আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

৫- রোযার অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৬৪
- রোযার অধ্যায়
ইফতারে বিলম্ব করা।
৩৬৪। সাহল ইবনে সাদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেনঃ লোকেরা যতোদিন তাড়াতাড়ি ইফতার করবে, ততোদিন তারা কল্যাণের সাথে থাকবে।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, ইফতার ও মাগরিবের নামাযে বিলম্ব না করা উত্তম। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং অন্যসব আলেমেরও এই মত।
أبواب الصيام
بَابُ: تَعْجِيلِ الإِفْطَارِ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، حَدَّثَنَا أَبُو حَازِمِ بْنُ دِينَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، أَنّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الإِفْطَارَ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: تَعْجِيلُ الإِفْطَارِ، وَصَلاةِ الْمَغْرِبِ أَفْضَلُ مِنْ تَأْخِيرِهِمَا، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ، وَالْعَامَّةِ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ বিষয়বস্তুর একটি হাদীস মুসনাদে আহমাদে হযরত আবু যর গেফারী রাযি. থেকেও বর্ণিত হয়েছে। সেখানে 'শীঘ্র ইফতার করবে' কথাটির পর 'দেরী করে সাহরী খাবে' বাক্যটিও এসেছে। অর্থাৎ, এ উম্মতের অবস্থা ততদিন পর্যন্ত ভাল থাকবে, যতদিন পর্যন্ত ইফতারে তাড়াতাড়ি করা এবং সাহরীতে দেরী করা তাদের কর্মনীতি থাকবে। এর রহস্য এই যে, শীঘ্র ইফতার করা এবং দেরী করে সাহরী খাওয়া এটা হচ্ছে শরী‘আতের হুকুম এবং আল্লাহর মর্জির অনুসরণ। আর এতে আল্লাহর বান্দাদের জন্য আসানীও রয়েছে, যা আল্লাহর রহমত ও কৃপাদৃষ্টির একটি স্বতন্ত্র মাধ্যম। এ জন্য উম্মত যে পর্যন্ত এর উপর আমল করতে থাকবে, সে পর্যন্ত তারা আল্লাহর কৃপাদৃষ্টি লাভের যোগ্য থাকবে এবং তাদের অবস্থা ভাল থাকবে। এর বিপরীতে ইফতারে দেরী করা ও সাহরীতে তাড়াতাড়ি করার মধ্যে যেহেতু আল্লাহর সকল বান্দাদের জন্য কষ্ট রয়েছে এবং এটা এক ধরনের বেদআত ও ইয়াহুদী-নাসারাদের রীতি, এ জন্য এটা এ উম্মতের জন্য আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টির স্থলে আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হবে। এ কারণে যখন উম্মত এ নীতি অবলম্বন করবে, তখন আল্লাহর অনুগ্রহদৃষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে এবং তাদের অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। ইফতারে তাড়াতাড়ি করার অর্থ এই যে, যখন সূর্য অস্তমিত হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে যাবে, তখন আর দেরী করবে না। অনুরূপভাবে সাহরীতে দেরী করার অর্থ এই যে, সুবহে সাদিকের অনেক আগে অধিক রাত থাকতে সাহরী খেয়ে নিবে না; বরং সুবহে সাদিক যখন ঘনিয়ে আসে, তখন পানাহার করবে। এটাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অভ্যাস ও রীতি ছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)