ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার
৩. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ৬০১
নামাযের অধ্যায়
রুকু ও সাজদার মধ্যে কুরআন পাঠ নেই
(৬০১) ইবন আব্বাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, শুনে রাখো! আমাকে রুকু ও সাজদারত অবস্থায় কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তোমরা রুকুতে প্রভুর তা'যীম-মহিমা বর্ণনা করবে। আর সাজদায় তোমরা বেশী বেশী দুআ করবে; কারণ তোমাদের এই দুআ কবুল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশী।
كتاب الصلاة
عن ابن عباس رضي الله عنهما مرفوعا: ألا وإني هيت أن أقرأ القرآن راكعا أو ساجدا فأما الركوع فعظموا فيه الرب عز وجل وأما السجود فاجتهدوا في الدعاء فقمن أن يستجاب لكم
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
(সহীহ মুসলিম, হাদীস-৪৭৯]
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কুরআন পাঠ করা সালাতের গুরুত্বপূর্ণ একটি রুকন, তবে কুরআন পঠিত হবে কিয়াম অবস্থায়। আল্লাহর কালাম দাঁড়ানো অবস্থায়-ই পাঠ করা উপযোগী। কারণ শাহী ফরমান দাঁড়ানো অবস্থায়ই পাঠ করা হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে রুকু ও সিজদায় আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা, নিজ দাসত্ব প্রকাশ এবং তাঁর মহান দরবারে দু'আ ক্ষমা চাওয়ার উপযুক্ত স্থান। রাসূলুল্লাহ ﷺ আজীবন এ আমলই করে গেছেন এবং নিজ বাণীও প্রদান করেছেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ সিজদায় 'সুবহানা রাব্বিয়াল আলা' পাঠ করতেন এবং এ বিষয়ে যে উম্মাতকে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন এবং নিজেও আমল করে দেখিয়েছেন তা পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে। এই হাদীসে তিনি সিজদায় দু'আ করার বিষয়ে সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তবে এ দু'টি বিষয়ের কোন বৈপরীত্য নেই। দু'আ ও প্রার্থনা করার সহজ পদ্ধতি হচ্ছে, বান্দা নিজ প্রভুর কাছে পরিষ্কার করে তার প্রয়োজনের কথা জানাবে। তবে এর একটি পদ্ধতি হচ্ছে এই যে, যাঁর কাছে কিছু চাওয়া হবে তাঁর কাছে পূর্ণ নিঃস্ব ও অসহায় ভাব প্রদর্শন করে তাঁর গুণকীর্তন করতে হবে। দুনিয়াতেও আমরা এহেন বহু যাচ্ঞাকারীকে এরূপ প্রার্থনা করতে দেখি। মোটকথা এও হচ্ছে দু'আ করার অন্যতম পদ্ধতি। এর ভিত্তিতেই হাদীসে আল্-হামদুল্লিল্লাহ কে সর্বশ্রেষ্ঠ দু'আ বলা হয়েছে। (তিরমিযী) এই সূত্র বলা যায় যে, 'সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা'ও একপ্রকার দু'আ। সুতরাং কোন ব্যক্তি যদি সিজদায় বারংবার এই তাসবীহ্ পাঠ করে, তবে তাও দু'আ রূপে গণ্য হবে। তবে হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সিজদার যেসব দু'আ হয়েছে, সেগুলোর মর্যাদাই আলাদা।
রাসূলুল্লাহ ﷺ সিজদায় 'সুবহানা রাব্বিয়াল আলা' পাঠ করতেন এবং এ বিষয়ে যে উম্মাতকে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন এবং নিজেও আমল করে দেখিয়েছেন তা পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে। এই হাদীসে তিনি সিজদায় দু'আ করার বিষয়ে সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তবে এ দু'টি বিষয়ের কোন বৈপরীত্য নেই। দু'আ ও প্রার্থনা করার সহজ পদ্ধতি হচ্ছে, বান্দা নিজ প্রভুর কাছে পরিষ্কার করে তার প্রয়োজনের কথা জানাবে। তবে এর একটি পদ্ধতি হচ্ছে এই যে, যাঁর কাছে কিছু চাওয়া হবে তাঁর কাছে পূর্ণ নিঃস্ব ও অসহায় ভাব প্রদর্শন করে তাঁর গুণকীর্তন করতে হবে। দুনিয়াতেও আমরা এহেন বহু যাচ্ঞাকারীকে এরূপ প্রার্থনা করতে দেখি। মোটকথা এও হচ্ছে দু'আ করার অন্যতম পদ্ধতি। এর ভিত্তিতেই হাদীসে আল্-হামদুল্লিল্লাহ কে সর্বশ্রেষ্ঠ দু'আ বলা হয়েছে। (তিরমিযী) এই সূত্র বলা যায় যে, 'সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা'ও একপ্রকার দু'আ। সুতরাং কোন ব্যক্তি যদি সিজদায় বারংবার এই তাসবীহ্ পাঠ করে, তবে তাও দু'আ রূপে গণ্য হবে। তবে হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সিজদার যেসব দু'আ হয়েছে, সেগুলোর মর্যাদাই আলাদা।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)