আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৮৮
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর বদান্যতা সম্পর্কিত হাদীসসমূহ
৮৮। হযরত আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ) -এর নিকট এসে (আর্থিক সাহায্য) প্রার্থনা করলো। তিনি তাকে দুই পাহাড়ের মধ্যকার সব বক্‌রী দান করলেন। তখন ঐ ব্যক্তি তার গোত্রের মধ্যে এসে বললো, হে লোক সকল! তোমরা ইসলাম গ্রহণ করো। কেননা, মুহাম্মাদ (ﷺ) সেই ব্যক্তির ন্যায় দান করে থাকেন, যার দারিদ্রের কোনো আশংকা নাই।
أبواب الكتاب
وَأَمَّا [ص:273] مَا ذُكِرَ مِنْ جُودِهِ وَسَخَائِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
88 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، نَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غِيَاثٍ، نَا حَمَّادُ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهُ، فَأَعْطَاهُ غَنَمًا بَيْنَ جَبَلَيْنِ، فَأَتَى الرَّجُلُ قَوْمَهُ، فَقَالَ: أَسْلِمُوا، فَإِنَّ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْطِي عَطَاءَ رَجُلٍ مَا يَخَافُ فَاقَةً

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এই রিওয়ায়াতটিই মিশকাত শরীফে হযরত আনাস (রা) থেকে এই ভাষায় বর্ণিত হয়েছেঃ জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট দুই পাহাড় সমান ছাগ প্রার্থনা করলো। তিনি তা তাকে দান করলেন। তখন ঐ ব্যক্তি তার গোত্রে এসে বললো, হে আমার গোত্র! তোমরা সবাই মুসলমান হয়ে যাও। আল্লাহ্‌র কসম! মুহাম্মদ এতই দান করেন যে, নিজে দরিদ্র হয়ে যাওয়ারও ভয় করেন না।
শামায়েলে তিরমিযীতে হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কোনো বন্ধু (ভবিষ্যতের জন্য) সঞ্চয় করে রাখতেন না। (বরং তৎক্ষণাৎ সাহাবাদের মধ্যে বন্টন করে দিতেন)।
এই হাদীসগুলো থেকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বদান্যতা ও দানশীলতা সম্পর্কে অনুমান করা যায়। কেননা যে যত চাইত তিনি তাকে তা দান করতেন। কখনো প্রার্থনাকারীকে তাঁর নামে ঋণ নিয়ে প্রয়োজন মিটানোর অনুমতি দিতেন। যেমন সামনের হাদীসসমূহে বিধৃত হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বদান্যতার পরাকাষ্ঠা ও আল্লাহ্‌র উপর পূর্ণ ভরসায় বিস্মিত হয়ে ঐ বর্ণনাকারী তার গোত্রকেও ঈমান ও ইসলামের দাওয়াত দেয় এবং নিজেও ঈমান আনে।
এক হাদীসে হযরত ইব্‌ন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঈর্ষা কেবল দুই ব্যক্তির উপর হতে পারে। এক. সেই ব্যক্তি—যাকে আল্লাহ্ তা’আলা ধন-সম্পদও দিয়েছেন এবং তাকে সম্পদ আল্লাহ্‌র রাস্তায় ব্যয় করারও তাওফীক দিয়েছেন। দুই. সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ্ তা’আলা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা দান করেছেন এবং সে তা দ্বারা নিজেও পরিচালিত হয় এবং অপরকেও তা শিক্ষা দেয়। (রিয়াদুস্-সালিহীন) I
অন্য এক হাদীসে হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যহ সকাল বেলা যখন আল্লাহ্‌র বান্দা নিদ্রা থেকে জাগ্রত হয়, তখন তার সাথে দু’জন ফিরিশতাও আসমান থেকে অবতরণ করেন। তাদের একজন বলেন, হে আল্লাহ্! ব্যয়কারী, দানশীল ও দাতা ব্যক্তিকে তার বিনিময় দান করো। দ্বিতীয় ফিরিশ্‌তা বলেন, হে আল্লাহ্! বখীল ও কৃপণ ব্যক্তির সম্পদে তুমি ধস নামাও। (বুখারী ও মুসলিম)
অপর এক হাদীসে হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেনঃ হে আদম সন্তান! তুমি আল্লাহ্‌র সৃষ্টির জন্য ধন-সম্পদ ব্যয় করো, তোমার জন্যও আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে ব্যয় করা হবে। (রিয়াদুস্-সালিহীন)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান