আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৭৭
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
empty
৭৭। মাহদী ইব্‌ন ইমরান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দেখলাম, হযরত আবু তোফায়ল (রাযিঃ)-কে মসজিদে হারামে নিয়ে এসে শায়িত করা হয়েছে। তিনি তখন চাদরে আবৃত ছিলেন। কেউ বলেন, ইনি নবী (ﷺ) -কে দর্শন করেছেন। অর্থাৎ আবু তোফায়ল (রাযিঃ) নবী (ﷺ) -এর সাহাবী ছিলেন। মাহ্দী ইব্‌ন ইমরান (রাযিঃ) বলেন, আমি হযরত আবু তোফায়ল (রাযিঃ)-এর কাছ থেকে হাদীস শোনার জন্য তাঁর নিকট গেলাম। তিনি বললেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে কোথাও যেতে দেখলাম। আমিও তাঁর পেছনে পেছনে রওয়ানা হলাম। তিনি একটি গৃহে উপস্থিত হলেন এবং দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলেন। গৃহে একটি কম্বল পড়ে ছিলো। কম্বলটি ছাড়া আর কিছুই ছিলো না। তিনি ঐ কম্বলটি ধরে হেঁচকা টান মারলেন। তার মধ্য থেকে একটি কানা (একচক্ষু বিশিষ্ট) লোক বেরিয়ে এলো। সে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -কে বললো, আপনি কি সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, আমি আল্লাহ্‌র রাসূল ? তখন রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, হে লোক সকল! তোমরা তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহ্‌র পানাহ চাও।
أبواب الكتاب
وَأَمَّا [ص:233] مَا رُوِيَ مِنْ عَفْوِهِ وَصَفْحِهِ
77 - أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ، نَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، نَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، قَالَ: نَا مَهْدِيُّ بْنُ عِمْرَانَ، قَالَ: رَأَيْتُ أَبَا الطُّفَيْلِ جِيءَ بِهِ فِي كِسَاءٍ، وَأُلْقِيَّ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ، فَقِيلَ: هَذَا قَدْ رَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَدَنَوْتُ مِنْهُ، فَقَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاتَّبَعْتُهُ حَتَّى أَتَى دَارًا، فَدَفَعَ بَابَهَا، فَدَخَلَ، فَإِذَا لَيْسَ فِي الدَّارِ إِلَّا قَطِيفَةٌ، فَنَفَضَهَا فَإِذَا رَجُلٌ أَعْوَرُ، فَقَالَ: أَتَشْهَدُ أَنَّى رَسُولُ اللَّهِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ شَرِّ هَذَا

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এই ব্যক্তি ছিল ইব্‌ন সায়্যাদ। সহীহ্ বুখারী ও হাদীসের অন্যান্য কিতাবে তার কাহিনী সবিস্তার বর্ণিত হয়েছে। ইব্‌ন সায়্যাদের ডাকনাম ‘সাফ’ এবং এক বর্ণনা মতে আবদুল্লাহ্। এ ছিল মদীনার এক ইয়াহুদী। এর সম্পর্কে বর্ণনাকারীদের বিভিন্ন উক্তি রয়েছে। কেউ কেউ তাকে দাজ্জালও বলেন। বর্ণনাসমূহ থেকে জানা যায়, সে প্রতিশ্রুত দাজ্জাল না হলেও ফিত্‌না সৃষ্টিতে কমও ছিল না। বাল্যকাল থেকেই গণক ও জাদুকরের মতো কথা বলতো। আল্লাহ্ তা’আলা মুসলিমদের পরীক্ষার জন্য তাকে সৃষ্টি করেছিলেন। প্রথমে সে নিজকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে দাবি করতো। কিন্তু শেষে ইসলাম গ্রহণ করে। মুসলমানদের সাথে হজ্জ ও জিহাদ প্রভৃতিতেও শরীক হয়। কিন্তু তারপরও সে এই ধরনের উচ্ছৃংখল কথাবার্তা বলতো। গ্রন্থকারের এই হাদীসটিও এ স্থলে বর্ণনা করার কারণ হচ্ছে, এ ধরনের উচ্ছৃংখলতা ও ধৃষ্টতা ছাড়াও সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে নিজেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে দাবি করে এবং স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কেই তার উপর ঈমান আনার জন্য আহবান করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হত্যা করেননি এবং কোনো শাস্তিও দেননি। কারণ সে ছিল তখন বালক। তাছাড়া মদীনার ইয়াহূদীর সাথে তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্ধিবদ্ধও ছিলেন। অবশ্য তিনি লোকদেরকে তার অনিষ্ট থেকে আত্মরক্ষা করার জন্য সাবধান করে দেন।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান