আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ১১৫
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর সাহসিকতা ও বীরত্ব
১১৫। হযরত জাবির ইব্‌ন আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (খন্দকের যুদ্ধ চলাকালে) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ তিন দিন পর্যন্ত অনাহারক্লিষ্ট অবস্থায় পরিখা খননের কাজে নিয়োজিত থাকলেন। (তখন অতিশয় শক্ত ও বিশাল আয়তনের একটি পাথর খোদাই কাজের মুখে বেরিয়ে আসে) সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এটি পর্বতের একটি মস্তবড় পাথর। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা পাথরটির উপর পানি ছিটিয়ে দাও। সেমতে তাঁরা পানি ছিটিয়ে দিলেন। তারপর প্রিয় নবী (ﷺ) তাশরীফ আনেন। তিনি কোদাল বা হাতুড়ি হাতে নিয়ে ‘বিসমিল্লাহ্’ পাঠ করেন এবং পাথরের উপর তিনবার আঘাত হানেন। ফলে অতিশয় শক্ত পাথরটি এত নরম হয়ে গিয়েছিল যে, আঘাতের দরুন ফেটে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে বালির ন্যায় ঝরে পড়ে গেল। হযরত জাবির (রাযিঃ) বলেন, এ সময় হঠাৎ আমার দৃষ্টি নবী (ﷺ)-এর পেট মুবারকের উপর গিয়ে পড়ল। আমি দেখলাম যে, তিনি (ক্ষুধার আতিশয্যে) পেটের উপর পাথর বেঁধে রেখেছেন।
أبواب الكتاب
فَأَمَّا [ص:313] مَا ذُكِرَ مِنْ شَجَاعَتِهِ
115 - حَدَّثَنَا جُبَيْرٌ، نَا الطَّنَافِسِيُّ، نَا وَكِيعٌ، نَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَيْمَنَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: " مَكَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ يَحْفِرُونَ الْخَنْدَقَ ثَلَاثًا مَا ذَاقُوا طَعَامًا، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ هَذِهِ كُدْيَةً مِنَ الْجَبَلِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: رُشُّوهَا بِالْمَاءِ، فَرَشُّوهَا، ثُمَّ جَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَخَذَ الْمِعْوَلَ أَوِ الْمِسْحَاةَ، ثُمَّ قَالَ: بِسْمِ اللَّهِ، ثُمَّ ضَرَبَ ثَلَاثًا، فَصَارَ كَثِيبًا يُهَالُ، قَالَ جَابِرٌ: فَحَانَتْ مِنِي الْتِفَاتَةٌ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ شَدَّ بَطْنَهُ بِحَجَرٍ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আলোচ্য ঘটনাটিও খন্দকের যুদ্ধ প্রস্তুতিকালে ঘটেছিল। ইতিহাসে এ যুদ্ধকে আহ্‌যাবের যুদ্ধ নামেও অভিহিত করা হয়েছে। হিজরী ৫ বর্ষের যিল্‌কাদ মাসে এ যুদ্ধ শুরু হয়। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মদীনা শরীফেই অবস্থানরত ছিলেন। আরবের সকল গোত্রের মুশরিক ও ইয়াহুদীরা সকলে সম্মিলিতভাবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। এবং পবিত্র মদীনা নগরী অবরোধ করে নেয়। শত্রু বাহিনীর সংখ্যা ছিল ছয় সহস্রাধিক । প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবরোধের সংবাদ পেয়ে সাহাবীদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। সাহাবী হযরত সালমান ফারসী (রা) ছিলেন পারস্যের অধিবাসী। তিনি নগর রক্ষার স্বার্থে তখন পরিখা খননের পরামর্শ দিয়ে বলেন, এমনি জটিল মুহূর্তে ইরানী যোদ্ধারা সাধারণত পরিখা খননের ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। সে মতে মদীনা নগরীর অদূরে মুসলিম সৈন্যগণ এক জায়গায় জমায়েত হন। তাঁরা পরামর্শ মোতাবেক পরিখা খননের কাজ শুরু করেন। মুসলমানদের মধ্যে সে মুহূর্তে খুব অভাব-অনটন বিরাজিত ছিল। দুর্ভিক্ষের কারণে মুসলমানগণ তিনদিন পর্যন্ত সম্পূর্ণ অনাহারে কাটান, মুখে দেয়ার মত সামান্য রসদও তাদের হাতে ছিল না। কারণ শত্রু সৈন্যরা ইতিপূর্বেই মদীনা শরীফ অভিমুখে রসদ পৌঁছার সকল পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। এদিকে পরিস্থিতি নাজুক বিধায় দ্রুত পরিখা খননের কাজ সমাপ্ত করা আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়। এভাবে অবরোধ ও খণ্ডযুদ্ধ প্রায় এক মাস যাবত অব্যাহত থাকে। পরিশেষে মহান আল্লাহ্ অদৃশ্য পথে মুসলমানদের সাহায্য করেন। হঠাৎ খুব শক্তিশালী একটি বায়ুর ঝড় নেমে আসে এবং অবরোধকারী আগ্রাসী বাহিনীর সমুদয় সাজ-সরঞ্জাম উড়িয়ে নিয়ে যায়। ফলত শত্রুপক্ষের মনোবল ভেঙে যায় এবং তারা পলায়নের পথ অবলম্বন করে। আর মু’মিনগণ তাদের আক্রমণ থেকে রেহাই পেয়ে যান। গ্রন্থকার আলোচ্য অংশে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শক্তিমত্তা ও দৈহিক ক্ষমতা এবং সাহসিকতা ও বীরত্বের আলোচনা করছেন এবং এতদুদ্দেশ্যেই উপরোক্ত হাদীসখানা অনুচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত করেন। কেননা হাদীসটির মধ্যে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, মস্তবড় যেই পাথরটি খোদাই পথে পড়েছিল, সেটিকে অন্যরা কোনক্রমেই ভাঙতে সক্ষম হয়নি। সেটি তিনি শক্তিবলে ভেঙে ফেলেন। তিনি কোদাল হাতে নিয়ে মাত্র তিনবার সজোরে আঘাত করেছিলেন। আর পাথরটি বালির ন্যায় গুঁড়িয়ে গিয়েছিল। এ ঘটনা থেকে তাঁর দৈহিক শক্তিমত্তা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। একটি বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উমর (রা) বলেন, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং ইরশাদ করেছেন যে, আমাকে চল্লিশ জন বেহেশ্‌তী মানুষের সম-পরিমাণ শক্তি প্রদান করা হয়েছে। (তাবারানী, সূত্র-ইত্তেহাফুস সাদাহ্, খ. ৭, পৃষ্ঠা ১৪১)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান