আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ১৩৬
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর নম্রতা ও বিনয়
১৩৬। হযরত আনাস ইব্‌ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) শিশুদের প্রতি সর্বাধিক স্নেহপ্রবণ ছিলেন। তাঁর এক দুগ্ধপোষ্য শিশুর জন্য তিনি মদীনার উপকণ্ঠের জনৈকা ধাত্রী ঠিক করেছিলেন। ধাত্রীর স্বামী ছিলেন একজন কর্মকার । প্রিয় নবী (ﷺ) নিজ পুত্রকে দেখার জন্য সেখানে যেতেন। তাঁর সঙ্গে আমরাও থাকতাম। ধাত্রীর ঘর ইখির ঘাস জ্বালানো ধোঁয়ায় ভরে থাকত। এ সত্ত্বেও তিনি নিজ সন্তানকে কোলে তুলে নিতেন। তাঁকে নাকের কাছে তুলে সোহাগ করতেন এবং চুম্বন করতেন।
أبواب الكتاب
مَا ذُكِرَ مِنْ تَوَاضُعِهِ
136 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، نَا الْعَبَّاسُ النَّرْسِيُّ، نَا وُهَيْبٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْحَمَ النَّاسِ بِالصِّبْيَانِ، وَكَانَ لَهُ ابْنٌ مُسْتَرْضَعٌ فِي نَاحِيَةِ الْمَدِينَةِ، وَكَانَ ظِئْرُهُ قَيْنًا، وَكَانَ يَأْتِيهِ وَنَحْنُ مَعَهُ، وَقَدْ دَخَنَ الْبَيْتَ بِالْإِذْخِرِ، فَيَشُمُّهُ وَيُقَبِّلُهُ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উপরোক্ত হাদীস দুটির বক্তব্য অভিন্ন। গ্রন্থকার আলোচ্য হাদীসদ্বয়কে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বিনয় ও নম্রতা অনুচ্ছেদে পেশ করার কারণ হলো, এ দু’টি হাদীসে তাঁর পবিত্র জীবন যাত্রার সরলতা ও অকৃত্রিমতা সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। পাশাপাশি এ কথাও প্রমাণিত হচ্ছে যে, তিনি পরিবারের লোকজন ও সন্তান-সন্ততি বিশেষত শিশুদেরকে গভীরভাবে স্নেহ করতেন। তাঁর পরম নিরহংকারের প্রমাণ এই যে, তিনি নিজের দুগ্ধপোষ্য শিশুকে দুধ পান করানোর জন্য একজন কর্মকারের মত সাধারণ ব্যক্তির ঘরে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেন নি। তাছাড়া সেই কর্মকারের গৃহে বারবার যাতায়াত করা এবং পথিমধ্যে ধুলার কারণে আপাদমস্তক ভরে যাওয়াকে নিজের আত্মমর্যাদা হানিকর বলে মনে করেননি। কর্মকারদের গৃহে স্বাভাবিকভাবেই ধোঁয়া থাকে। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সত্ত্বেও নিঃসংকোচে তাদের গৃহে প্রবেশ করতেন। তারপর একজন সাধারণ পিতাও যখন ধুলামাখা দেহে সন্তানকে কোলে নিতে দেরি করে সেখানে তিনি এ সব উপেক্ষা করে নিজ সন্তানকে কোলে নিয়ে স্নেহ প্রবণতার পরম উদাহরণ পেশ করলেন। অথচ অহংকারী ও আত্মপূজারী লোকেরা শিশুদের সাথে এভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়া এবং তাদেরকে স্নেহ ও মমতায় জড়িয়ে নেয়াকে নিজেদের মানমর্যাদা হানিকর বলে বোধ করে থাকে ।
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে যেভাবে শিশুদেরকে আদর-সোহাগ করতেন সেভাবে অন্যদেরকেও তাদের আদর-সোহাগের জন্য উপদেশ দিতেন। হাদীস গ্রন্থগুলোতে এ ধরনের বহু বর্ণনা পাওয়া যায়, যেখানে শিশুদের প্রতি তাঁর সীমাহীন স্নেহ ও মমতার পরিচয় ফুটে উঠেছে। একখানা হাদীসে বলা হয়েছে যে, একদা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দৌহিত্র হযরত হাসান (রা)-কে গভীরভাবে স্নেহ করছিলেন। এটি দেখে হযরত আক্‌রা ইব্‌ন হাবিস (রা) নামক এক সাহাবী বলে উঠলেন, আমার তো দশটি সন্তান আছে। অথচ আমি তো কাউকে আদর-সোহাগ করি না। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ যারা মানুষের প্রতি সোহাগ ও মায়া-মমতা করে না তাদের প্রতি আল্লাহ্ পাকও সোহাগ ও মায়া-মমতা করবেন না। (হায়াতুস্ সাহাবা, ২ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৬৯)
হযরত আনাস ইব্‌ন মালিক (রা) থেকে অপর একটি সূত্রে বর্ণিত আছে যে, একবার হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা)-এর কাছে এক মহিলা আসল। মহিলার সঙ্গে দু’টি শিশু ছিল। হযরত আয়েশা (রা) ঐ মহিলাকে তিনটি খেজুর খেতে দিলেন। মহিলাটি তার দু’টি বাচ্চাকে দু’টি খেজুর দিয়ে একটি নিজে খেতে চাইল। এ সময় শিশুরা পুনরায় তার দিকে চোখ তুলে তাকাল । মহিলা খেজুরটিকে দু’টুক্‌রা করে অর্ধেক করে উভয় বাচ্চাকে দিয়ে দিল। তারপর সে চলে গেল। অতঃপর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহে ফিরে আসলে হযরত আয়েশা (রা) এ ঘটনা তাঁকে শোনালেন। তখন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ মহিলাটি (তার সোহাগ ও মমত্ববোধের কারণে) বেহেশ্‌তে প্রবেশ করবে। অর্থাৎ বেহেশ্‌তের উপযুক্ত বিবেচিত হবে। (হায়াতুস্, সাহাবা, ২ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৭০)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান