আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ১১৬
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর সাহসিকতা ও বীরত্ব
১১৬। হযরত আনাস ইব্‌ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সুপুরুষ, সর্বাধিক সাহসী ও সর্বোচ্চ দয়া-দাক্ষিণ্যের অধিকারী। (একবার একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ার দরুন) মদীনা শরীফের লোকজন আতংকিত হয়ে উঠেছিল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তৎক্ষণাৎ হযরত আবু তালহা (রাযিঃ)-এর ঘোড়ায় গদি ব্যতিরেকেই সওয়ার হন এবং দ্রুতগতিতে সম্মুখে অগ্রসর হন। অবস্থা দৃষ্টে লোকজনও রাস্তায় বেরিয়ে আসে । তখন তারা দেখলো রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের পূর্বেই গুজবটি যে দিক থেকে আসছিল সে দিক থেকে পর্যবেক্ষণ শেষ করে ফিরে আসছেন। প্রিয় নবী (ﷺ) লোকজনকে বললেনঃ তোমরা ভয় পেয়ো না। তিনি আরো বললেনঃ আমি ঘোড়াটিকে সমুদ্রের ন্যায় দ্রুতগামী পেলাম অথবা তিনি বলেছেনঃ এটি সমুদ্রের মত (বেগবান)।
أبواب الكتاب
فَأَمَّا [ص:313] مَا ذُكِرَ مِنْ شَجَاعَتِهِ
116 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، نَا أَبُو الرَّبِيعِ، نَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، نَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْسَنَ النَّاسِ، وَأَشْجَعَ النَّاسِ، وَأَجْوَدَ النَّاسِ، وَلَقَدْ فَزِعَ أَهْلُ الْمَدِينَةِ، وَرَكِبَ فَرَسًا لِأَبِي طَلْحَةَ عُرْيًا، فَخَرَجَ النَّاسُ فَإِذَا هُمْ برَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ سَبَقَهُمْ إِلَى الصَّوتِ قَدْ اسْتَبْرَأَ الْخَبَرَ وَهُوَ يَقُولُ: لَنْ تُرَاعُوا، وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَلَقَدْ وَجَدْنَاهُ بَحْرًا، أَوْ إِنَّهُ لَبَحْرٌ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

১. হুসনুল খুলুক ওয়াস সাখা অধ্যায়, খ. ২, পৃষ্ঠা ৮৯১, আশ্ সাজায়াতু ফীল হারব ওয়াল জুবন অধ্যায়, খ. ১, পৃষ্ঠা ৩৯৫, ইযা ফাযিউ বিল লাইল অধ্যায়, খ. ১, পৃষ্ঠা ৪১৭।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

সহীহ্ বুখারীতে একাধিক স্থানে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তবে হাদীসের শব্দমালায় কিছু ভিন্নতা বিদ্যমান।১
আলোচ্য হাদীসের আলোকেও প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অসীম সাহসিকতা, বীরত্ব ও নির্ভীকতার প্রমাণ পাওয়া যায়। চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়া আতংকের এ মুহূর্তে যখন যে কোন সময়ে মদীনার উপর শত্রুদের আক্রমণ চালানোর আশংকা বিদ্যমান, তাছাড়া শত্রুপক্ষ কোন দিক থেকে কতটুকু প্রস্তুতি নিয়ে আক্রমণ শুরু করছে তাও অজানা এমন এক নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্পূর্ণ একাকী অবস্থায় অনুসন্ধানের জন্য সম্মুখে বেরিয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে তাঁর অসীম সাহসিকতার প্রমাণ বহন করে।
এ হাদীসের মধ্যেও প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উল্লেখযোগ্য তিনটি সদ্‌গুণের উল্লেখ করা হয়েছে। বলা বাহুল্য, এ বিশেষণত্রয় হলো মানুষের যাবতীয় সদ্‌গুণের আধার। কেননা প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে তিনটি প্রকৃতিগত শক্তি বিদ্যমান থাকে। যথা ১. অনুকম্পা শক্তি, ২. ক্রোধশক্তি ও ৩. বিবেচনা শক্তি। ক্রোধ শক্তির পূর্ণতা দ্বারা ব্যক্তির মধ্যে সাহসিকতা ও বীরত্বের গুণ সৃষ্টি হয়। অনুকম্পা শক্তির পূর্ণতার কারণে ব্যক্তি দানশীলতা ও বদান্যতার গুণে গুণান্বিত হয়। আর বিবেচনা শক্তির পূর্ণতা অর্জনের ফলে ব্যক্তির মাঝে নৈপুণ্য ও বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ ঘটে । প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চরিত্রে উল্লিখিত সব কয়টি শক্তি পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান ছিল। এ কারণেই শক্তিগুলি থেকে উদ্ভূত গুণগুলিও ছিল তাঁর চরিত্রে পরিপূর্ণ। দার্শনিকগণ লিখেছেন, যে ব্যক্তির প্রকৃতির মধ্যে উদ্ভূত শক্তি পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান তিনি দৈহিক গঠন ও রূপ সৌন্দর্যের ক্ষেত্রেও পরিপূর্ণ মানের হবেন। কারণ বিবেচনা শক্তি ও দৈহিক সুগঠন একটি অপরটির জন্য অনিবার্য উপাদান।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান