আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

৮- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৮৮
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
লিআন-এর বর্ণনা।
৫৮৮ । ইবনে উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর যমানায় নিজ স্ত্রীর সাথে লিআন করে এবং তার সন্তান অস্বীকার করে। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলেন এবং সন্তানকে স্ত্রীর সাথে মিলিত করলেন।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এ হাদীস অনুযায়ী আমল করি। কোন ব্যক্তি সন্তান অস্বীকার করলে এবং স্ত্রীর সাথে লিআন করলে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিতে হবে এবং সন্তান স্ত্রীকে দিতে হবে। ইমাম আবু হানীফা এবং আমাদের সকল ফিকহবিদের এটাই সাধারণ মত।
كتاب الطلاق
بَابُ: اللِّعَانِ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ «رَجُلا لاعَنَ امْرَأَتَهُ فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَانْتَفَى مِنْ وَلَدِهَا، فَفَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَهُمَا، وَأَلْحَقَ الْوَلَدَ بِالْمَرْأَةِ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، إِذَا نَفَى الرَّجُلُ وَلَدَ امْرَأَتِهِ، وَلاعَنَ فُرِّقَ بَيْنَهُمَا، وَلَزِمَ الْوَلَدُ أُمَّهُ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا رَحِمَهُمُ اللَّهُ تَعَالَى

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** লিআন (لعان) শব্দের অর্থ 'অভিশাপযুক্ত শপথ।' স্বামী যদি স্ত্রীর উপর যেনার অভিযোগ আনে অথবা সন্তানকে এই বলে অস্বীকার করে যে, এ সন্তান তার ঔরসজাত নয় এবং এর সপক্ষে কোন চাক্ষুস সাক্ষ্য-প্রমাণও না থাকে, অপরদিকে স্ত্রীও যদি তার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে—এ অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী উভয়কে অথবা যে কোন একজনকে নিজ দাবির সমর্থনে বিচারকের সামনে নির্দিষ্ট পন্থায় শপথ করতে হয়। এই শপথকে ফিকহের পরিভাষায় লিআন (অভিশাপযুক্ত শপথ) বলে। কুরআন মজীদে এ সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ

والذين يرمون أزواجهم ولم يكن لهم شهداء الأ أنفسهم فشهادة أحدهم أربع شهدت بالله انه لمن الصدقين . والخامسة أن لعنة الله عليه ان كان من الكاذبين . ويدروا عنها العذاب أن تشهد أربع شهدت بالله انه لمن الكاذبين . والخامسة أن غضب الله عليها ان كان من الصدقين .

“আর যারা নিজেদের স্ত্রীদের সম্পর্কে (যেনার) অভিযোগ তোলে এবং তাদের কাছে তাদের নিজেদের ছাড়া অপর কোন সাক্ষী না থাকে, তাহলে তাদের মধ্যকার এক ব্যক্তির সাক্ষ্য (এই যে, সে) চারবার আল্লাহ্ নামে শপথ করে সাক্ষ্য দিবে যে, সে (তার আনীত অভিযোগে) সত্যবাদী। আর পঞ্চমবারে বলবে যে, সে যদি (তার আনীত অভিযোগে) মিথ্যাবাদী হয়, তাহলে তার উপর আল্লাহর অভিসম্পাত। আর স্ত্রীলোকটির শাস্তি এভাবে রহিত হতে পারে যে, সে চারবার আল্লাহর নামে শপথ করে সাক্ষ্য দিবে যে, এই ব্যক্তি (তার আনীত অভিযোগে) মিথ্যাবাদী। আর পঞ্চমবারে বলবে যে, এই দাসীর উপর আল্লাহর অভিসম্পাত হোক- যদি সে (তার আনীত অভিযোগে) সত্যবাদী হয়" (সূরা নূরঃ ৬-৯)।
লিআন করার পর বৈবাহিক সম্পর্কের পরিণতি কি হবে? ইমাম শাফিঈর মতে, স্বামী যে মুহূর্তে লিআন করা শেষ করবে ঠিক তখনই বিবাহ বন্ধন ছিন্ন হয়ে যাবে, স্ত্রী লিআন করুক আর নাই করুক। ইমাম মালেক (র)-র মতে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের লিআন শেষ হওয়ার পর বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হবে। ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদের মতে, লিআন দ্বারা সরাসরি বিবাহ-বিচ্ছেদ হয় না। বরং আদালত কর্তৃক বিচ্ছেদ করলেই কেবল বিচ্ছেদ হয়। স্বামী নিজে তালাক দিলেই উত্তম। অন্যথায় বিচারক উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘোষণা করবেন।
ইমাম মালেক, শাফিঈ, আহমাদ ইবনে হাম্বল ও আবু ইউসুফের মতে, যে স্বামী-স্ত্রী লিআনের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হয়েছে তারা চিরদিনের জন্য পরস্পরের প্রতি হারাম। তারা পুনরায় কখনো পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না। কিন্তু ইমাম আবু হানীফা ও মুহাম্মাদের মতে, স্বামী যদি নিজের অভিযোগ মিথ্যা বলে স্বীকার করে নেয় এবং “যেনার মিথ্যা অপবাদের" শাস্তি ভোগ করে, তাহলে তারা পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। অন্যথায় পুনর্বার দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করা হারাম (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)