আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

৬- হজ্ব - উমরার অধ্যায়

হাদীস নং: ৫২৬
- হজ্ব - উমরার অধ্যায়
মুহরের নিম্নতম পরিমাণ।**
৫২৬। আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) নবী ﷺ এর কাছে এলেন তখন তাঁর দেহে হলুদের চিহ্ন ছিলো। তিনি তাঁকে জানান যে, তিনি এক আনসারী মহিলাকে বিবাহ করেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞেস করেনঃ তাকে কতো মুহর (মাহর) দিয়েছো? তিনি বলেন, একটি খেজুর বিচির সম-পরিমাণ সোনা। তিনি বলেনঃ বিবাহ-ভোজের আয়োজন করো, একটি বকরী দিয়ে হলেও।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এ হাদীস অনুযায়ী আমল করি। মুহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ হচ্ছে দশ দিরহাম, যে পরিমাণ অর্থ চুরি করলে হাত কাটা যায় । ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং অধিকাংশ হানাফী ফিকহবিদের এটাই সাধারণ মত।
كتاب الحج
بَابُ: أَدْنَى مَا يَتَزَوَّجُ الرَّجُلُ عَلَيْهِ الْمَرْأَةَ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْهِ أَثَرُ صُفْرَةٍ فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ " تَزَوَّجَ امْرَأَةً مِنَ الأَنْصَارِ، قَالَ: كَمْ سُقْتَ إِلَيْهَا؟ قَالَ: وَزْنُ نَوَاةٍ مِنْ ذَهَبٍ، قَالَ: أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ "، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، أَدْنَى الْمَهْرُ عَشَرَةُ دَرَاهِمَ مَا تُقْطَعُ فِيهِ الْيَدُ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** যে অর্থের বিনিময়ে একজন পুরুষ বিবাহের মাধ্যমে একজন স্ত্রীলোককে নিজের জন্য হালাল করে, তাকে মুহর বলে। বিবাহ-বন্ধন শুদ্ধ হওয়ার জন্য মুহর নির্দ্ধারণ একটি অন্যতম শর্ত। বিবাহ অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারিত মুহর স্ত্রীর হাতে অর্পণ করা স্বামীর উপর ফরয। মহান আল্লাহ বলেনঃ “যেসব মহিলাকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য হালাল করা হলো, তাদের তোমরা নিজেদের মালের বিনিময়ে গ্রহণ করো” (সূরা নিসাঃ ২৪)। “তোমরা খুশিমনে নারীদের মুহর পরিশোধ করো” (সূরা নিসাঃ ৪)। এসব আয়াতের ভিত্তিতে ইমামগণ বলেছেন, মুহর প্রদান ব্যতীত বিবাহ জায়েয নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি বিবাহ করে নিয়াত করলো যে, সে মুহর আদায় করবে না, সে যেনাকারী হিসাবে মৃত্যুবরণ করবে" (তাবারানী)। রাসূলুল্লাহ ﷺ আরো বলেনঃ “যে ব্যক্তি মুহরের বিনিময়ে কোন স্ত্রীলোককে বিবাহ করে, কিন্তু মুহর পরিশোধ করার নিয়াত রাখে না, সে ব্যভিচারী। আর যে ব্যক্তি ঋণ গ্রহণ করে তা ফেরত দেয়ার নিয়াত রাখে না সে আসলে চোর” (স্বামী-স্ত্রীর অধিকার গ্রন্থ থেকে নেয়া)।

মুহরের উচ্চতম পরিমাণ নির্ধারিত নেই। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেনঃ “স্ত্রীদের কাউকে অঢেল সম্পদ দান করে থাকলেও তোমরা তা ফেরত নিতে পারবে না” (সূরা নিসাঃ ২০)। ইমাম শাফিঈর মতে মুহরের নিম্নতম পরিমাণ যতো কমই হোক বিবাহ জায়েয হবে। ইমাম মালেকের মতে এর নিম্নতম পরিমাণ তিন দিরহাম এবং ইমাম আবু হানীফার মতে দশ দিরহাম।
বিবাহ-ভোজের আয়োজন করা সুন্নাত, তবে বাহুল্য প্রদর্শন নাজায়েয। এ অনুষ্ঠান করার সামর্থ্য না থাকলে তা করবে না। কারণ তা করতে গিয়ে অনেক পরিবারকে আর্থিক দিক থেকে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখা গেছে। বিবাহ-ভোজে ধনীদের দাওয়াত করা এবং গরীবদের উপেক্ষা করা আপত্তিকর। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ “সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট বিবাহ-ভোজ হচ্ছে, যেখানে ধনীদের দাওয়াত দেয়া হয় এবং দরিদ্রদের বাদ দেয়া হয়” (বুখারী, মুসলিম)। দাওয়াত না পেয়েও বিবাহ-ভোজে যাওয়া নিষেধ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ “যে ব্যক্তি দাওয়াত না পেয়েও বিবাহ-ভোজে উপস্থিত হয়েছে, সে চোররূপে ঢুকেছে এবং ডাকাতরূপে বের হয়ে এসেছে” (আবু দাউদ) (অনুবাদক)।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ওলীমা বলা হয় ওই দাওয়াতের অনুষ্ঠানকে, যা বিবাহের পর ছেলের বাড়িতে করা হয়ে থাকে। এটা করা সুন্নত। সামর্থ্য অনুযায়ী এটা করা উচিত। আর এটা যেহেতু সুন্নত, তখন করাও উচিত সুন্নতের মর্যাদা রক্ষা করে শরীআতবিরোধী কোনও কর্মকাণ্ড তাতে যুক্ত করা বাঞ্ছনীয় নয়। হযরত আব্দুর রহমান ইবন আওফ রাযি. বিবাহ করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে হুকুম করলেন أولم ولو بشاة “তুমি ওলীমা কর, যদিও একটি ছাগল দ্বারা হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)
আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ - হাদীস নং ৫২৬ | মুসলিম বাংলা