আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

৯- কুরবানী,জবাই ও শিকারের বিধান

হাদীস নং: ৬৫৩
- কুরবানী,জবাই ও শিকারের বিধান
গর্ভবতী পশুর পেটের বাচ্চা যবেহ করার বর্ণনা।
৬৫৩। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহঃ) বলতেন, যবেহকৃত পশুর পেটের বাচ্চা যদি পূর্ণাঙ্গ দেহবিশিষ্ট হয় এবং তার শরীরে লোম উঠে থাকে – তাহলে তার মাকে যবেহ করাই তাকে যবেহ করা বলে গণ্য হবে।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এই মত গ্রহণ করেছি। যখন বাচ্চার গঠন পূর্ণাংগ হয়ে যাবে তখন তার মাকে যবেহ করাই তাকে যবেহ করা বলে গণ্য হবে। এজন্য তা খেতে কোন দোষ নেই। কিন্তু ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এই বাচ্চার গোশত খাওয়া মাকরূহ মনে করেন। তবে তা পেট থেকে জীবন্ত বের হয়ে আসলে অতঃপর যবেহ করে নিলে এর গোশত খাওয়া যেতে পারে। তিনি হাম্মাদের সূত্রে তিনি ইবরাহীম নাখঈর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একটি পশুকে যবেহ করলে তা অন্যটিকেও যবেহ করা হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে না।
كتاب الضحايا وما يجزئ منها
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: ذَكَاةُ مَا كَانَ فِي بَطْنِ الذَّبِيحَةِ ذَكَاةُ أُمِّهِ إِذَا كَانَ قَدْ نَبَتَ شَعْرُهُ، وَتَمَّ خَلْقُهُ، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ إِذَا تَمَّ خَلْقُهُ، فَذَكَاتُهُ فِي ذَكَاةِ أُمِّهِ، فَلا بَأْسَ بِأَكْلِهِ، فَأَمَّا أَبُو حَنِيفَةَ فَكَانَ يَكْرَهُ أَكْلَهُ حَتَّى يَخْرُجَ حَيًّا فَيُذَكَّى، وَكَانَ يَرْوِي، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، أَنَّهُ قَالَ: لا تَكُونُ ذَكَاةُ نَفْسٍ ذَكَاةَ نَفْسَيْنِ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** ‘যাকাতুল-জানীন যাকাতু উম্মিহি’ (গর্ভবতী পশুকে যবেহ করাই তার পেটের বাচ্চার জন্য যথেষ্ট) হাদীসটি মোট এগারজন সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছেঃ আবু সাঈদ খুদরী (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজা, আহমাদ), জাবের (আবু দাউদ), আবু হুরায়রা (হাকেম), ইবনে উমার (হাকেম, দারু কুতনী), আবু আইউব আনসারী (হাকেম), ইবনে মাসউদ (দারু কুতনী), ইবনে আব্বাস (দারু কুতনী), কাব ইবনে মালেক (তাবারানী), আবু উমামা, আবু দারদা (বাযযার, তাবারানী) ও আলী (দারু কুতনী) রাদিয়াল্লাহু আনহুম। গর্ভবতী পশু সাধারণত যবেহ করা হয় না। কিন্তু অজান্তে অথবা অসতর্কতাবশত তা যবেহ করা হলে এবং তার পেট থেকে পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা বের হলে—এই বাচ্চার গোশত খাওয়ায় কোন দোষ নেই। বাচ্চা জীবন্ত বের হলে সকল বিশেষজ্ঞের মতেই তা যবেহ করতে হবে। এক্ষেত্রে তার মায়ের যবেহ তার জন্য যথেষ্ট হবে না। বাচ্চা পূর্ণাঙ্গ না হলে তা ফেলে দিবে। ইমাম মালেকেরও এই মত। কিন্তু ইমাম আবু হানীফা ও যুফারের মতে, বাচ্চা মৃত বের হলে তা খাওয়া যাবে না। ইমাম আহমাদ ও শাফিঈর মতে অপূর্ণাঙ্গ বাচ্চা হলেও তার গোশত খাওয়া যাবে (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান