আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ২০১
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর ক্রন্দন করা ও দুঃখিত হওয়ার বর্ণনা
২০১। আনাস ইব্‌ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর পুত্র ইবরাহীম (রাযিঃ)-কে (তাঁর মৃত্যুর সময়ে) দেখতে গেলাম। (তখন দেখলাম নবী (ﷺ) তাঁকে এতই ভালবাসতেন যে, সে মুহূর্তে তিনি ছুটে আসেন এবং) তাঁকে একটি ডাক দিয়ে নিজের বুকের সঙ্গে জড়িয়ে নেন। হযরত আনাস (রাযিঃ) বলেন, তারপর আমি ইবরাহীমকে নবী (ﷺ) -এর কোলে এমতাবস্থায় দেখলাম যখন তিনি জীবনের অন্তিম মুহূর্তগুলি অতিক্রম করছিলেন। এ সময় প্রিয় নবী (ﷺ) -এর চক্ষুদ্বয় অশ্রুপাত করতে থাকে আর তিনি বলতে থাকেন, চক্ষু অশ্রুপাত করছে, হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে উঠছে। কিন্তু মুখ দ্বারা আমরা কেবল এতটুকু কথাই বলতে পারি যতটুকু পর্যন্ত আমাদের প্রতিপালক সন্তুষ্ট থাকেন। হে ইবরাহীম! আমরা তোমার বিদায়ে খুবই ভারাক্রান্ত ও ব্যথিত।
أبواب الكتاب
صِفَةُ بُكَائِهِ وَحُزْنِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
201 أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْمَرْوَزِيُّ، نَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، نَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: رَأَيْتُ إِبْرَاهِيمَ ابْنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَدَعَاهُ فَضَمَّهُ إِلَيْهِ، فرَأَيْتُهُ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَكِيدُ بِنَفْسِهِ، فَدَمَعَتْ عَيْنَاهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: تَدْمَعُ الْعَيْنُ وَيَحْزَنُ الْقَلْبُ، وَلَا نَقُولُ إِلَّا مَا يُرْضِي رَبَّنَا، وَإِنَّا بِكَ يَا إِبْرَاهِيمُ لَمَحْزُونُونَ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উল্লিখিত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ক্রন্দন করা ও ব্যথিত হওয়ার অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি হাসার মুহূর্তে যেভাবে ভারসাম্য নীতি পছন্দ করতেন তেমনি দুঃখ ও বেদনার মুহূর্তে ও ক্রন্দন করার ক্ষেত্রেও ভারসাম্য নীতি রক্ষা করতেন। এ কারণে যেমনি তিনি কখনো অট্টহাসি হাসতেন না, তেমনি জোর আওয়াজে কিংবা চিৎকার দিয়ে কখনো ক্রন্দন করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাঁর ক্রন্দনের সীমা কেবল এতটুকু পর্যন্ত পৌছত যে, নয়নযুগল অশ্রুতে ভরে যেত, হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে উঠত। কিন্তু মুখ থেকে কখনো আহ্! উহ্! ধরনের চিৎকার ধ্বনি বেরিয়ে আসতো না। তাঁর নয়নমণি প্রিয়পুত্র যে মুহূর্তে দুনিয়া থেকে শেষবারের মত বিদায় নিচ্ছিলেন তখন বেদনায় তাঁর হৃদয় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়, কিন্তু মুখে কান্না ধ্বনি চিৎকার ইত্যাদির বদলে চক্ষুদ্বয় থেকে কেবল অশ্রুপাত ঘটতে থাকে ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ নয়নমণি হযরত ইব্রাহীম (রা) উম্মুল মু’মিনীন মারিয়া কিবতিয়া (রা)-এর গর্ভে মদীনা মুনাওয়ারায় জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু দুগ্ধপানের সময়সীমা অতিক্রমের পূর্বেই তিনি ইন্তিকাল করেন। এ সময় তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ১৮ মাস।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বমোট তিনজন সাহেবজাদা ও চারজন সাহেবজাদী জন্মগ্রহণ করেন। পুত্রদের মধ্যে সর্বপ্রথম জন্মগ্রহণ করেন হযরত কাসিম (রা)। তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুব্‌রা (রা)-এর গর্ভে জন্ম নেন। তারপর তিনি যখন সবেমাত্র পা বাড়িয়ে হাঁটার বয়স পর্যন্ত পৌঁছেন তখন ইন্তিকাল করেন। দ্বিতীয় পুত্র হযরত আবদুল্লাহ্ (রা), তিনি মক্কা মুয়ায্‌যামায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই ইন্তিকাল করেন। আর তৃতীয় পুত্র ছিলেন এই হযরত ইব্রাহীম (রা)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চারজন সাহেবজাদী ছিলেন। হযরত যায়নাব, হযরত রুকাইয়্যা, হযরত উম্মে কুলসূম ও হযরত ফাতিমাতুয্ যাহরা (রা)। হযরত ফাতিমাতুয্ যাহরা (রা)-এর মাধ্যমেই দুনিয়ায় তাঁর বংশের বিস্তার লাভ ঘটে। বিস্তারিত বিবরণের জন্য ইতিহাসের গ্রন্থাবলি দ্রষ্টব্য ।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান