ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার
১- সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ
হাদীস নং: ১৩
- সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ
ইজতিহাদ ও কিয়াসের প্রামাণ্যতা
(১৩) আমর ইবন আস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, যখন বিচারক বা শাসক বিচার বা বিধান প্রদান করেন এবং সঠিক বিধান প্রদানের জন্য নিজের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সাহায্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করেন (ইজতিহাদ করেন), তখন যদি তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেন, তাহলে তিনি দুইটি পুরস্কার লাভ করবেন। আর যদি তিনি বিচার বা বিধান প্রদান করতে গিয়ে ইজতিহাদ করেন এবং ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হন তাহলে তিনি একটি পুরস্কার লাভ করবেন।
كتاب الجامع
عن عمرو بن العاص رضي الله عنه أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: إذا حكم الحاكم فاجتهد فأصاب فله أجران وإذا حكم (فاجتهد) فأخطأ فله أجر.
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
(বুখারি ও মুসলিম)। [সহীহ বুখারি, হাদীস-৭৩৫২; সহীহ মুসলিম, হাদীস-১৭১৬; সুনান আবু দাউদ, হাদীস-৩৫৭৪; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস-২৩১৪]
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীস থেকে একটি বড় মূলনীতি এই জানা গেল যে, যদি হাকিম ও মুজতাহিদ কোন বিষয় ও মাসআলায় সত্যকে জানার যথাসাধ্য চেষ্টা করে, তখন সে যদি সঠিক পরিণতিতে পৌঁছতে সক্ষম না হয় তবু সে আল্লাহর নিকট প্রতিদান ও পুরস্কারের যোগ্য হবে। কেননা, সত্য ও সঠিক বিষয় জানার তার নিয়ত ছিল। আর এ জন্য যে চিন্তা-ভাবনা, পরিশ্রম ও চেষ্টা করেছে। এজন্য সে আদিষ্ট ছিল। তবে একথা সুস্পষ্ট যে, এর সম্পর্ক এ বিষয়ে যোগ্য লোকদের সাথে রয়েছে। অযোগ্য লোকদের ইজতিহাদ করার কেউই অনুমতি দিতে পারে না।
যে ব্যক্তি প্রাচীন বা আধুনিক চিকিৎসা বিদ্যা অর্জন করেনি, সে যদি চিকিৎসালয় খুলে বসে যায় এবং রোগীদের চিকিৎসা করে তবে সে অপরাধী ও জেলখানার যোগ্য হবে। আমাদের ভাষায় যথার্থ উপমা হচ্ছে- "অর্ধ চিকিৎসক প্রাণের শংকা আর অর্ধ মোল্লা ঈমানের শংকা।" অন্য হাদীসে বিশদভাবে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও যোগ্যতা ছাড়া ফায়সালা করে, সে দোযখের যোগ্য।
যে ব্যক্তি প্রাচীন বা আধুনিক চিকিৎসা বিদ্যা অর্জন করেনি, সে যদি চিকিৎসালয় খুলে বসে যায় এবং রোগীদের চিকিৎসা করে তবে সে অপরাধী ও জেলখানার যোগ্য হবে। আমাদের ভাষায় যথার্থ উপমা হচ্ছে- "অর্ধ চিকিৎসক প্রাণের শংকা আর অর্ধ মোল্লা ঈমানের শংকা।" অন্য হাদীসে বিশদভাবে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও যোগ্যতা ছাড়া ফায়সালা করে, সে দোযখের যোগ্য।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)