আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ
৬- হজ্ব - উমরার অধ্যায়
হাদীস নং: ৫২৫
- হজ্ব - উমরার অধ্যায়
একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা বিধান ও পালা বণ্টন।
৫২৫। আব্দুল মালিক ইবনে আবু বাকর ইবনুল হারিছ ইবনে হিশাম (রাহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী ﷺ বাসররাত অতিবাহিত করে ভোরবেলা স্ত্রী উম্মে সালামা (রাযিঃ)-কে বলেনঃ “আমি এমন কাজ করবো না যার কারণে তোমাকে তোমার লোকদের মধ্যে অপমানিত হতে হবে। যদি তোমার পছন্দ হয় তবে সাত দিন আমি তোমার কাছে কাটাবো এবং সাত দিন অপর স্ত্রীদের কাছে কাটাবো। আর যদি তুমি চাও তবে তিন দিন তোমার কাছে কাটাবো এবং একদিন করে অপর স্ত্রীদের কাছে কাটাবো।” উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেন, তিন দিনের পালা বণ্টন করুন।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এ হাদীসের উপর আমল করি। নতুন স্ত্রীর কাছে সাত দিন কাটাবে এবং অপর স্ত্রীদের কাছে সাত দিন। আর নতুন স্ত্রীর কাছে তিন দিন অবস্থান করলে অন্য স্ত্রীদের কাছেও তিন দিন অবস্থান করতে হবে। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং আমাদের সকল ফিকহবিদের এটাই সাধারণ মত।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এ হাদীসের উপর আমল করি। নতুন স্ত্রীর কাছে সাত দিন কাটাবে এবং অপর স্ত্রীদের কাছে সাত দিন। আর নতুন স্ত্রীর কাছে তিন দিন অবস্থান করলে অন্য স্ত্রীদের কাছেও তিন দিন অবস্থান করতে হবে। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং আমাদের সকল ফিকহবিদের এটাই সাধারণ মত।
كتاب الحج
بَابُ: الرَّجُلِ تَكُونُ عِنْدَهُ نِسْوَةٌ كَيْفَ يَقْسِمُ بَيْنَهُنَّ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ بَنَى بِأُمِّ سَلَمَةَ، قَالَ لَهَا حِينَ أَصْبَحَتْ عِنْدَهُ: «لَيْسَ بِكِ عَلَى أَهْلِكِ هَوَانٌ، إِنْ شِئْتِ سَبَّعْتُ عِنْدَكِ وَسَبَّعْتُ عِنْدَهُنَّ، وَإِنْ شِئْتِ ثَلَّثْتُ عِنْدَكِ وَدُرْتُ» ، قَالَتْ: ثَلِّثْ، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ يَنْبَغِي إِنْ سَبَّعَ عِنْدَهَا أَنْ يُسَبِّعَ عِنْدَهُنَّ لا يَزِيدُ لَهَا عَلَيْهِنَّ شَيْئًا وَإِنْ ثَلَّثَ عِنْدَهَا أَنْ يُثَلِّثَ عِنْدَهُنَّ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
** ইসলাম চারের সীমা পর্যন্ত একাধিক স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে সত্য, কিন্তু সাথে সাথে কঠোর শর্তও আরোপ করেছে। বাসস্থান, খোরপোষ, রাত যাপন, আচার-ব্যবহার ইত্যাদি সবদিক থেকেই স্ত্রীদের মধ্যে সমতা বিধান করতে হবে। যদি কেউ আশংকা করে যে, সে একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা বিধান করতে সক্ষম হবে না, তবে তার পক্ষে এক স্ত্রীতেই সন্তুষ্ট থাকা উত্তম। মহান আল্লাহ বলেনঃ “যদি তোমরা আশংকা করো যে, তোমরা একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা বিধান করতে পারবে না, তাহলে এক স্ত্রীতেই সীমাবদ্ধ থাকো” (সূরা নিসাঃ ৩)। আমাদের সমাজে যেভাবে একাধিক বিবাহের মহড়া চলছে এবং স্ত্রীদের সাথে ইতরের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে, তা আল্লাহর বিধান এবং তাঁর রাসূলের নির্দেশ সম্পর্কে অজ্ঞতারই ফল। আইন করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সুশিক্ষার মাধ্যমে জনগণের নৈতিক চেতনা ও বিবেককে জাগ্রত করতে পারলে এর সামাধান সহজ হবে এবং স্থায়ী ফল পাওয়া যাবে।
ইবনে আবদুল বার বলেন, হাদীসটি দৃশ্যত সনদসূত্র কর্তিত বলে মনে হয়। আসলে এর সনদ পরস্পর সংযুক্ত (মুত্তাসিল) আছে। আবু বা সরাসরি উম্মে সালামা (রা)-এর নিকট হাদীসটি শুনেছেন। যেমন মুসলিম, আবু দাউদ ও ইবনে মাজায় তা মুত্তাসিল সনদে বর্ণিত হয়েছে (অনুবাদক)।
ইবনে আবদুল বার বলেন, হাদীসটি দৃশ্যত সনদসূত্র কর্তিত বলে মনে হয়। আসলে এর সনদ পরস্পর সংযুক্ত (মুত্তাসিল) আছে। আবু বা সরাসরি উম্মে সালামা (রা)-এর নিকট হাদীসটি শুনেছেন। যেমন মুসলিম, আবু দাউদ ও ইবনে মাজায় তা মুত্তাসিল সনদে বর্ণিত হয়েছে (অনুবাদক)।