ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার
৪২. ইহসান-আত্মশুদ্ধির অধ্যায়
হাদীস নং: ২৬১০
ইহসান-আত্মশুদ্ধির অধ্যায়
লোক হাসানোর জন্য মিথ্যা বলার পাপ
(২৬১০) মুআবিয়া ইবন হাইদা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ধ্বংস তার জন্য, যে কথা বলার সময় লোক হাসানোর জন্য মিথ্যা কথা বলে ধ্বংস তার জন্য! ধ্বংস তার জন্য!!
كتاب الإحسان
عن معاوية بن حيدة رضي الله عنه مرفوعا: ويل للذي يحدث فيكذب ليضحك به القوم ويل له ويل له.
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
(আবু দাউদ। তিরমিযি হাদীসটিকে হাসান বলেছেন)। [সুনান আবু দাউদ, হাদীস-৪৯৯০; সুনান তিরমিযি, হাদীস-২৩১৫]
হাদীসের ব্যাখ্যা:
অনেকে আনন্দ উপভোগের উপকরণ হিসেবে মিথ্যা কথা বলা, মিথ্যা উপাখ্যান ও মিথ্যা গল্প রচনা করাকে নির্দোষ মনে করেন। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে তা ক্ষতিকর। কারণ মু'মিন ব্যক্তির জীবন লক্ষ্যহীন নয়। যে বিশেষ উদ্দেশ্যে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, মু'মিন সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করেন। মু'মিন ব্যক্তির বেহুদা কাজে এক মিনিট সময় ব্যয় করাও উচিত নয়। মানুষকে আনন্দ দান করা বা হাসানোর জন্য মিথ্যা বলার কোন অবকাশ মু'মিন ব্যক্তির নেই। আল্লাহর দীনকে পদানত করার জন্য শয়তান ও তার অনুচরগণ সর্বত্র ষড়যন্ত্র ও বিদ্রোহে লিপ্ত। মু'মিনগণ বিদ্রোহীদের মারাত্মক আক্রমণে ক্ষত-বিক্ষত। একটু চিন্তা করার প্রয়োজন, মু'মিন ব্যক্তি যার একমাত্র পরিচয় হল আল্লাহর সৈনিক, সে কি করে জলে-স্থলের বিদ্রোহকে উপেক্ষা করতে পারে? কি করে পরিস্থিতি ও পরিবেশকে অস্বীকার করতে পারে? কি করে কাফিরদের ন্যায় নিজেকে হাসি-ঠাট্টার দুনিয়ায় মশগুল করতে পারে? অবশ্যই আল্লাহর সৈনিক সর্বদা আল্লাহর দীনের সীমান্ত রক্ষার কাজে নিজেকে দিন-রাত ব্যস্ত রাখেন। মিথ্যা বলে অপরের চিত্ত বিনোদন করা মু'মিনের শান ও মর্যাদার পরিপন্থি। তথাকথিত নির্দোষ মিথ্যা বলা মোটেও নির্দোষ নয়, বরং তা এক ধরনের গুনাহ এবং প্রত্যেক গুনাহই আল্লাহর প্রতি অবাধ্যতার বহিঃপ্রকাশ।
এখন প্রশ্ন হল, তাহলে কি ইসলামে আনন্দ দান-যাকে রিক্রিয়েশন বলা হয়, তার কোন ইনতিযাম নেই? শিক্ষামূলক আনন্দ দান, যথা: শরীরচর্চা, ব্যায়াম, তীর নিক্ষেপ, তলোয়ার পরিচালনা করা, খালি হাতে নিজেকে রক্ষা করার কৌশল, ঘোড়া দৌড়ান, ঐতিহাসিক স্থান দর্শন, ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি বা মানসিক সবলতা সৃষ্টির জন্য সফর ইত্যাদি ইসলামের দৃষ্টিতে আপত্তিকর নয়। কিন্তু নিজের আসল পরিচয়-'সৈনিক ও আল্লাহর বান্দা', এ কথা কোন অবস্থায় ভোলা যাবে না।
এখন প্রশ্ন হল, তাহলে কি ইসলামে আনন্দ দান-যাকে রিক্রিয়েশন বলা হয়, তার কোন ইনতিযাম নেই? শিক্ষামূলক আনন্দ দান, যথা: শরীরচর্চা, ব্যায়াম, তীর নিক্ষেপ, তলোয়ার পরিচালনা করা, খালি হাতে নিজেকে রক্ষা করার কৌশল, ঘোড়া দৌড়ান, ঐতিহাসিক স্থান দর্শন, ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি বা মানসিক সবলতা সৃষ্টির জন্য সফর ইত্যাদি ইসলামের দৃষ্টিতে আপত্তিকর নয়। কিন্তু নিজের আসল পরিচয়-'সৈনিক ও আল্লাহর বান্দা', এ কথা কোন অবস্থায় ভোলা যাবে না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)