শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১৯. শিকার,জবাই ও কুরবানীর বিধান
হাদীস নং: ৬৩০১
শিকার,জবাই ও কুরবানীর বিধান
ضبع (হায়েনা) খাওয়া জায়েয কি, জায়েয নয়
৬৩০১। আবু জা'ফর (তাহাবী) বলেন, উলামা-ই কিরামের একটি জামাআত ضبع (হায়েনা) খাওয়া মুবাহ বলে মন্তব্য করেন। তারা এ ব্যাপারে হযরত আবু আম্মার (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال هي من الصيد [রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেন, সেটা (ضبع) শিকার এর অন্তর্ভুক্ত] দ্বারা দলীল পেশ করেন। এবং ইবরাহীম আস-সা-ইগ’ আতা হযরত জারীর (রাযিঃ) হতে অনুরূপ যে হাদীস বর্ণনা করেন এবং এ কথাও অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, তা খাওয়া যায়।
আল্লামা আইনী (রাহঃ) বলেন, এ উলামা-ই কিরামা দ্বারা আতা ইবন আবু রাবাহ, মালিক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ) উদ্দেশ্য এবং আহলি জাহিরও এদের অন্তর্ভুক্ত।
এ হাদীসও দলীল হিসেবে তাঁরা পেশ করেন। অবশ্য আমরা এ হাদীসটি مناسك الحج অধ্যায়ে তার সনদসহ বর্ণনা করেছি।
অপরপক্ষে অন্য একদল উলামা-ই কিরাম তাদের বিরোধিতা করে বলেন,ضبع খাওয়া যাবে না। আর এ ব্যাপারে তাদের দলীল হলো, হযরত জাবির (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত এ হাদীসের ভাষায় পার্থক্য রয়েছে। হযরত জারীর ও ইবরাহীম সা-ইগ (রাযিঃ) হতে বর্ণনাকারী প্রত্যেকেই বর্ণনা করেছেন ঠিক তদ্রূপ, যেমন আমরা উপরে উল্লেখ করেছি। কিন্তু ইবন জুরায়য (রাহঃ) বর্ণনা করেন এর বিপরীত। তিনি ইব্ন আবু আম্মার হতে বর্ণনা করেন, একবার ইবন আবু আম্মার হযরত জাবির (রাযিঃ)-কে ضبع সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, أَصَيْدٌ هِيَ অর্থাৎ ضبع কি صيد (শিকার) এর অন্তর্ভুক্ত? জবাবে তিনি বললেন, نَعَمْ (হ্যাঁ) এবং তিনি এ কথাও বললেন, আমি নবী (ﷺ)-কে (ضبع সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে) نَعَمْ (হ্যাঁ) বলতে শুনেছি। হযরত জারীর (রাযিঃ) নবী (ﷺ) হতে এ কথাই বর্ণনা করেন যে,ضبع (হায়েনা) صيد (শিকার)-এর অন্তর্ভুক্ত। অথচ সব صيد খাওয়া যায় না। আর ইবন জুরায়য কর্তৃক বর্ণিত হাদীস যে অতিরিক্ত কথা বর্ণিত হয়েছে, তাতে এ সম্ভাবনা আছে যে, তা হযরত জাবির (রাযিঃ)-এর বক্তব্য। কারণ তিনি নবীকে (ﷺ)-কে(ضبع )কে صيد বলতে শুনেছেন। আর এ সম্ভাবনাও আছে যে, এটা সরাসরি নবী (ﷺ)-এর বাণী। আর যখন এ হাদীস সম্পর্কে এ সম্ভাবনা রয়েছে, অথচ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে বর্ণিত সুন্নতে আমরা এ কথা পেয়েছি যে, তিনি প্রত্যেক দাঁতবিশিষ্ট হিংস্র পশু খেতে নিষেধ করেছেন। আর ضبع হিংস্র দাঁতবিশিষ্ট পশু। আর যে সব পশু এ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত বলে আমরা জানি, তার কোন একটিকেও অন্য কোন হাদীস বের করে দিয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। হিংস্র, দাঁতবিশিষ্ট পশুকে হারাম ঘোষণাকারী যে সব হাদীস রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে হতে_
আল্লামা আইনী (রাযিঃ) বলেন, এ উলামা-ই কিরাম হলেন, হাসান বসরী, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, আওযাঈ, সাওরী, আব্দুল্লাহ্ ইবনুল মুবারক, ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাহঃ)।
রাবী আল-মুয়াযযিন ও নসর ইবন মারযূক ......আসিম ইবন যামরা হযরত আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) প্রত্যেক দাঁতবিশিষ্ট হিংস্র পশু এবং পাঞ্জাবিশিষ্ট পাখি (খাওয়া) হতে নিষেধ করেছেন।
আল্লামা আইনী (রাহঃ) বলেন, এ উলামা-ই কিরামা দ্বারা আতা ইবন আবু রাবাহ, মালিক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ) উদ্দেশ্য এবং আহলি জাহিরও এদের অন্তর্ভুক্ত।
এ হাদীসও দলীল হিসেবে তাঁরা পেশ করেন। অবশ্য আমরা এ হাদীসটি مناسك الحج অধ্যায়ে তার সনদসহ বর্ণনা করেছি।
অপরপক্ষে অন্য একদল উলামা-ই কিরাম তাদের বিরোধিতা করে বলেন,ضبع খাওয়া যাবে না। আর এ ব্যাপারে তাদের দলীল হলো, হযরত জাবির (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত এ হাদীসের ভাষায় পার্থক্য রয়েছে। হযরত জারীর ও ইবরাহীম সা-ইগ (রাযিঃ) হতে বর্ণনাকারী প্রত্যেকেই বর্ণনা করেছেন ঠিক তদ্রূপ, যেমন আমরা উপরে উল্লেখ করেছি। কিন্তু ইবন জুরায়য (রাহঃ) বর্ণনা করেন এর বিপরীত। তিনি ইব্ন আবু আম্মার হতে বর্ণনা করেন, একবার ইবন আবু আম্মার হযরত জাবির (রাযিঃ)-কে ضبع সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, أَصَيْدٌ هِيَ অর্থাৎ ضبع কি صيد (শিকার) এর অন্তর্ভুক্ত? জবাবে তিনি বললেন, نَعَمْ (হ্যাঁ) এবং তিনি এ কথাও বললেন, আমি নবী (ﷺ)-কে (ضبع সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে) نَعَمْ (হ্যাঁ) বলতে শুনেছি। হযরত জারীর (রাযিঃ) নবী (ﷺ) হতে এ কথাই বর্ণনা করেন যে,ضبع (হায়েনা) صيد (শিকার)-এর অন্তর্ভুক্ত। অথচ সব صيد খাওয়া যায় না। আর ইবন জুরায়য কর্তৃক বর্ণিত হাদীস যে অতিরিক্ত কথা বর্ণিত হয়েছে, তাতে এ সম্ভাবনা আছে যে, তা হযরত জাবির (রাযিঃ)-এর বক্তব্য। কারণ তিনি নবীকে (ﷺ)-কে(ضبع )কে صيد বলতে শুনেছেন। আর এ সম্ভাবনাও আছে যে, এটা সরাসরি নবী (ﷺ)-এর বাণী। আর যখন এ হাদীস সম্পর্কে এ সম্ভাবনা রয়েছে, অথচ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে বর্ণিত সুন্নতে আমরা এ কথা পেয়েছি যে, তিনি প্রত্যেক দাঁতবিশিষ্ট হিংস্র পশু খেতে নিষেধ করেছেন। আর ضبع হিংস্র দাঁতবিশিষ্ট পশু। আর যে সব পশু এ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত বলে আমরা জানি, তার কোন একটিকেও অন্য কোন হাদীস বের করে দিয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। হিংস্র, দাঁতবিশিষ্ট পশুকে হারাম ঘোষণাকারী যে সব হাদীস রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে হতে_
আল্লামা আইনী (রাযিঃ) বলেন, এ উলামা-ই কিরাম হলেন, হাসান বসরী, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, আওযাঈ, সাওরী, আব্দুল্লাহ্ ইবনুল মুবারক, ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাহঃ)।
রাবী আল-মুয়াযযিন ও নসর ইবন মারযূক ......আসিম ইবন যামরা হযরত আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) প্রত্যেক দাঁতবিশিষ্ট হিংস্র পশু এবং পাঞ্জাবিশিষ্ট পাখি (খাওয়া) হতে নিষেধ করেছেন।
كتاب الصيد والذبائح والأضاحي
بَابُ أَكْلِ الضَّبُعِ
6301 - قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَذَهَبَ قَوْمٌ إِلَى إِبَاحَةِ أَكْلِ لَحْمِ الضَّبُعِ , وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِحَدِيثِ ابْنِ أَبِي عَمَّارٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: هِيَ مِنَ الصَّيْدِ. وَبِحَدِيثِ إِبْرَاهِيمَ الصَّائِغِ , عَنْ عَطَاءٍ , عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِثْلِ ذَلِكَ , وَيُؤْكَلُ , وَقَدْ ذَكَرْنَا ذَلِكَ بِإِسْنَادِهِ فِي كُتُبِ مَنَاسِكِ الْحَجِّ. وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ , فَقَالُوا: لَا يُؤْكَلُ. وَكَانَ مِنَ الْحُجَّةِ لَهُمْ فِي ذَلِكَ أَنَّ حَدِيثَ جَابِرٍ هَذَا , قَدِ اخْتُلِفَ فِي لَفْظِهِ , فَرَوَاهُ كُلُّ أَحَدٍ مِنْ جَرِيرٍ وَإِبْرَاهِيمَ الصَّائِغِ كَمَا ذَكَرْنَاهُ عَنْهُ. وَرَوَاهُ ابْنُ جُرَيْجٍ , عَلَى خِلَافِ ذَلِكَ , فَذَكَرَ عَنِ ابْنِ أَبِي عَمَّارٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَأَلَ جَابِرًا رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ الضَّبُعِ. فَقَالَ: أَصَيْدٌ هِيَ؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: وَسَمِعْتَ ذَلِكَ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَ: نَعَمْ. فَأَخْبَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا صَيْدٌ , وَلَيْسَ كُلُّ الصَّيْدِ يُؤْكَلُ. فَاحْتُمِلَ أَنْ تَكُونَ تِلْكَ الزِّيَادَةُ , عَلَى ذَلِكَ الْمَذْكُورَةِ , فِي حَدِيثِ ابْنِ جُرَيْجٍ , مِنْ قَوْلِ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: لِأَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَمَّاهَا صَيْدًا. وَاحْتَمَلَ أَنْ يَكُونَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
فَلَمَّا احْتَمَلَ ذَلِكَ , وَوَجَدْنَا السُّنَّةَ قَدْ جَاءَتْ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ نَهَى عَنْ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ , وَالضَّبُعُ ذَاتُ نَابٍ , لَمْ يَخْرُجْ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا , قَدْ عَلِمْنَا أَنَّهُ دَخَلَ فِيهِ بِشَيْءٍ لَمْ يُعْلَمْ يَقِينًا أَنَّهُ أَخْرَجَهُ مِنْهُ. وَمِمَّا رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي تَحْرِيمِهِ كُلَّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ مَا حَدَّثَنَا رَبِيعٌ الْمُؤَذِّنُ وَنَصْرُ بْنُ مَرْزُوقٍ , قَالَا: ثنا أَسَدٌ , قَالَ: ثنا عَبْدُ الْمَجِيدِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ , عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ , عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ , عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ , عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: «نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ , وَعَنْ كُلِّ ذِي مِخْلَبٍ مِنَ الطَّيْرِ»
فَلَمَّا احْتَمَلَ ذَلِكَ , وَوَجَدْنَا السُّنَّةَ قَدْ جَاءَتْ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ نَهَى عَنْ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ , وَالضَّبُعُ ذَاتُ نَابٍ , لَمْ يَخْرُجْ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا , قَدْ عَلِمْنَا أَنَّهُ دَخَلَ فِيهِ بِشَيْءٍ لَمْ يُعْلَمْ يَقِينًا أَنَّهُ أَخْرَجَهُ مِنْهُ. وَمِمَّا رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي تَحْرِيمِهِ كُلَّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ مَا حَدَّثَنَا رَبِيعٌ الْمُؤَذِّنُ وَنَصْرُ بْنُ مَرْزُوقٍ , قَالَا: ثنا أَسَدٌ , قَالَ: ثنا عَبْدُ الْمَجِيدِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ , عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ , عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ , عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ , عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: «نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ , وَعَنْ كُلِّ ذِي مِخْلَبٍ مِنَ الطَّيْرِ»