আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ১০৪
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর সাহসিকতা ও বীরত্ব
১০৪। হযরত আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রণক্ষেত্রে যুদ্ধ যখন ঘোরতর আকার ধারণ করত এবং একদল অন্যদলের মুখোমুখি হয়ে লড়াই শুরু করত, তখন আমরা নবী (ﷺ)-এর চতুষ্পার্শ্বে আশ্রয় খুঁজতাম। আমাদের মধ্যে কেউ শত্রুপক্ষের মুকাবিলায় নবী (ﷺ) -এর চেয়ে অগ্রবর্তী থাকত না (অর্থাৎ তিনি মুকাবিলায় সকলের অগ্রবর্তী থাকতেন)।
أبواب الكتاب
فَأَمَّا [ص:313] مَا ذُكِرَ مِنْ شَجَاعَتِهِ
104 - حَدَّثَنَا الْبَغَوِيُّ، نَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، نَا زُهَيْرٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ حَارِثَةَ بْنِ مُضَرِّبٍ، عَنْ عَلِيٍّ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كُنَّا إِذَا احْمَرَّ الْبَأْسُ وَلُقِيَ الْقَوْمُ، اتَّقَيْنَا بِرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَمَا يَكُونُ أَحَدٌ أَقْرَبَ إِلَى الْعَدُوِّ مِنْهُ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উপরোক্ত হাদীসটিও প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের কথা প্রকাশ করছে। কেননা কাফিরদের সঙ্গে যখন মুসলমানদের যুদ্ধ শুরু হতো এবং একদল অন্যদলের মুখোমুখি হয়ে লড়াই শুরু করত, তখন শত্রুপক্ষের সংখ্যাধিক্য এবং নিজেদের যুদ্ধ উপকরণের অপ্রতুলতা দেখে এই গুটিকতক নিরস্ত্র মুসলমান সৈন্যদের মনে ভীতির উদ্রেক হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। বিশেষত যে সকল যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর হাতে যুদ্ধ সরঞ্জাম বলতে কিছুই ছিল না। তখন যে কোন তেজস্বী, বাহাদুর ব্যক্তিরও শংকিত হয়ে ওঠা স্বাভাবিক । অথচ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মনোবল এমন মুহূর্তগুলিতেও কেবল দৃঢ় থাকতো তাই নয় বরং নিজে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে তরবারি নিয়ে কাফিরদের সারির ভিতর ঢুকে পড়তেন। তখন মুসলিম সৈনিকদের অন্যরাও প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছাকাছি আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করতেন। কতিপয় হাদীসের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় ঘোররত লড়াইয়ের তোড়ে লোকজন দূরে হটে যেত। এ মুহূর্তে যাঁরা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ও কাছাকাছি থাকতেন সাহাবীদের মধ্যে তাঁদেরকে বীর সেনানী বলে বিবেচনা করা হতো।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান