আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

৪- যাকাতের অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৩১
- যাকাতের অধ্যায়
উশর (ফসলের যাকাত)।
৩৩১। ইবনে উমার (রাযিঃ) বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) দূরবর্তী এলাকার জমীনে উৎপাদিত গম ও যাইতূনের অর্ধ-উশর (উৎপন্ন শস্যের বিশ ভাগের এক ভাগ) আদায় করতেন। তার উদ্দেশ্য ছিলো (দূরবর্তী এলাকার লোকদের উৎসাহিত করা এবং) মদীনায় শস্যের আমদানী বৃদ্ধি করা। এছাড়া তিনি আর সব শস্যের উপর উশর (এক-দশমাংশ) ধার্য করতেন।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, যিম্মীদের (ইসলামী রাষ্ট্রের অমুসলিম নাগরিক) পণ্যদ্রব্য, তা গম হোক বা অন্য কোন শস্য, তার উপর বছরে একবার অর্ধ-উশর ধার্য হবে।** কোন হরবী (শত্রু রাষ্ট্রের নাগরিক) যখন নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি পেয়ে ইসলামী রাষ্ট্রে এসে যায়, তার সর্বপ্রকার (ব্যবসায়িক) শস্যের উপর উশর ধার্য হবে। হযরত উমার (রাযিঃ) যখন যিয়াদ ইবনে হুদাইর এবং আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ)-কে উশর আদায় করার জন্য কূফা ও বসরায় পাঠান, তখন তাদের এই নির্দেশই দিয়েছিলেন। ইমাম আবু হানীফারও এই মত।
كتاب الزكاة
بَابُ: العُشُرِ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ كَانَ «يَأْخُذُ عَنِ النَّبَطِ مِنَ الْحِنْطَةِ، وَالزَّيْتِ نِصْفَ الْعُشُرِ، يُرِيدُ أَنْ يُكْثِرَ الْحِمْلَ إِلَى الْمَدِينَةِ، وَيَأْخُذُ مِنَ الْقِطَنِيَّةِ الْعُشُرَ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: يُؤْخَذُ مِنْ أَهْلِ الذِّمَّةِ مِمَّا اخْتَلَفُوا فِيهِ لِلتِّجَارَةِ مِنْ قِطَنِيَّةٍ، أَوْ غَيْرِ قِطَنِيَّةٍ نِصْفُ الْعُشُرِ فِي كُلِّ سَنَةٍ، وَمِنْ أَهْلِ الْحَرْبِ إِذَا دَخَلُوا أَرْضَ الإِسْلامِ بِأَمَانٍ الْعُشُرُ مِنْ ذَلِكَ كُلِّهِ، وَكَذَلِكَ أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ زِيَادَ بْنَ حُدَيْرٍ، وَأَنَسَ بْنَ مَالِكٍ حِينَ بَعَثَهُمَا عَلَى عُشُورِ الْكُوفَةِ وَالْبَصْرَةِ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

**ইবনে আবু লায়লা, শাফিঈ, সুফিয়ান সাওরী এবং আবু উবায়েদ (র) এই মত গ্রহণ করেছেন । ইমাম মালেক (র) বলেছেন, যিম্মীরা যদি নিজেদের এলাকার বাইরে ব্যবসা করে, তবে তাদের কাছ থেকে উশর আদায় করতে হবে। হানাফী মাযহাবের মতঃইবনে সীরীন বলেন, আনাস (রা) আমাকে আইলা এলাকায় পাঠানোর সময় হযরত উমার (রা)-র একটি পত্র খুলে দেখানঃ “মুসলিম ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম, যিম্মীদের কাছ থেকে প্রতি বিশ দিরহামে এক দিরহাম এবং হরবীদের থেকে প্রতি দশ দিরহামে এক দিরহাম আদায় করতে হবে" (মুসনাদে আবদুর রাযযাক)। আবুল হাসান কুদুরী (র) বর্ণনা করেছেন, হযরত উমার (রা) উশর আদায়কারীদের নিয়োগ করে বলেছেন, মুসলমানদের কাছ থেকে এক-চতুর্থাংশ উশর, যিম্মীদের কাছ থেকে অর্ধ উশর এবং হরবীদের কাছ থেকে পূর্ণ উশর আদায় করো” (শারহু মুখতাসারিল কারখী) (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান