আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৮৭
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর বদান্যতা সম্পর্কিত হাদীসসমূহ
৮৭। হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) লোকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী দানশীল ছিলেন। বিশেষত রমযানের মাসে তাঁর দানশীলতার মাত্রা অত্যধিক বেড়ে যেতো, যখন হযরত জিব্‌রাঈল (আ) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য আগমন করতেন।
أبواب الكتاب
وَأَمَّا [ص:273] مَا ذُكِرَ مِنْ جُودِهِ وَسَخَائِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
87 - أَخْبَرَنَا حَامِدُ بْنُ شُعَيْبٍ الْبَلْخِيُّ، نَا بِشْرُ بْنُ الْوَلِيدِ، نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ الزُهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدَ النَّاسِ بِالْخَيْرِ، وَكَانَ أَجْوَدَ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ، حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এখানে গ্রন্থকার পুরো হাদীসটি উদ্ধৃত করেননি। বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দানশীলতার সাথে সম্পর্কিত অংশটুকু উদ্ধৃত করেছেন। এ হাদীস সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে সবিস্তার বর্ণিত হয়েছে। হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল ও দাতা ছিলেন। আর রমযান মাসে যখন হযরত জিব্‌রাঈল (আ) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য আগমন করতেন, তখন তাঁর দানশীলতা অন্যান্য সময় অপেক্ষা অনেক গুণ বেড়ে যেতো। তখন তিনি অত্যধিক মাত্রায় দান-খয়রাত করতেন। জিব্‌রাঈল (আ) রমযান মাসে প্রতিদিন তাঁর নিকট আগমন করতেন এবং কুরআন শরীফের শুনানি করতেন। ঐ সময় তিনি ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন বায়ুর চেয়েও অধিক দান-খয়রাত করতেন। অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে দান-খয়রাতের পরিমাণ এতই বৃদ্ধি করতেন যে, বর্ণনাকারী তাঁর দান-খয়রাতের আধিক্যকে ঝড়ো হওয়ার গতিবেগের সাথে তুলনা করেছেন। রমযান মাসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অধিক দান-খয়রাত করার কারণ হচ্ছে, ঐ পবিত্র মাসে আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর বান্দাদের উপর অপরিসীম দয়া ও কৃপা করে থাকেন। তাঁর রিযিক তাদের উপর অবারিত করে দেন। রোযাদারদের সকল কর্মকাণ্ডের বিনিময় এই পবিত্র মাসের কারণে দশগুণ থেকে সত্তর গুণ পর্যন্ত বেশি প্রদান করেন। এ মাসে একবার কুরআন খতম করলে সত্তরবার কুরআন খতম করার সওয়াব পাওয়া যায়। এক রাকআত নফল সালাত পড়ার সওয়াব সত্তর রাকআত পড়ার সমান হয়। এক পয়সা ব্যয় করার সওয়াব সত্তর পয়সা ব্যয় করার সমান হয়। এ ছাড়া আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর অসীম কৃপায় রোযাদার বান্দাদের পেছনের সমস্ত গুনাহ্ মাফ করে দেন। এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রমযান মাসের শেষ রাতে আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর রোযাদার বান্দাদের ক্ষমা ঘোষণা করেন। তাই আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আল্লাহ্‌র এই দানশীলতার গুণটি রপ্ত করতেন এবং অন্যদেরকেও রপ্ত করার নির্দেশ দিতেন। বর্ণিত আছে (تخلفوا باخلاق الله) (তোমরা আল্লাহ্‌র গুণে গুণান্বিত হও)। তাই আল্লাহ্‌র গুণাবলি নিজের মধ্যে সৃষ্টি করা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনার প্রমাণ। আল্লাহ্ আমাদেরকে তাঁর প্রদর্শিত পথে সঠিকভাবে চলার তাওফীক দান করুন।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান