আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ১৪৪
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি বোঝা সম্পর্কিত হাদীসসমূহ
১৪৪। হযরত আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার কাছে আনন্দিত অবস্থায় আগমন করলেন। আনন্দের আতিশয্যের দরুন তাঁর চেহারার লাবণ্য চমকাচ্ছিল । তিনি আনন্দিত কণ্ঠে বললেন, তুমি কি যায়দ সম্পর্কে কিছু শোননি ?
গ্রন্থকার শায়খ আবু বাক্র (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসে উল্লিখিত أَسَارِيرَ وَجْهِهِ (চেহারার লাবণ্য) শব্দটি হাদীসের রাবী লায়স ব্যতীত অন্য কোনো রাবী বর্ণনা করেন নি।
গ্রন্থকার শায়খ আবু বাক্র (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসে উল্লিখিত أَسَارِيرَ وَجْهِهِ (চেহারার লাবণ্য) শব্দটি হাদীসের রাবী লায়স ব্যতীত অন্য কোনো রাবী বর্ণনা করেন নি।
أبواب الكتاب
مَا ذُكِرَ مِنْ عَلَامَةِ رِضَاهُ وَعَلَامَةِ سَخَطِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
144 - أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ، نَا كَامِلُ بْنُ طَلْحَةَ، نَا اللَّيْثُ، عَنِ الزُهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَسْرُورًا تَبْرُقُ أَسَارِيرُ وَجْهِهِ، فَقَالَ: أَلَمْ تَرَيْ إِلَى زَيْدٍ؟ . قَالَ أَبُو بَكْرٍ: لَا يَقُولُ أَسَارِيرَ وَجْهِهِ إِلَّا اللَّيْثُ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
গ্রন্থকার (র) যেহেতু কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আনন্দ চিহ্ন ও সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টির লক্ষণসমূহ বর্ণনা করতে চেয়েছেন, তাই পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেন নি। শুধু সেই অংশটুকুই উল্লেখ করেছেন, যা উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার জন্য যথেষ্ট ছিল। পুরো হাদীসটি বুখারী শরীফে এই ভাষায় উল্লিখিত হয়েছেঃ
হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট আগমন করলেন। তখন আনন্দে তাঁর মুখমণ্ডলের (অপরূপ) লাবণ্য চমকাচ্ছিল। অতঃপর তিনি (আনন্দিত কণ্ঠে) বললেন, আয়েশা! তুমি কি জানো না যে, খ্যাতনামা কাইয়্যাফ (Physiognomist) মুজযায মুদলাজী যায়দ ও উসামা সম্পর্কে কি বলেছে ? ঐ কাইয়্যাফ এ দু’জনের পা দেখে বলেছে যে, তাদের পায়ের মধ্যে মিল ও সামঞ্জস্য রয়েছে। অর্থাৎ উভয়ের মধ্যে একজন পিতা ও একজন পুত্র। (বুখারী শরীফ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫০২)
ঘটনা এই ছিল যে, হযরত উসামা (রা) হযরত যায়দ ইব্ন হারিসা (রা)-এর পুত্র ছিলেন। ঘটনাক্রমে তাঁর গায়ের রং ছিল অত্যন্ত কালো এবং তাঁর পিতা হযরত যায়দ ইব্ন হারিসা (রা)-এর গায়ের রং ছিল অত্যন্ত ফর্সা। এজন্য মক্কার মূর্খ লোকেরা তাঁর বংশ সম্পর্কে খোঁটা দিতো । তারা বলতো যে, উসামা যায়দের পুত্র নয়। (নাউযুবিল্লাহ্)
হযরত যায়দ ইব্ন হারিসা (রা) বনূ কিলাব গোত্রের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তাঁর মাতা একবার তাঁকে সাথে নিয়ে তাঁর গোত্রে গিয়েছিলেন। সেখানে লুটতরাজ সংঘটিত হলো, লুটেরারা হযরত যায়দকে ধরে নিয়ে উকায বাজারে বিক্রি করলো। হযরত হাকীম ইব্ন হিযাম (রা) তাকে তাঁর ফুফু খাদীজা (রা)-এর জন্য চারশ’ দিরহামে খরিদ করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হযরত খাদীজা (রা)-কে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করলেন, তখন তিনি তাঁর গোলাম হযরত যায়দ ইব্ন হারিসাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেবাযত্নের জন্য তাঁকে দান করলেন। যায়দের পিতা হারিসা (রা) যখন তাঁর পুত্রের খবর জানতে পারলেন, তখন তিনি তাকে নেয়ার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দরবারে উপস্থিত হলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দকে ইখতিয়ার দিলেন । তিনি ইচ্ছা করলে তাঁর পিতার সাথে আপন গৃহ ও গোত্রে ফিরে যেতে পারেন এবং ইচ্ছা করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে থেকেও যেতে পারেন। হযরত যায়দ (রা) তাঁর পিতার সাথে যেতে অস্বীকার করলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সান্নিধ্যে থাকাকে স্বীয় গোত্র ও মাতা-পিতার উপর প্রাধান্য দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে পোষ্যপুত্র বানিয়ে নিলেন এবং হযরত উম্মু আয়মান (রা)-এর সাথে তাঁকে বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ করলেন। এর গর্ভেই তাঁর পুত্র হযরত উসামা (রা) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর পিতার রং-এর স্থলে মাতার রং অর্থাৎ কালো রং-এর হয়েছিলেন। তাই আরবের মূর্খ লোকেরা তাঁর বংশ সম্পর্কে সন্দেহ করতো এবং ভর্ৎসনা করতো। কিন্তু জনৈক কাইয়্যাফ যখন তাদের দু’জনের পা দেখে সত্য কথা ব্যক্ত করলো যে, উসামা ও যায়দ পিতা-পুত্র, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব খুশি হলেন এবং হযরত আয়েশা (রা)-এর কাছেও তিনি তাঁর খুশির কথা ব্যক্ত করলেন। এমন কি সে খুশির নিদর্শন তাঁর মুখমণ্ডলেও পরিদৃষ্ট হচ্ছিল। তাঁর চেহারা মুবারক আনন্দের আতিশয্যে চমকাচ্ছিল। হযরত যায়দ ও উসামা (রা) দু’জনই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খুব প্রিয় ছিলেন।
এই হাদীসটিই বুখারী শরীফের অন্য একস্থানে এই ভাষায় বর্ণিত হয়েছেঃ হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) বলেন, একবার এক কাইয়্যাফ আমাদের নিকট এলো তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ছিলেন এবং উসামা ইব্ন যায়দ ও যায়দ ইব্ন হারিসা (রা) উভয়ে (পিতা-পুত্র) একই চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়েছিলেন। তাদের শুধু পা চাদরের বাইরে ছিল। তখন ঐ কাইয়্যাফ তাঁদের পা দেখে বললো, এই পাগুলো পরস্পর মিলে যাচ্ছে। হযরত আয়েশা (রা) বলেন, কাইয়্যাফের এই উক্তির ফলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত খুশি হলেন। কেননা আরবের লোকেরা কাইয়্যাফের কথা বিশেষত বংশের ক্ষেত্রে দলীল রূপে গণ্য করতো। সুতরাং কাইয়্যাফের এই সাক্ষ্য কুরায়শদের জন্য দাঁতভাঙ্গা জবাব ছিল। একারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কথা পছন্দ করলেন এবং তিনি হযরত আয়েশার সাথেও এ বিষয়টি আলোচনা করলেন। (বুখারী শরীফ, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫২০)
হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট আগমন করলেন। তখন আনন্দে তাঁর মুখমণ্ডলের (অপরূপ) লাবণ্য চমকাচ্ছিল। অতঃপর তিনি (আনন্দিত কণ্ঠে) বললেন, আয়েশা! তুমি কি জানো না যে, খ্যাতনামা কাইয়্যাফ (Physiognomist) মুজযায মুদলাজী যায়দ ও উসামা সম্পর্কে কি বলেছে ? ঐ কাইয়্যাফ এ দু’জনের পা দেখে বলেছে যে, তাদের পায়ের মধ্যে মিল ও সামঞ্জস্য রয়েছে। অর্থাৎ উভয়ের মধ্যে একজন পিতা ও একজন পুত্র। (বুখারী শরীফ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫০২)
ঘটনা এই ছিল যে, হযরত উসামা (রা) হযরত যায়দ ইব্ন হারিসা (রা)-এর পুত্র ছিলেন। ঘটনাক্রমে তাঁর গায়ের রং ছিল অত্যন্ত কালো এবং তাঁর পিতা হযরত যায়দ ইব্ন হারিসা (রা)-এর গায়ের রং ছিল অত্যন্ত ফর্সা। এজন্য মক্কার মূর্খ লোকেরা তাঁর বংশ সম্পর্কে খোঁটা দিতো । তারা বলতো যে, উসামা যায়দের পুত্র নয়। (নাউযুবিল্লাহ্)
হযরত যায়দ ইব্ন হারিসা (রা) বনূ কিলাব গোত্রের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তাঁর মাতা একবার তাঁকে সাথে নিয়ে তাঁর গোত্রে গিয়েছিলেন। সেখানে লুটতরাজ সংঘটিত হলো, লুটেরারা হযরত যায়দকে ধরে নিয়ে উকায বাজারে বিক্রি করলো। হযরত হাকীম ইব্ন হিযাম (রা) তাকে তাঁর ফুফু খাদীজা (রা)-এর জন্য চারশ’ দিরহামে খরিদ করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হযরত খাদীজা (রা)-কে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করলেন, তখন তিনি তাঁর গোলাম হযরত যায়দ ইব্ন হারিসাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেবাযত্নের জন্য তাঁকে দান করলেন। যায়দের পিতা হারিসা (রা) যখন তাঁর পুত্রের খবর জানতে পারলেন, তখন তিনি তাকে নেয়ার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দরবারে উপস্থিত হলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দকে ইখতিয়ার দিলেন । তিনি ইচ্ছা করলে তাঁর পিতার সাথে আপন গৃহ ও গোত্রে ফিরে যেতে পারেন এবং ইচ্ছা করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে থেকেও যেতে পারেন। হযরত যায়দ (রা) তাঁর পিতার সাথে যেতে অস্বীকার করলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সান্নিধ্যে থাকাকে স্বীয় গোত্র ও মাতা-পিতার উপর প্রাধান্য দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে পোষ্যপুত্র বানিয়ে নিলেন এবং হযরত উম্মু আয়মান (রা)-এর সাথে তাঁকে বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ করলেন। এর গর্ভেই তাঁর পুত্র হযরত উসামা (রা) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর পিতার রং-এর স্থলে মাতার রং অর্থাৎ কালো রং-এর হয়েছিলেন। তাই আরবের মূর্খ লোকেরা তাঁর বংশ সম্পর্কে সন্দেহ করতো এবং ভর্ৎসনা করতো। কিন্তু জনৈক কাইয়্যাফ যখন তাদের দু’জনের পা দেখে সত্য কথা ব্যক্ত করলো যে, উসামা ও যায়দ পিতা-পুত্র, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব খুশি হলেন এবং হযরত আয়েশা (রা)-এর কাছেও তিনি তাঁর খুশির কথা ব্যক্ত করলেন। এমন কি সে খুশির নিদর্শন তাঁর মুখমণ্ডলেও পরিদৃষ্ট হচ্ছিল। তাঁর চেহারা মুবারক আনন্দের আতিশয্যে চমকাচ্ছিল। হযরত যায়দ ও উসামা (রা) দু’জনই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খুব প্রিয় ছিলেন।
এই হাদীসটিই বুখারী শরীফের অন্য একস্থানে এই ভাষায় বর্ণিত হয়েছেঃ হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) বলেন, একবার এক কাইয়্যাফ আমাদের নিকট এলো তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ছিলেন এবং উসামা ইব্ন যায়দ ও যায়দ ইব্ন হারিসা (রা) উভয়ে (পিতা-পুত্র) একই চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়েছিলেন। তাদের শুধু পা চাদরের বাইরে ছিল। তখন ঐ কাইয়্যাফ তাঁদের পা দেখে বললো, এই পাগুলো পরস্পর মিলে যাচ্ছে। হযরত আয়েশা (রা) বলেন, কাইয়্যাফের এই উক্তির ফলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত খুশি হলেন। কেননা আরবের লোকেরা কাইয়্যাফের কথা বিশেষত বংশের ক্ষেত্রে দলীল রূপে গণ্য করতো। সুতরাং কাইয়্যাফের এই সাক্ষ্য কুরায়শদের জন্য দাঁতভাঙ্গা জবাব ছিল। একারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কথা পছন্দ করলেন এবং তিনি হযরত আয়েশার সাথেও এ বিষয়টি আলোচনা করলেন। (বুখারী শরীফ, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫২০)