আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৭৮
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
empty
৭৮। হযরত আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, জনৈক ইয়াহুদী নারী নবী (ﷺ) -এর নিকট একটি ভুনা বক্‌রীর বাচ্চা আহারের জন্য নিয়ে আসে। তাতে সে বিষ মিশ্রিত করেছিল। (এরপর নবী (ﷺ) যখন ঐ গোশ্‌ত বিষ মিশ্রিত হওয়ার সংবাদ মহান আল্লাহ্‌র তরফ থেকে জানতে পারলেন, তখন এ স্ত্রীলোকটিকে ডাকালেন) লোকেরা নবী (ﷺ) -এর নিকট তাকে উপস্থিত করলো। তিনি ঐ বিষ মিশ্রিত গোশ্‌ত সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এ কাণ্ড কেন করেছো ? ঐ (উদ্ধৃত) নারী বললো, আমি আপনাকে হত্যা করতে চেয়েছি। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ মহান আল্লাহ্ তোমাকে এ কাজে সফল হতে দেবেন না (অর্থাৎ তুমি নবী (ﷺ) কে হত্যা করতে পারবে না)। কিংবা বলেছেন, কোনো মুসলিমের বিরুদ্ধে আল্লাহ তাআলা তোমাকে এ ব্যাপারে সফল করবেন না। সাহাবাগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা কি তাকে হত্যা করবো না ? তিনি বললেন, না।
أبواب الكتاب
وَأَمَّا [ص:233] مَا رُوِيَ مِنْ عَفْوِهِ وَصَفْحِهِ
78 - أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ، نَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، نَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، نَا شُعْبَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَنَسٍ، " أَنَّ يَهُودِيَّةً أَتَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَاةٍ مَسْمُومَةٍ، لِيَأْكُلَ مِنْهَا، فَجِيءَ بِهَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهَا عَنْ ذَلِكَ؟ فَقَالَتْ: أَرَدْتُ قَتْلَكَ، فَقَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا كَانَ اللَّهُ لِيُسَلِّطَكِ عَلَى ذَلِكَ، أَوْ قَالَ: عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ، قَالُوا: أَفَلَا نَقْتُلُهَا؟ قَالَ: لَا "

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এখানেও হাদীসের শুধু সেই অংশই বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্ষমা ও দয়া গুণের আলোচনা রয়েছে। অন্যান্য রিওয়ায়াতে বর্ণিত হয়েছে যে, খায়বারের অধিবাসী এক ইয়াহূদী নারী বিষ মিশ্রিত করে একটি ভুনা বক্‌রী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর নিকট পেশ করলো। তিনি ঐ বক্‌রীর গোশ্‌তের মধ্য থেকে হাতার একটি অংশ ভক্ষণ করলেন। তাঁর সাথে আরো কিছু সাহাবীও খাচ্ছিলেন। তাঁরাও এই বিষ মিশ্রিত বক্‌রীর গোশ্‌ত খাওয়া শুরু করলেন । কিন্তু লোক্‌মা মুখে দিতেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের নির্দেশ দিলেন যে, তোমরা খাওয়া বন্ধ করো (গোশ্‌তে বিষ মিশ্রিত করা হয়েছে) এবং তখনই তিনি ঐ ইয়াহূদী নারীকে ডেকে পাঠালেন। (আসার পর) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এই বক্‌রীর গোশ্‌তে বিষ মিশিয়েছো ? সে বললো, আপনাকে কে বলেছে ? তিনি বললেন, এই টুকরোটি আমাকে বলে দিয়েছে যা আমার হাতে রয়েছে। তখন ঐ ইয়াহূদী নারী স্বীকার করলো এবং বললো, আমি আপনাকে পরীক্ষা করার জন্য বিষ মিশিয়েছি। আপনি যদি সত্য নবী হন তবে এই বিষে আপনার কোনো ক্ষতি হবে না। কেননা, আপনি তা অবগত হতে পারবেন। আর আপনি যদি সত্য নবী না হন, তবে ধ্বংস হয়ে যাবেন এবং আমরা আপনার থেকে মুক্তি পাবো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ নারীকে তার প্রাণনাশের চেষ্টা সত্ত্বেও কোনো শাস্তি দেননি। বরং ক্ষমা করে দেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে যে সাহাবী ঐ মাংস ভক্ষণ করেছিলেন, তিনি ঐ বিষের প্রতিক্রিয়ায় ইন্‌তিকাল করেন।
অন্যান্য রিওয়ায়াত থেকে জানা যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজের পক্ষ থেকে ঐ নারীকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, এবং প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। অবশ্য যখন ঐ বিষে হযরত বিশ্‌র ইব্‌ন বারাআ (রা) ইন্‌তিকাল করেন, তখন তাঁর কিসাসস্বরূপ তিনি ঐ নারীকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ হাদীস থেকে অনুমিত হয়, তিনি তাঁর প্রাণের শত্রুদের সাথে কি পরিমাণ সদয় আচরণ করতেন। তিনি ইচ্ছাকৃত হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না। বরং তাদেরকে ক্ষমা করে দেওয়া ছাড়াও তাদের কল্যাণ কামনাও করতেন। যেমন বিভিন্ন ঘটনা ও রিওয়ায়াতে বর্ণিত হয়েছে, তায়েফে শত্রুরা কি পরিমাণ তাঁকে নির্যাতন করে। দুষ্ট ও দুরন্ত বালকদেরকে লেলিয়ে দিয়ে প্রস্তর বর্ষণের মাধ্যমে তাঁকে রক্তাক্ত করা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথা গোঁজার কোথাও আশ্রয় ছিল না। তায়েফের নেতারা দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছিলো। আল্লাহ্ তা’আলার পক্ষ থেকে ঐ সময় হযরত জিব্‌রাঈল (আ) পাহাড়ের অধিকর্তা ফিরিশ্‌তাকে সঙ্গে নিয়ে আসেন এবং বলেন যে, আপনি হুকুম দিলে এখনই এই দুই পাহাড়ের মাঝে ফেলে তাদেরকে পিষে মারা হবে। কিন্তু তাঁর পবিত্র মুখ থেকে এই দু’আই নিঃসৃত হলো اللهم اهد قومى فانهم لا يعلمون, (হে আল্লাহ্! আমার জাতিকে হিদায়াত করুন। কেননা, এরা জানে না (যে, আমি আল্লাহ্‌র রাসূল)”।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান