ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার

৪০. অপরাধ ও সাজার অধ্যায়

হাদীস নং: ২৪৬৫
অপরাধ ও সাজার অধ্যায়
মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসরত অমুসলিমকে হত্যার জন্য মুসলিমকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান
(২৪৬৫) নাযযাল ইবন সাবরা বলেন, একজন মুসলিম একজন কাফিরকে হত্যা করে। তখন নিহত ব্যক্তির ভাই খলীফা উমার রা.র নিকট গমন করে । উমার তার প্রশাসককে লিখে পাঠান যে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করতে হবে। এতে তারা বলতে থাকে, জুবাইরকে কি হত্যা করা হয়েছে? [জুবাইর, হত্যা করো]। সে বলে, ক্রোধ আসলেই তাকে হত্যা করা হবে। তখন উমার রা. তাকে মৃত্যুদণ্ডের বদলে রক্তমূল্য বা দিয়াত দেওয়ার নির্দেশ লিখে পাঠান।
كتاب الجنايات
عن النزال بن سبرة قال: قتل رجل من المسلمين رجلا من الكفار فذهب أخوه إلى عمر رضي الله عنه فكتب عمر أن يقتل فجعلوا يقولون: أقتل جبير [أ قتل جبير؟] فيقول حتى يجيء الغيظ قال: فكتب عمر أن يودي ولا يقتل.

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

(তাহাবি। ইবন আবী শাইবা অনুরূপ বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। ইবন হাযম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। তাহাবি শক্তিশালী সনদে আলী রা. থেকে অনুরূপ মতামত উদ্ধৃত করেছেন। তাহাবি বলেন, ‘এখানে উমার রা. কাফিরের হত্যার কারণে মুসলিমকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের মত প্রকাশ করেছেন। সাহাবিগণের উপস্থিতিতে তিনি তার প্রশাসকের নিকট এ জন্য পত্র লিখেছেন এবং তাদের মধ্যে কেউই আপত্তি করেন নি)। [তাহাবি, শারহু মাআনিল আসার, হাদীস-৫০৪৭]

হাদীসের ব্যাখ্যা:

গ্রন্থকার বলেন, এই হাদীসের শেষে উমার মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে দিয়াতের বিধান প্রদান করেছেন। এর অর্থ এই নয় যে, উমার মৃত্যুদণ্ডের বিধান ভুল মনে করে তা রহিত বা পরিবর্তন করেছেন। বরং এ ছিল উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে দিয়াত প্রদানের ব্যবস্থা করা। নিহত ব্যক্তির অভিভাবক ইচ্ছা করলে হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করে দিয়াত বা রক্তমূল্য গ্রহণ করতে পারে। বিষয়টি বাইহাকি সঙ্কলিত ইবরাহীম নাখয়ির বর্ণনায় স্পষ্টরূপে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন ।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান