আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ২০২
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর ক্রন্দন করা ও দুঃখিত হওয়ার বর্ণনা
২০২। হযরত খালিদ ইব্ন সালামা মাখযূমী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত যায়দ ইব্ন হারিসা (রাযিঃ) যখন (মাসতার যুদ্ধে) শাহাদত বরণ করেন তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর গৃহে যান। হযরত হারিসের কন্যা নবী (ﷺ)-কে দেখেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। নবী (ﷺ) নিজেও তাঁর সাথে কাঁদতে শুরু করেন। তখন জনৈক সাহাবী আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এ কি ব্যাপার! (আপনি নিজেও কাঁদছেন?) নবী (ﷺ) ইরশাদ করলেনঃ এটি হলো এক বন্ধুর প্রতি অপর বন্ধুর ভালবাসার আন্তরিক বহিঃপ্রকাশ।
أبواب الكتاب
صِفَةُ بُكَائِهِ وَحُزْنِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
202 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ الْعَبْدِيُّ، نَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ، نَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، نَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ سَلَمَةَ الْمَخْزُومِيِّ، قَالَ: لَمَّا أُصِيبَ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ انْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى مَنْزِلِهِ، فَلَمَّا رَأَتْهُ ابْنَتُهُ جَهَشَتْ فِي وَجْهِهِ، فَانْتَحَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ لَهُ بَعْضُ أَصْحَابِهِ: مَا هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: هَذَا شَوْقُ الْحَبِيبِ إِلَى حَبِيبِهِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত যায়দ ইব্ন হারিসা (রা) ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যতম প্রিয় সাহাবী। জাহেলী যুগে তিনি অপহৃত হন এবং গোলাম হিসাবে বিক্রি হয়ে যান। উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা (রা) তাঁকে খরিদ পূর্বক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাদিয়া হিসেবে দেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে আযাদ করে দেন এবং নিজের পোষ্যপুত্র রূপে বরণ করেন। তিনি যায়দকে অতিশয় ভালবাসতেন। এমন কি যখন হযরত যায়দের পিতামাতা নিজ পুত্রের সন্ধান পেয়ে তাঁকে ঘরে ফিরিয়ে নিতে চাইলেন তখন হযরত যায়দ (রা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ত্যাগ করে আপন পিতামাতার সঙ্গে যেতে অস্বীকার করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে থাকাকেই পছন্দ করেন। তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মূতার যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সেনাপতি নিযুক্ত করে সিরিয়া অভিযানে প্রেরণ করেছিলেন। এ যুদ্ধে (৮ম হিজরীতে) তিনি শাহাদত লাভ করেন। তাঁর মৃত্যুতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শোকে জর্জরিত হয়ে পড়েন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমবেদনা জ্ঞাপনের জন্য তাঁর কন্যার গৃহে গমন করলে ভালবাসা ও মানবিক কারণে তিনিও ক্রন্দন সংবরণ করতে পারেননি। তাঁর চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে শুরু করেছিলো। সাহাবীগণ তাঁর কাছে এ কান্নার কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন, এ কান্নাকাটি বস্তুত মানুষের সহজাত একটি বিষয়। পরস্পরের প্রতি আন্তরিক ভালবাসা ও সম্পর্কের কারণে এটি হয়ে থাকে। এ হাদীসের মধ্যেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে কান্নাকাটি করার উল্লেখ পাওয়া যায় সেটিও নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিলো। এতে চিৎকার দিয়ে কান্নাকাটি, অস্থিরতা ও বিলাপ করার নাম-গন্ধও নেই। তবে বিরহ যাতনা ও বিরহ বেদনার বহিঃপ্রকাশ ঘটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এতটুকু না হওয়া মানুষের কঠোর চিত্ততার পরিচায়ক। (অথচ কঠোর চিত্ততা, দয়া-মায়াহীনতা হলো মমত্ববোধের বিপরীত যা আল্লাহ্ কাছে পছন্দনীয় নয়।) তবে কান্নাকাটি করার মুহূর্তে সীমা অতিক্রম করা, চিৎকার কিংবা বিলাপ করা ইত্যাদি শরীয়ত বিরোধী ও নিষিদ্ধ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবন চরিতের প্রতিটি অধ্যায় উম্মতের জন্য শিক্ষণীয় ও অনুকরণীয়। তাঁর এই কর্মপদ্ধতি পরম যাতনা ক্লিষ্টতা ও ব্যথাতুর হওয়ার মুহূর্তে দুঃখ ও বেদনা প্রকাশের একটি সীমারেখা নির্ধারণ করে দিচ্ছে এবং ভারসাম্যপূর্ণ একটি পথের সন্ধান দিচ্ছে। এটিই ছিল সেই উন্নত ও মহান চরিত্র যার ঘোষণায় মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেনঃ انك لعلى خلق عظيم (হে রাসূল) নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত। (সূরা কালাম : ৪)