আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ
২- নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ২৯৬
- নামাযের অধ্যায়
ফরয নামাযের পর নফল নামায পড়া।
২৯৬। ইবনে উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ যুহরের (ফরয) নামাযের পূর্বে দুই রাকআত ও পরে দুই রাকআত, মাগরিবের (ফরয) নামাযের পরে বাসায় ফিরে গিয়ে দুই রাকআত এবং এশার (ফরয) নামাযের পর দুই রাকআত নামায পড়তেন। তিনি জুমুআর (ফরয) নামায পড়ার পর মসজিদে কোন নামায পড়তেন না, বাসায় পৌঁছার পর দুই রাকআত নামায পড়তেন।** ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, এগুলো হচ্ছে নফল (সুন্নত) নামায এবং এটা মুস্তাহাব। আমরা জানতে পেরেছি যে, নবী সূর্য হেলে যাওয়ার পর এবং যুহরের ফরয নামাযের পূর্বে চার রাকআত নামায পড়তেন। এ সম্পর্কে আবু আইউব আল-আনসারী (রাযিঃ) তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেনঃ “এই সময় আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। তাই আমার পছন্দনীয় যে, এই সময় আমার একটি ভালো আমল তথায় পৌঁছে যাক” । তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তা কি দুই রাকআত করে দুই সালামে পড়তে হবে? তিনি বলেনঃ “না”। ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, এ হাদীস সম্পর্কে আমাদের অবহিত করেছেন বুকাইর ইবনে আমের আল-বাজালী, তিনি ইবরাহীম নাখাঈর সূত্রে, তিনি শা'বীর সূত্রে এবং তিনি আবু আইউব আনসারী (রাযিঃ)-র সূত্রে বর্ণনা করেছেন ।
أبواب الصلاة
بَابُ: صَلاةِ التَّطَوُّعِ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، حَدَّثَنَا نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «يُصَلِّي قَبْلَ الظُّهْرِ رَكْعَتَيْنِ، وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ، وَبَعْدَ صَلاةِ الْمَغْرِبِ رَكْعَتَيْنِ فِي بَيْتِهِ، وَبَعْدَ صَلاةِ الْعِشَاءِ رَكْعَتَيْنِ، وَكَانَ لا يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ فِي الْمَسْجِدِ حَتَّى يَنْصَرِفَ فَيَسْجُدَ سَجْدَتَيْنِ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: هَذَا تَطَوُّعٌ وَهُوَ حَسَنٌ وَقَدْ بَلَغَنَا، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ «يُصَلِّي قَبْلَ الظُّهْرِ أَرْبَعًا إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ» ، فَسَأَلَهُ أَبُو أَيُّوبَ الأَنْصَارِيُّ عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَ: «أَنَّ أَبْوَابَ السَّمَاءِ تُفْتَحُ فِي هَذِهِ السَّاعَةِ، فَأُحِبُّ أَنْ يَصْعَدَ لِي فِيهَا عَمَلٌ» ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُفْصَلُ بَيْنَهُنَّ بِسَلامٍ؟ فَقَالَ: «لا» ، أَخْبَرَنَا بِذَلِكَ بُكَيْرُ بْنُ عَامِرٍ الْبَجَلِيُّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، وَالشَّعْبِيِّ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
** ফরয নামাযের আগে বা পরে রাসূলুল্লাহ ﷺ যেসব নামায পড়েছেন এবং আমাদের পড়তে বলেছেন, সেগুলো ফিহের পরিভাষায় সুন্নাত নামায এবং হাদীসের পরিভাষায় নফল নামায। তিনি যেসব সুন্নাত নামায বরাবর পড়েছেন এবং উম্মাতকে নিয়মিত পড়তে বলেছেন তাকে বলা হয় সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। ফজরের (ফরয) নামাযের পূর্বে দুই রাকআত, যুহরের পূর্বে চার রাকআত ও পরে দুই রাকআত, মাগরিবের পরে দুই রাকআত এবং এশার পরে দুই রাকআত সুন্নাত নামায (তিরমিযী ও মুসলিমে হযরত উম্মু হাবীবা (রা)-র সূত্রে বর্ণিত এবং আবদুল্লাহ ইবনে শাকীক (তাবিঈ) কর্তৃক আয়েশা (রা)-র সূত্রে মুসলিম ও আবু দাউদে বর্ণিত)। আর যেসব সুন্নাতের প্রতি এতোটা জোর দেয়া হয়নি তাকে সুন্নাতে যায়েদা বলা হয়। যেমন আসরের নামাযের পূর্বে চার রাকআত সুন্নাত নামায (ইবনে উমার (রা)-র সূত্রে আবু দাউদ, তিরমিযী ও মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত)। তিরমিযীতে হযরত আলী (রা)-র সূত্রে বর্ণিত হাদীস থেকে জানা যায়, তিনি দুই সালামে এই নামায পড়তেন । কিন্তু আবু দাউদে হযরত আলী (রা)-র সূত্রে বুখারী-মুসলিমে হযরত আয়েশা (রা)-র বর্ণিত হাদীসদ্বয়ে দুই রাকআতের কথা উল্লেখ আছে)।
আবু দাঊদ ও ইবনে মাজায় আবু আইউব আনসারী (রা)-র সূত্রে বর্ণিত, তিরমিযীতে আব ল্লাহ ইবনুস সায়েব (রা)-র সূত্রে এবং তিরমিযী ও বায়হাকীতে হযরত উমার (রা)-র সূত্রে বর্ণিত হাদীসসমূহে যুহরের পূর্বে চার রাকআত সুন্নাতের কথা উল্লেখ আছে। আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজা ও মুসনাদে আহমাদে উন্মু হাবীবা (রা)-র সূত্রে বর্ণিত হাদীসে যুহরের পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত সুন্নাতের কথা উল্লেখ আছে। বুখারী ও মুসলিমে আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা)-র সূত্রে বর্ণিত হাদীসে যুহরের পূর্বে দুই রাকআত সুন্নাতের কথা উল্লেখ আছে। এই হাদীসের ভিত্তিতে ইমাম শাফিঈ যুহরের পূর্বে দুই রাকআত সুন্নাত পড়ার পক্ষপাতী। এতে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ কখনো দুই রাকআত, আবার কখনো চার রাকআত পড়েছেন।
আবু দাউদ ও তিরমিযীতে ইবনে আব্বাস (রা)-র সূত্রে বর্ণিত হাদীসেও মাগরিবের পর দুই রাকআত সুন্নাতের কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু বুখারী ও মুসলিমে ইবনে মুগাফফাল (রা)-র সূত্রে, মুসলিমে আনাস (রা)-র সূত্রে, বুখারীতে তাবিঈ মারসাদ ইবনে আবদুল্লাহর সূত্রে বর্ণিত হাদীসসমূহে মাগরিবের পূর্বে দুই রাকআত সুন্নাতের কথা উল্লেখ আছে। অন্যান্য মাযহাবে এই সুন্নাত পড়ার প্রচলন আছে। হানাফী মাযহাব ভিন্নতর কারণে এই নামায না পড়াকে উত্তম মনে করে।
জুমুআর ফরয নামাযের পর দুই, চার এবং ছয় রাকআত সুন্নাত প্রমাণিত। ইমাম শাফিঈর মতে চার রাকআত পড়তে হবে; ইমাম আহমাদের মতে দুই রাকআতও পড়া যায়, চার রাকআতও পড়া যায়, ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদের মতে ছয় রাকআত পড়তে হবে (প্রথমে চার রাকআত ও পরে দুই রাকআত) এবং ইমাম আবু হানীফার মতে চার রাকআত পড়তে হবে। তার মতে জুমুআর পূর্বেও চার রাকআত সুন্নাত পড়তে হবে। ইবনে মাসউদ (রা) জুমুআর পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত সুন্নাত পড়তেন। এ সবই রাসূলুল্লাহ -এর আমল দ্বারা প্রমাণিত (অনুবাদক)।
আবু দাঊদ ও ইবনে মাজায় আবু আইউব আনসারী (রা)-র সূত্রে বর্ণিত, তিরমিযীতে আব ল্লাহ ইবনুস সায়েব (রা)-র সূত্রে এবং তিরমিযী ও বায়হাকীতে হযরত উমার (রা)-র সূত্রে বর্ণিত হাদীসসমূহে যুহরের পূর্বে চার রাকআত সুন্নাতের কথা উল্লেখ আছে। আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজা ও মুসনাদে আহমাদে উন্মু হাবীবা (রা)-র সূত্রে বর্ণিত হাদীসে যুহরের পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত সুন্নাতের কথা উল্লেখ আছে। বুখারী ও মুসলিমে আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা)-র সূত্রে বর্ণিত হাদীসে যুহরের পূর্বে দুই রাকআত সুন্নাতের কথা উল্লেখ আছে। এই হাদীসের ভিত্তিতে ইমাম শাফিঈ যুহরের পূর্বে দুই রাকআত সুন্নাত পড়ার পক্ষপাতী। এতে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ কখনো দুই রাকআত, আবার কখনো চার রাকআত পড়েছেন।
আবু দাউদ ও তিরমিযীতে ইবনে আব্বাস (রা)-র সূত্রে বর্ণিত হাদীসেও মাগরিবের পর দুই রাকআত সুন্নাতের কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু বুখারী ও মুসলিমে ইবনে মুগাফফাল (রা)-র সূত্রে, মুসলিমে আনাস (রা)-র সূত্রে, বুখারীতে তাবিঈ মারসাদ ইবনে আবদুল্লাহর সূত্রে বর্ণিত হাদীসসমূহে মাগরিবের পূর্বে দুই রাকআত সুন্নাতের কথা উল্লেখ আছে। অন্যান্য মাযহাবে এই সুন্নাত পড়ার প্রচলন আছে। হানাফী মাযহাব ভিন্নতর কারণে এই নামায না পড়াকে উত্তম মনে করে।
জুমুআর ফরয নামাযের পর দুই, চার এবং ছয় রাকআত সুন্নাত প্রমাণিত। ইমাম শাফিঈর মতে চার রাকআত পড়তে হবে; ইমাম আহমাদের মতে দুই রাকআতও পড়া যায়, চার রাকআতও পড়া যায়, ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদের মতে ছয় রাকআত পড়তে হবে (প্রথমে চার রাকআত ও পরে দুই রাকআত) এবং ইমাম আবু হানীফার মতে চার রাকআত পড়তে হবে। তার মতে জুমুআর পূর্বেও চার রাকআত সুন্নাত পড়তে হবে। ইবনে মাসউদ (রা) জুমুআর পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত সুন্নাত পড়তেন। এ সবই রাসূলুল্লাহ -এর আমল দ্বারা প্রমাণিত (অনুবাদক)।