ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার

৬. হজ্ব - উমরার অধ্যায়

হাদীস নং: ১৪০৭
হজ্ব - উমরার অধ্যায়
মক্কায় আগমনের সময় তাওয়াফ এবং কীভাবে তাওয়াফ করতে
(১৪০৭) জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মক্কায় আগমন করলেন তখন তিনি হাজারে আসওয়াদের নিকট এসে তাকে স্পর্শ করলেন (হাত দিয়ে বা মুখ দিয়ে)। অতঃপর তিনি তাঁর ডানদিকে হ্যাঁটলেন । তিনি তিন চক্কর দৌড়ালেন এবং চার চক্কর হ্যাঁটলেন।
كتاب الحج
عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما قدم مكة أتى الحجر فاستلمه ثم مشى على يمينه فرمل ثلاثا ومشى أربعا

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

[ সহীহ মুসলিম, হাদীস-১২১৮]

হাদীসের ব্যাখ্যা:

প্রত্যেক তাওয়াফ হাজরে আসওয়াদের 'ইসতিলাম' দ্বারা শুরু হয়। ইসতিলামের অর্থ হচ্ছে হাজরে আসওয়াদকে চুমু খাওয়া অথবা এর উপর হাত রেখে অথবা হাত ঐ দিকে করে ঐ হাতকেই চুমু দেওয়া। এ ইসতিলাম করেই তাওয়াফ শুরু করা হয় এবং প্রতিটি তাওয়াফে খানায়ে কাবাকে সাতবার প্রদক্ষিণ করা হয়।

"রমল" এক বিশেষ ভঙ্গির চলনকে বলে, যার মধ্যে শক্তি ও বীরত্বের প্রকাশ ঘটে। বিভিন্ন রেওয়ায়াতে এসেছে যে, ৭ম হিজরীতে যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাহাবায়ে কেরামের এক বিরাট জামাআত নিয়ে উমরার জন্য মক্কা শরীফ আসলেন, তখন সেখানকার অধিবাসীরা পরস্পর বলাবলি করল যে, ইয়াসরিব অর্থাৎ মদীনার খারাপ আবহাওয়া, জ্বর ইত্যাদি রোগ-বালাই এ লোকদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কানে যখন একথা পৌঁছল তখন তিনি তাদেরকে হুকুম দিলেন যে, তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে রমল অর্থাৎ, বীরদর্পে চলবে এবং এভাবে শক্তি ও শৌর্য-বীর্যের মহড়া প্রদর্শন করবে। সুতরাং এর উপরই আমল করা হল। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলার কাছে ঐ সময়ের এ ভঙ্গিমাটি এমন পছন্দ হল যে, এটাকে একটি পৃথক সুন্নত সাব্যস্ত করে দেওয়া হল। বর্তমানে এ পদ্ধতি ও নিয়মই চালু রয়েছে, হজ্ব অথবা উমরা পালনকারী প্রথম যে তাওয়াফটি করে এবং যার পর তাকে সাফা-মারওয়ার মাঝে সায়ীও করতে হয়, এর প্রথম তিন চক্করে রমল করা হয় এবং বাকী চক্করগুলোতে স্বাভাবিক গতিতে চলা হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান