَ الْأَحْزَانِ دَائِمَ الْفِكْرِ، لَيْسَتْ لَهُ رَاحَةٌ، لَا يَتَكَلَّمُ فِي غَيْرِ حَاجَةٍ، طَوِيلَ السَّكْتِ، يَفْتَتِحُ الْكَلَامَ وَيَخْتِمُهُ بِأَشْدَاقِهِ، وَيَتَكَلَّمُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمِ، فَصْلًا لَا فُضُولَ فِيهِ، وَلَا تُقْصِيرَ، دَمِثٌ لَيْسَ بِالْجَافِي، وَلَا بِالْمَهِينِ، يُعَظِّمُ النِّعْمَةَ وَإِنْ دَقَّتْ، وَلَا يَذُمُّ مِنْهَا شَيْئًا، لَا تُغْضِبُهُ الدُّنْيَا وَمَا كَانَ لَهَا، فَإِذَا تُعُوطِيَ الْحَقَّ لَمْ يَعْرِفُهْ أَحَدٌ وَلَمْ يَقُمْ لِغَضَبِهِ شَيْءٌ، حَتَّى يَنْتَصِرَ لَهُ، إِذَا أَشَارَ أَشَارَ بِكَفِّهِ كُلِّهَا، وَإِذَا تَعَجَّبَ قَلَبَهَا، وَإِذَا تَحَدَّثَ اتَّصَلَ بِهَا، يَضْرِبُ بِرَاحَتِهِ الْيُمْنَى بَاطِنَ إِبْهَامِهَا الْيُسْرَى

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উপরোক্ত হাদীসটি অনেক দিক থেকে ব্যাপক একটি হাদীস। এ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কথাবার্তা বলা, বলার ভঙ্গি ও ধরন, বাক্যের মিষ্টতা ও আকর্ষণ, মন-মানসিকতার স্বরূপ এবং কথাবার্তা বলার নীতি সম্পর্কীয় যাবতীয় বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ পেশ করা হয়েছে। এ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কথাবার্তা বলার ধরন সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে আলোকপাত করা হয়েছে। তাঁর পবিত্র জীবনাদর্শের এ অংশটুকুর দ্বারা মানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম য় স্বভাব ও উন্নত নৈতিকতা- বোধের এমন একটি অধ্যায়ের সন্ধান মেলে যা সকল মুসলিমের জন্য জীবন পাথেয় হওয়ার যোগ্যতা রাখে। হাদীসটির মধ্যে এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ যে কথাগুলি পাওয়া যায়, যেগুলি থেকে উম্মতের শিক্ষা গ্রহণ বাঞ্ছনীয় সেগুলি হলো নিম্নরূপ : তিনি বিনা প্রয়োজনে কথাবার্তা বলতেন না। নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন চিন্তায় সারাক্ষণ আত্ম-নিমগ্ন থাকতেন। উম্মতের সফলতা ও কল্যাণ লাভের চিন্তা সর্বদা তাঁকে বিভোর করে রাখতো। এ সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজের চিন্তা-ভাবনার কারণে প্রয়োজনের মুহূর্তে যখন কথাবার্তা বলতেন তখন খুবই স্পষ্টভাষায় পরিষ্কারভাবে কথা বলতেন। কথার মধ্যে কোন মারপ্যাঁচ থাকতো না। কথাগুলি হতো সৌষ্ঠবতাপূর্ণ উপযুক্ত শব্দমালার দ্বারা সুগঠিত। বাক্যগুলি ছিলো যাচাইকৃত ও যথাযথ। তাতে অযথা শব্দ কিংবা দুর্বোধ্য শব্দের মিশ্রণ ছিলো না। শ্রোতাদের বুঝতে কষ্ট হয় এমন কোন সংযুক্ত বাক্য কিংবা অর্ধবাক্য তাঁর কথায় পাওয়া যেতো না। তাঁর কথাবার্তাগুলি হতো অতিশয় মিষ্ট, শ্রোতাদের মনে রাখার মতো এবং গাম্ভীর্যপূর্ণ। গরিমা অহংকারবোধ কিংবা বাজারি অভদ্রতার কোন লেশমাত্রও তাঁর কথায় ছিলো না। কথাবার্তা বলা প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই কয়েকটি বুনিয়াদী নীতিকে মানুষ যদি অনুসরণ করে তা হলে ইহকাল ও পরকালের সর্বত্র তাদের জন্য মান-সম্মান, প্রতিপত্তি ও বন্ধুত্ব এবং সার্বিক নিরাপত্তা অবধারিত।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান