ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার
৩৫. বৈধ-অবৈধ বিষয়াদি ও বিভিন্ন আদব
হাদীস নং: ২৩৮৬
বৈধ-অবৈধ বিষয়াদি ও বিভিন্ন আদব
মূল্য নির্ধারণ
(২৩৮৬) আনাস ইবন মালিক রা. বলেন, মানুষেরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, আপনি আমাদের জন্য দ্রব্যমূল্য নির্ধারণ করে দিন। তিনি বললেন, আল্লাহই মূল্য নির্ধারণ করেন, তিনিই সংকুচিত করেন, প্রশস্ত করেন এবং তিনিই রিয্ক প্রদান করেন। আমি চাই, আমি এমনভাবে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করব যে, জীবন ও সম্পদ কোনো বিষয়েই আমি কারো কোনো অধিকার নষ্ট করেছি বলে তোমাদের কেউ আমার নিকট দাবি করবে না।
كتاب الحظر والإباحة وآداب متفرقة
عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال الناس يا رسول الله غلا السعر فسعر لنا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الله هو المسعر القابض الباسط الرازق وإني لأرجو أن ألقى الله وليس أحد منكم يطالبني بمظلمة في دم ولا مال.
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
(আবু দাউদ ও ইবন মাজাহ। তিরমিযি ও ইবন হিব্বান হাদীসটি সহীহ বলেছেন)। [সুনান আবু দাউদ, হাদীস-৩৪৫১; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস-২২০০; সুনান তিরমিযি, হাদীস-১৩১৪]
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীস থেকে জানা যায় যে, কোন কোন সাহাবীর পক্ষ থেকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্ব গতির অভিযোগ ও মূল্যের ওপর কন্ট্রোল এর আবেদন করা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজের জন্য তা সংগত মনে করেন নি। এবং তিনি আশংকা প্রকাশ করেন যে, এরূপ নির্দেশের ফলে কারো প্রতি বাড়াবাড়ি আর কারো অধিকার যেন ক্ষুণ্ন না হয়।
এখানে একথা প্রণিধানযোগ্য যে, খাদ্যদ্রব্য ইত্যাদির অভাবে ও ঊর্ধ্ব মূল্য কখনো আকাল ও প্রাকৃতিক উৎপাদন হ্রাসের কারণে হয়ে থাকে, আর কখনো ব্যবসায়ী ও দোকানদারগণ অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্য বাড়িয়ে দেয়। হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে হুযুর ﷺ-এর যে জবাব রয়েছে তা থেকে জানা যায় যে, তখন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্টি হয়েছিল। এতে ব্যবসায়ীদের মুনাফা অর্জনের হাত ছিল না। এজন্য তিনি কন্ট্রোল চালু করা সংগত মনে করেননি। আর তাঁর আশংকা হয়েছিল যে, ব্যবসায়ীদের প্রতি বাড়াবাড়ি না হয়ে যায়। এ থেকে এটাও বুঝা যেতে পারে যে, যদি শাসক নিশ্চিতভাবে অনুভব করেন যে, ব্যবসায়ীদের পক্ষ হতে সাধারণ ভোক্তাদের প্রতি বাড়াবাড়ি হচ্ছে। বুঝানো ও উপদেশ সত্ত্বেও ব্যবসায়ীগণ সংশোধন হচ্ছে না, তবে তিনি মূল্য নির্ধারণ করে কন্ট্রোল প্রথা চালু করতে পারেন।
শাহ্ ওয়ালী উল্লাহর (র) মতে ব্যবসায়ীগণকে অন্যায় মুনাফা অর্জনের সুযোগ দেওয়া তো জগতে ফাসাদ ও আল্লাহর সৃষ্ট জীবের উপর ধ্বংস ডেকে আনার নামান্তর। তবে সর্বাবস্থায় হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসের দাবি এটাই যে, যথাসম্ভব তা থেকে বিরত থাকবে। এ পদক্ষেপ তখনি গৃহীত হবে, যখন ব্যবসায়ীগণের পক্ষ থেকে মুনাফা অর্জনের প্রবণতাধীনে জনসাধারণের সাথে প্রকাশ্য বাড়াবাড়ি চলে এবং কন্ট্রোলের কর্মপন্থা অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে।
ইমাম মালিক (র) মুআত্তায় হযরত সাঈদ ইব্ন মুসাইয়াব তাবিঈর বর্ণনায় লিপিবদ্ধ করেছেন যে, হযরত উমর (রা) মদীনার বাজারে সাহাবী হাতিব ইবনে 'আবী বালতা (রা)-কে দেখেন যে, তিনি শুষ্ক আংগুর (মুনাক্কা) এমন দরে বিক্রি করেছেন, যা হযরত উমর (রা)-এর নিকট অধিক অসংগত মনে হল। তিনি তাঁকে বললেনঃ
إِمَّا أَنْ تَزِيدَ فِي السّعْرِ - وَإِمَّا أَنْ تَرْفَعَ مِنْ سُوْقِنَا
হয় তুমি মূল্য বৃদ্ধি কর (অর্থাৎ মূল্য সংগত সীমা পর্যন্ত হ্রাস কর)। অথবা নিজের মাল আমাদের বাজার থেকে প্রত্যাহার কর। শরীয়তের সাধারণ নীতি এবং হযরত উমরের কথার আলোকে বিজ্ঞ আলিমগণ এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, অবস্থার প্রেক্ষিতে জনসাধারণকে ব্যবসায়ীদের অধিক লাভের লালসা থেকে রক্ষা কল্পে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আবশ্যকীয় দ্রব্যাদির মূল্য নির্ধারণ ও কন্ট্রোল প্রথা চালু করা চাই। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াও তাঁর কোন কোন রচনায় এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
এখানে একথা প্রণিধানযোগ্য যে, খাদ্যদ্রব্য ইত্যাদির অভাবে ও ঊর্ধ্ব মূল্য কখনো আকাল ও প্রাকৃতিক উৎপাদন হ্রাসের কারণে হয়ে থাকে, আর কখনো ব্যবসায়ী ও দোকানদারগণ অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্য বাড়িয়ে দেয়। হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে হুযুর ﷺ-এর যে জবাব রয়েছে তা থেকে জানা যায় যে, তখন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্টি হয়েছিল। এতে ব্যবসায়ীদের মুনাফা অর্জনের হাত ছিল না। এজন্য তিনি কন্ট্রোল চালু করা সংগত মনে করেননি। আর তাঁর আশংকা হয়েছিল যে, ব্যবসায়ীদের প্রতি বাড়াবাড়ি না হয়ে যায়। এ থেকে এটাও বুঝা যেতে পারে যে, যদি শাসক নিশ্চিতভাবে অনুভব করেন যে, ব্যবসায়ীদের পক্ষ হতে সাধারণ ভোক্তাদের প্রতি বাড়াবাড়ি হচ্ছে। বুঝানো ও উপদেশ সত্ত্বেও ব্যবসায়ীগণ সংশোধন হচ্ছে না, তবে তিনি মূল্য নির্ধারণ করে কন্ট্রোল প্রথা চালু করতে পারেন।
শাহ্ ওয়ালী উল্লাহর (র) মতে ব্যবসায়ীগণকে অন্যায় মুনাফা অর্জনের সুযোগ দেওয়া তো জগতে ফাসাদ ও আল্লাহর সৃষ্ট জীবের উপর ধ্বংস ডেকে আনার নামান্তর। তবে সর্বাবস্থায় হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসের দাবি এটাই যে, যথাসম্ভব তা থেকে বিরত থাকবে। এ পদক্ষেপ তখনি গৃহীত হবে, যখন ব্যবসায়ীগণের পক্ষ থেকে মুনাফা অর্জনের প্রবণতাধীনে জনসাধারণের সাথে প্রকাশ্য বাড়াবাড়ি চলে এবং কন্ট্রোলের কর্মপন্থা অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে।
ইমাম মালিক (র) মুআত্তায় হযরত সাঈদ ইব্ন মুসাইয়াব তাবিঈর বর্ণনায় লিপিবদ্ধ করেছেন যে, হযরত উমর (রা) মদীনার বাজারে সাহাবী হাতিব ইবনে 'আবী বালতা (রা)-কে দেখেন যে, তিনি শুষ্ক আংগুর (মুনাক্কা) এমন দরে বিক্রি করেছেন, যা হযরত উমর (রা)-এর নিকট অধিক অসংগত মনে হল। তিনি তাঁকে বললেনঃ
إِمَّا أَنْ تَزِيدَ فِي السّعْرِ - وَإِمَّا أَنْ تَرْفَعَ مِنْ سُوْقِنَا
হয় তুমি মূল্য বৃদ্ধি কর (অর্থাৎ মূল্য সংগত সীমা পর্যন্ত হ্রাস কর)। অথবা নিজের মাল আমাদের বাজার থেকে প্রত্যাহার কর। শরীয়তের সাধারণ নীতি এবং হযরত উমরের কথার আলোকে বিজ্ঞ আলিমগণ এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, অবস্থার প্রেক্ষিতে জনসাধারণকে ব্যবসায়ীদের অধিক লাভের লালসা থেকে রক্ষা কল্পে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আবশ্যকীয় দ্রব্যাদির মূল্য নির্ধারণ ও কন্ট্রোল প্রথা চালু করা চাই। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াও তাঁর কোন কোন রচনায় এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)