আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ১৪৩
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি বোঝা সম্পর্কিত হাদীসসমূহ
১৪৩। হযরত কা’ব ইব্ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন কোনো বিষয়ে খুশি হতেন, তখন তাঁর চেহারা মুবারক দীপ্ত চাঁদের বৃত্তের মতো মনে হতো।
أبواب الكتاب
مَا ذُكِرَ مِنْ عَلَامَةِ رِضَاهُ وَعَلَامَةِ سَخَطِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
143 - أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ، نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَبِيبٍ، نَا يَعْقُوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ، نَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَرَّهُ الْأَمْرُ اسْتَنَارَ وَجْهُهُ كَأَنَّهُ دَارَةُ الْقَمَرِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ অনুচ্ছেদে গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য শুধু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির লক্ষণ ও তা বোঝা সম্পর্কিত হাদীসসমূহ বর্ণনা করা। সুতরাং যে হাদীসেই এই অবস্থা সংক্রান্ত কথা বিদ্যমান ছিল তিনি তা সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন নি।
কোনো বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খুশি ও সন্তুষ্ট হওয়ার লক্ষণ তাঁর পবিত্র মুখমণ্ডলে তা স্পষ্ট ফুটে উঠতো। অনুরূপভাবে অপছন্দনীয় ও অনভিপ্রেত বিষয় তাঁর মনে সহসা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতো, ফলে তাঁর পবিত্র মুখমণ্ডলের দিকে তাকালেই বোঝা যেতো যে, এ বিষয়টি তাঁর পছন্দনীয় নয়। প্রত্যেক ব্যক্তিই তাঁর সন্তুষ্টি অসন্তুষ্টি তাঁর চেহারা মুবারক দেখে অনুমান করতে পারতো। এর দ্বারা এও সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচেয়ে অনুভূতিশীল ও কোমল-হৃদয় ছিলেন। তাঁর সুস্থ মনে প্রতিটি ভাল-মন্দ বিষয় সহসা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতো। এক হাদীসে হযরত আবূ সাঈদ খুদ্রী (রা) থেকে পরিষ্কার বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লজ্জা-শরমের ক্ষেত্রে একজন পর্দানশীল কুমারীর চাইতেও অধিক লজ্জাশীল ছিলেন। তিনি যখন কোনো জিনিস অপছন্দ করতেন আমরা তা তাঁর চেহারা দেখেই বুঝে ফেলতাম। (মিশকাত, পৃষ্ঠা ৬১৯)
দ্বিতীয় যে বিষয়টি এই হাদীসসমূহ থেকে সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে তা হলো, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ও সুদর্শন ছিলেন। কোনো ব্যক্তি যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সৌন্দর্য বর্ণনা করতেন তখন তাঁর মুখমণ্ডলকে পূর্ণিমার চাঁদের সাথে তুলনা করতেন। এক হাদীসে হযরত আয়েশা (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেহারা ছিল সবচেয়ে সুন্দর এবং তাঁর দেহের রং ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল। যেকোন ব্যক্তি তাঁর সৌন্দর্য বর্ণনা করতো, সে তাঁর চেহারাকে পূর্ণিমার চাঁদের সাথে তুলনা করতো। (আল ফাযায়িলুল মুহাম্মাদিয়া, লিনুহাস, পৃষ্ঠা ১৮২)
এক হাদীসে আবূ ইসহাক সুৰাঈ থেকে বর্ণিত আছে যে, হযরত বারা’আ ইব্ন আযিব (রা)-কে একবার জিজ্ঞেস করা হলো যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুখমণ্ডল কি তলোয়ারের মতো চমকদার ছিল ? তিনি বললেন, না। বরং পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল ও দেদীপ্যমান ছিল। (বুখারী শরীফ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫০২)
অন্য এক হাদীসে হযরত আবূ বক্র সিদ্দীক (রা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুখমণ্ডল চন্দ্রের বৃত্ত সমতুল্য চমকদার ও গোল ছিল (আল ফাযায়িলুল মুহাম্মাদিয়া, পৃষ্ঠা ১৬৬, সূত্র আবূ নুআয়মের দালায়েল গ্রন্থ)।
এক হাদীসে হযরত জাবির ইব্ন সামুরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুখমণ্ডল চন্দ্র ও সূর্যের মতো উজ্জ্বল, দীপ্ত ও গোলাকার ছিল। (মুসলিম) উপরোক্ত দু’টি হাদীসের প্রথমটিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র মুখমণ্ডলকে উজ্জ্বল আয়নার সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় হাদীসে চন্দ্রের বৃত্তের সাথে যা চমকদারও হয় এবং গোলাকারও। এই দু’টি বস্তু অর্থাৎ চন্দ্র ও সূর্য সর্বাপেক্ষা অধিক উজ্জ্বল বস্তু হলেও প্রকৃত অর্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুখমণ্ডলের সাথে তুলনা করা যোগ্য নয়। কোথায় চন্দ্র-সূর্য ও কোথায় তাঁর চমদার চেহারা মুবারক। যা মহান আল্লাহ্র মা’রিফফাতের নূর ও ওহীর নূর দ্বারা এরূপ উজ্জ্বল ও প্রদীপ্ত ছিল এই অনুভব জগতের কোনো বস্তুই তাঁর সমকক্ষ হতে পারে না।
কোনো বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খুশি ও সন্তুষ্ট হওয়ার লক্ষণ তাঁর পবিত্র মুখমণ্ডলে তা স্পষ্ট ফুটে উঠতো। অনুরূপভাবে অপছন্দনীয় ও অনভিপ্রেত বিষয় তাঁর মনে সহসা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতো, ফলে তাঁর পবিত্র মুখমণ্ডলের দিকে তাকালেই বোঝা যেতো যে, এ বিষয়টি তাঁর পছন্দনীয় নয়। প্রত্যেক ব্যক্তিই তাঁর সন্তুষ্টি অসন্তুষ্টি তাঁর চেহারা মুবারক দেখে অনুমান করতে পারতো। এর দ্বারা এও সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচেয়ে অনুভূতিশীল ও কোমল-হৃদয় ছিলেন। তাঁর সুস্থ মনে প্রতিটি ভাল-মন্দ বিষয় সহসা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতো। এক হাদীসে হযরত আবূ সাঈদ খুদ্রী (রা) থেকে পরিষ্কার বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লজ্জা-শরমের ক্ষেত্রে একজন পর্দানশীল কুমারীর চাইতেও অধিক লজ্জাশীল ছিলেন। তিনি যখন কোনো জিনিস অপছন্দ করতেন আমরা তা তাঁর চেহারা দেখেই বুঝে ফেলতাম। (মিশকাত, পৃষ্ঠা ৬১৯)
দ্বিতীয় যে বিষয়টি এই হাদীসসমূহ থেকে সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে তা হলো, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ও সুদর্শন ছিলেন। কোনো ব্যক্তি যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সৌন্দর্য বর্ণনা করতেন তখন তাঁর মুখমণ্ডলকে পূর্ণিমার চাঁদের সাথে তুলনা করতেন। এক হাদীসে হযরত আয়েশা (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেহারা ছিল সবচেয়ে সুন্দর এবং তাঁর দেহের রং ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল। যেকোন ব্যক্তি তাঁর সৌন্দর্য বর্ণনা করতো, সে তাঁর চেহারাকে পূর্ণিমার চাঁদের সাথে তুলনা করতো। (আল ফাযায়িলুল মুহাম্মাদিয়া, লিনুহাস, পৃষ্ঠা ১৮২)
এক হাদীসে আবূ ইসহাক সুৰাঈ থেকে বর্ণিত আছে যে, হযরত বারা’আ ইব্ন আযিব (রা)-কে একবার জিজ্ঞেস করা হলো যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুখমণ্ডল কি তলোয়ারের মতো চমকদার ছিল ? তিনি বললেন, না। বরং পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল ও দেদীপ্যমান ছিল। (বুখারী শরীফ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫০২)
অন্য এক হাদীসে হযরত আবূ বক্র সিদ্দীক (রা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুখমণ্ডল চন্দ্রের বৃত্ত সমতুল্য চমকদার ও গোল ছিল (আল ফাযায়িলুল মুহাম্মাদিয়া, পৃষ্ঠা ১৬৬, সূত্র আবূ নুআয়মের দালায়েল গ্রন্থ)।
এক হাদীসে হযরত জাবির ইব্ন সামুরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুখমণ্ডল চন্দ্র ও সূর্যের মতো উজ্জ্বল, দীপ্ত ও গোলাকার ছিল। (মুসলিম) উপরোক্ত দু’টি হাদীসের প্রথমটিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র মুখমণ্ডলকে উজ্জ্বল আয়নার সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় হাদীসে চন্দ্রের বৃত্তের সাথে যা চমকদারও হয় এবং গোলাকারও। এই দু’টি বস্তু অর্থাৎ চন্দ্র ও সূর্য সর্বাপেক্ষা অধিক উজ্জ্বল বস্তু হলেও প্রকৃত অর্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুখমণ্ডলের সাথে তুলনা করা যোগ্য নয়। কোথায় চন্দ্র-সূর্য ও কোথায় তাঁর চমদার চেহারা মুবারক। যা মহান আল্লাহ্র মা’রিফফাতের নূর ও ওহীর নূর দ্বারা এরূপ উজ্জ্বল ও প্রদীপ্ত ছিল এই অনুভব জগতের কোনো বস্তুই তাঁর সমকক্ষ হতে পারে না।