ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার

১৮. ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসা-বাণিজ্য

হাদীস নং: ২০৬০
ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসা-বাণিজ্য
বাজারে আসার পথে ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিক্রয় বাতিলের অধিকার রাখা মুসতাহাব
(২০৬০) আবু হুরাইরা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, (গ্রাম বা শহরতলী থেকে বাজারে বিক্রয়ের জন্য) আগত পণ্য পথিমধ্যে ক্রয় করবে না । যদি কেউ এভাবে আগত দ্রব্য পথিমধ্যে ক্রয় করে, এরপর পণ্যের মালিক বাজারে আগমন করে তবে তার (উক্ত বিক্রয় বাতিল করার বা রেখে দেওয়ার) এখতিয়ার বা অধিকার থাকবে।
كتاب البيوع
عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعا: لا تلقوا الجلب فمن تلقاه فاشترى منه فإذا أتى سيده السوق فهو بالخيار.

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

[ সহীহ মুসলিম, হাদীস-১৫১৯; সহীহ বুখারি, হাদীস-২১৬২; সুনান আবু দাউদ, হাদীস-৩৪৩৭; সুনান তিরমিযি, হাদীস-১২২১; সুনান নাসায়ি, হাদীস-৪৫০১; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস-২১৭৮]

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে এরূপও হত যে, লোকজন খাদ্যশস্য ইত্যাদি প্রয়োজনীয় দ্রব্য বাইরে থেকে এনে শহরের বাজারগুলোতে বিক্রি করত আর তা ছোট বড় কাফেলায় বিভক্ত হয়ে আসত। (এই ব্যবসায়ী কাফেলাগুলোকে جَلَبْ বলা হত।) চতুর ব্যবসায়ীগণ এরূপ করত যে, বাজার ও আড়তে পৌঁছার বহু পূর্বে, পথেই তাদের নিকট পৌঁছে মাল সওদা করে নিত। তাতে একথার প্রবল সম্ভাবনা থাকত যে, বাজারের মূল্য না জানার কারণে বাইরে থেকে মাল বহনকারী এসব ব্যবসায়ীদের নিকট সুলভ মূল্যে বিক্রি করে দিত; ফলে এতে সে ক্ষতিগ্রস্ত হত। এ ছাড়া এ পন্থায় অন্য এক বড় অনিষ্ট এই ছিল যে, বাইরে থেকে আগত সমুদয় খাদ্যশস্য ও অন্যান্য দ্রব্য এসব চালাক পুঁজিপতি ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যেত। এরপর তারা এইগুলো সাধারণ ভোক্তাদের নিকট স্বনির্ধারিত দামে বিক্রি করে সর্বাধিক মুনাফা অর্জন করত।

যদি মাল বাজারে এসে বিক্রি হত, তবে বহনকারীও ন্যায্য মূল্যে পেত। প্রয়োজনশীল সাধারণ লোকও ন্যায্য মূল্যে ক্রয় করতে সক্ষম হত। এ জন্যে রাসুলুল্লাহ ﷺ আলোচ্য হাদীসে নির্দেশ প্রদান করেন যে, খাদ্যদ্রব্য ইত্যাদি বহনকারীর সাথে বাজারে পৌঁছার পূর্বে পথে এসে মাল ক্রয় করা হবে না। আর যদি কেউ এভাবে কোন প্রণ্য ক্রয় করে তবে মাল বহনকারী যদি পৌঁছে অনুভব করে যে, বাজার মূল্য না জানার কারণে তার ক্ষতি হয়েছে তবে সে বেচা-কেনা বাতিল করার অধিকার রাখে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)