ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার

১৮. ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসা-বাণিজ্য

হাদীস নং: ২০৩৮
ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসা-বাণিজ্য
আগন্তুক আরোহী বিক্রেতাদের সাথে সাক্ষাৎ, অন্যের বিক্রয়ের মধ্যে বিক্রয়, দালালি, বেদুঈনের জন্য শহরবাসীর বিক্রয়, পশুর স্তনে দুধ জমা করা ও একজনের দামদরের মধ্যে অন্যের দামদর করার নিষেধাজ্ঞা
(২০৩৮) আয়িশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিধান দান করেছেন যে, 'দায়িত্বের বিনিময়ে উৎপাদন'। অর্থাৎ কোনো দ্রব্য যার অর্থিক দায়ভারের মধ্যে থাকবে তার উৎপাদন তিনিই লাভ করবেন।
كتاب البيوع
عن عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى أن الخراج بالضمان

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

(আহমাদ, নাসায়ি, ইবন মাজাহ, আবু দাউদ। তিরমিযি, ইবন খুযাইমা, ইবনুল জারূদ, ইবন হিব্বান ও ইবন কাত্তান হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন) । [মুসনাদ আহমাদ, হাদীস-২৪২২৪; সুনান নাসায়ি, হাদীস-৪৪৯০; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস-২২৪৩; সুনান আবু দাউদ, হাদীস-৩৫০৮; সুনান তিরমিযি, হাদীস-১২৮৫; মুনতাকা ইবনুল জারূদ, হাদীস-৬২৬; সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস-৪৯২৭]

** সূরা: [২] বাকারা, ১৯৪ আয়াত।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

বিক্রিত পশুর আর্থিক দায়িত্ব ক্রেতার উপর বর্তায়। পশুটি তার কাছে মৃত্যুবরণ করলে তিনিই আর্থিক দায়ভার বহন করবেন এবং এজন্য বিক্রেতা কোনো ক্ষতিপূরণ দিবেন না। কাজেই তার আর্থিক দায়ভারের মধ্যে থাকা অবস্থায় পশুটি যে দুধ প্রদান করবে তা মূলত তারই পাওনা । এজন্য বিক্রেতাকে কোনো ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিচার বিভাগীয় বিধান প্রদান করা যায় না । এছাড়া ইসলামের অন্য মূলনীতি হল, 'সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা । কাজেই ক্রয়ের পরে যে দুধ দোহন করা হবে, তার মালিকানা যদি বিক্রেতার হয় তবে ক্ষতিপূরণ বাবদ সর্বাবস্থায় এক সা' খেজুর প্রদান করা বিচার বিভাগীয় বিধান হবে না। বরং দোহনকৃত দুধের পরিমাণ অনুসারে তা কম বা বেশি হবে । কুরআন কারীমে ইরশাদ করা হয়েছে: فمن اعتدى عليكم فاعتدوا عليه بمثل ما اعتدى عليكم ‘সুতরাং যে কেউ তোমাদেরকে আক্রমণ করবে, তোমরাও তাকে অনুরূপ আক্রমণ করবে।'**
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান