আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

১৮- বিবিধ প্রসঙ্গ।

হাদীস নং: ৯৮৯
- বিবিধ প্রসঙ্গ।
মৃত জন্তুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা।
৯৮৯। উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে (মুরসাল সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ একটি মৃত বকরীর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি এটা তাঁর স্ত্রী মাইমূনা (রাযিঃ)-র এক মুক্তদাসকে দান করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ এর চামড়া তোমরা কাজে লাগাওনি কেন? লোকেরা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এটা তো মৃত জীব। তিনি বলেনঃ এটা খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করাই কেবল হারাম।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এ হাদীস গ্রহণ করেছি। মৃত জীবের চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার পর তা পাক হয়ে যায়। প্রক্রিয়াজাত করাই হচ্ছে তা পবিত্র করা। তা কাজে লাগানোয় কোন দোষ নেই। তা বিক্রি করায়ও কোন দোষ নেই। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং আমাদের ফিকহবিদ সাধারণের এই মত।**
الابواب الجامعة
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَاةٍ كَانَ أَعْطَاهَا مَوْلًى لِمَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَيْتَةٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلا انْتَفَعْتُمْ بِجِلْدِهَا» ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا مَيْتَةٌ، قَالَ: «إِنَّمَا حُرِّمَ أَكْلُهَا» .
قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، إِذَا دُبِغَ إِهَابُ الْمَيْتَةِ فَقَدْ طَهُرَ، وَهُوَ ذَكَاتُهُ، وَلا بَأْسَ بِالانْتِفَاعِ بِهِ، وَلا بَأْسَ بِبَيْعِهِ.
وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا رَحِمَهُمُ اللَّهُ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** জমহূর আলেমদের মতে মৃত জীবের চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার পর তা পাক হয়ে যায় এবং তা কাজে লাগানো জায়েয। তারা এ থেকে মানুষের চামড়া (তার মর্যাদার কারণে) এবং শূকর ও কুকুরের চামড়া (তা মূলগতভাবেই হারাম ও নাপাক হওয়ার কারণে) এই নির্দেশের বাইরে রেখেছেন। তা প্রক্রিয়াজাত করার পরও হারাম থেকে যায় এবং তার ব্যবহার জায়েয নয়। হানাফী আলেমদের এই মত। আওযাঈ, ইবনুল মুবারক ও ইসহাকের মতে, যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া হালাল, কেবল সেগুলোর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার পর ব্যবহার করা জায়েয। অপরদিকে উমার, ইবনে উমার ও আয়েশা (রা)-র মতে মৃত জীবের চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার পরও তা পাক হয় না, নাপাকই থেকে যায়। ইমাম আহমাদও প্রথমে এই মত পোষণ করতেন। পরে তিনি জমহূরের মত গ্রহণ করেন। ইমাম যুহরীর মতে মৃত জীবের চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার পূর্বেই কাজে লাগানো জায়েয। এখানে আরো একটি কথা মনে রাখা দরকার যে, মৃত জীবের গোশত খাওয়াই হারাম করা হয়েছে। কিন্তু এর কোন অঙ্গ (যেমন হাড়, শিং ইত্যাদি) কাজে লাগানো নাজায়েয নয় (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান