আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ১০৩
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর সাহসিকতা ও বীরত্ব
১০৩। হযরত আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের দিন আমি স্বচক্ষে দেখেছি যে, আমরা নবী (ﷺ) -এর আশেপাশে আশ্রয় খুঁজছিলাম। আর তিনি আমাদের সকলের তুলনায় শত্রুদের বেশী কাছাকাছি পৌঁছে মুকাবিলা করে যাচ্ছেন। বদরের সেদিন তাঁরই বীরত্ব ও সাহসিকতা ছিল সর্বাধিক।
أبواب الكتاب
فَأَمَّا [ص:313] مَا ذُكِرَ مِنْ شَجَاعَتِهِ
103 - حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ السَّقَانِيُّ، لَفْظًا مِنْهُ فِي الْمُحَرَّمِ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَخَمْسِمِائَةٍ، أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَارِثِ التَّمِيمِيُّ الْأَصْفَهَانِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي سَنَةِ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ. قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حَيَّانٍ وَيُعْرَفُ بِأَبِي الشَّيْخِ الْحَافِظِ، فَأَمَّا مَا ذُكِرَ مِنْ شَجَاعَتِهِ قَالَ: حَدَّثَنِي جُبَيْرُ بْنُ هَارُونَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، نَا عَلِيُّ الطَّنَافِسِيُّ، نَا وَكِيعٌ، نَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ حَارِثَةَ بْنِ مُضَرِّبٍ، عَنْ عَلِيٍّ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: «لَقَدْ رَأَيْتُنِي يَوْمَ بَدْرٍ، وَنَحْنُ نَلُوذُ بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ أَقْرَبُنَا إِلَى الْعَدُوِّ، وَكَانَ مِنْ أَشَدِّ النَّاسِ يَوْمَئِذٍ بَأْسًا»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
চরিত্র বিশারদদের সকলে এ মর্মে একমত যে, মানব চরিত্রের সবচেয়ে বড় উপাদান হলো বীরত্ব। মানুষের যাবতীয় সদ্গুণ বীরত্বের এই ভিত্তির উপরেই গড়ে উঠে। বীরত্বের কারণে মানুষ নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা, দরদ ও অনুকম্পা, হিম্মত, চারিত্রিক দৃঢ়তা ও সত্য প্রকাশে নির্ভীকতা ইত্যাকার মহৎ ও উন্নত চরিত্র মাধুরী অর্জনে সক্ষম হয়। কাপুরুষ ও মনোবলহীন লোকেরা কোন কৃতিত্বের কাজ সম্পাদনে যেমন অনুপযুক্ত তেমনি নৈতিকতার মানদণ্ডেও সে হীনবল বিবেচিত হয়ে থাকে। সে মানবীয় সদ্গুণাবলি ও উন্নত চরিত্র থেকে হয় বঞ্চিত। পক্ষান্তরে যাঁরা সাহসী ও বীর পুরুষ তাঁরা সর্বদা আত্মপ্রত্যয়ী, নীতিবান, সত্যভাষী, দৃঢ় চরিত্র, ধৈর্যশীল, গম্ভীর ও ক্ষমাপরায়ণ থাকেন। এভাবে দানশীলতা, বদান্যতা, মেহমানদারী, পরোপকার ইত্যাদি সাহসী মানুষদেরই বিশেষণরূপে পরিচিত।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহসিকতা ও বীরত্বের ক্ষেত্রেও ছিলেন মানুষের মধ্যে সকলের ঊর্ধ্বে। তিনি অবিচলতা ও অফুরন্ত দৃঢ়তার অধিকারী ছিলেন। জিহাদ ও রণক্ষেত্রে প্রদর্শিত তাঁর বীরত্বের বহু ঘটনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, কখনো কোন কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখে তিনি হিম্মত হারাতেন না। চরিত্রের দৃঢ়তা ও অসীম সাহসিকতা বুকে নিয়ে যাবতীয় পরিস্থিতির মুকাবিলা করে যেতেন। হুনাইন যুদ্ধে হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা মুসলিম বাহিনীর উপর বৃষ্টির ন্যায় তীরবর্ষণ শুরু করে। তীরন্দাজদের প্রবল আক্রমণে সাহাবীদের বহু সংখ্যক তখন মনোবল হারিয়ে ফেলেন এবং রণক্ষেত্র থেকে পিছিয়ে পড়েন। অথচ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন রণক্ষেত্রে অটল দণ্ডায়মান। তাঁর চতুষ্পার্শ্বে ছিলেন কেবল কয়েকজন জানবাজ সাহাবী। তাঁরা সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় তাঁকে ঘিরে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। এ কঠিনতম মুহূর্তে তিনি বিন্দুমাত্রও বিচলিত হননি বরং সীমাহীন সাহসিকতা ও বীরত্ব নিয়ে সঙ্গীদের মনোবল ও হিম্মত বৃদ্ধি করতে থাকেন। সামান্যতম পিছে না হটে যথারীতি কাফিরদের সঙ্গে মুকাবিলা চালিয়ে যান । অনুরূপ একবার তিনি একটি বৃক্ষের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তখন অতর্কিতভাবে জনৈক কাফির যোদ্ধা সম্মুখে এসে তরবারি তাক করে দাঁড়ায়। লোকটি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঠিক মাথা মুবারকের বরাবর দাঁড়িয়ে বলল, হে মুহাম্মদ! এবার আমার হাত থেকে তোমাকে কে বাঁচাবে ? প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভয়ভীতি বিহীন শান্ত কণ্ঠে উত্তর দিলেনঃ আল্লাহ্। তাঁর এই নির্ভীকতা দেখে ও বীরত্বপূর্ণ উত্তর শুনে লোকটির হৃদকম্পন শুরু হলো এবং তার হাত থেকে তাক করা তরবারি মাটিতে পড়ে গেল। (সহীহ্ বুখারী, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৫৯২)। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনে এ ধরনের আরো বহু ঘটনা ইতিহাস গ্রন্থাবলিতে বিদ্যমান। এ সকল ঘটনার আলোকে তিনি যে কতখানি সাহসিকতা ও বীরত্বের অধিকারী ছিলেন তা সুস্পষ্ট বোঝা যায়।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহসিকতা ও বীরত্বের ক্ষেত্রেও ছিলেন মানুষের মধ্যে সকলের ঊর্ধ্বে। তিনি অবিচলতা ও অফুরন্ত দৃঢ়তার অধিকারী ছিলেন। জিহাদ ও রণক্ষেত্রে প্রদর্শিত তাঁর বীরত্বের বহু ঘটনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, কখনো কোন কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখে তিনি হিম্মত হারাতেন না। চরিত্রের দৃঢ়তা ও অসীম সাহসিকতা বুকে নিয়ে যাবতীয় পরিস্থিতির মুকাবিলা করে যেতেন। হুনাইন যুদ্ধে হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা মুসলিম বাহিনীর উপর বৃষ্টির ন্যায় তীরবর্ষণ শুরু করে। তীরন্দাজদের প্রবল আক্রমণে সাহাবীদের বহু সংখ্যক তখন মনোবল হারিয়ে ফেলেন এবং রণক্ষেত্র থেকে পিছিয়ে পড়েন। অথচ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন রণক্ষেত্রে অটল দণ্ডায়মান। তাঁর চতুষ্পার্শ্বে ছিলেন কেবল কয়েকজন জানবাজ সাহাবী। তাঁরা সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় তাঁকে ঘিরে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। এ কঠিনতম মুহূর্তে তিনি বিন্দুমাত্রও বিচলিত হননি বরং সীমাহীন সাহসিকতা ও বীরত্ব নিয়ে সঙ্গীদের মনোবল ও হিম্মত বৃদ্ধি করতে থাকেন। সামান্যতম পিছে না হটে যথারীতি কাফিরদের সঙ্গে মুকাবিলা চালিয়ে যান । অনুরূপ একবার তিনি একটি বৃক্ষের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তখন অতর্কিতভাবে জনৈক কাফির যোদ্ধা সম্মুখে এসে তরবারি তাক করে দাঁড়ায়। লোকটি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঠিক মাথা মুবারকের বরাবর দাঁড়িয়ে বলল, হে মুহাম্মদ! এবার আমার হাত থেকে তোমাকে কে বাঁচাবে ? প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভয়ভীতি বিহীন শান্ত কণ্ঠে উত্তর দিলেনঃ আল্লাহ্। তাঁর এই নির্ভীকতা দেখে ও বীরত্বপূর্ণ উত্তর শুনে লোকটির হৃদকম্পন শুরু হলো এবং তার হাত থেকে তাক করা তরবারি মাটিতে পড়ে গেল। (সহীহ্ বুখারী, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৫৯২)। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনে এ ধরনের আরো বহু ঘটনা ইতিহাস গ্রন্থাবলিতে বিদ্যমান। এ সকল ঘটনার আলোকে তিনি যে কতখানি সাহসিকতা ও বীরত্বের অধিকারী ছিলেন তা সুস্পষ্ট বোঝা যায়।