শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১৮. আদালত-বিচার-সাক্ষ্য-শুনানির বিধান
হাদীস নং: ৬১২৫
আন্তর্জাতিক নং: ৬১২৬
আদালত-বিচার-সাক্ষ্য-শুনানির বিধান
একজন সাক্ষী ও কসম দ্বারা ফয়সালা করা প্রসঙ্গে
৬১২৫-২৬। রাওহ ইনুল ফারাজ ..... আলকামা ইবন ওয়াল তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একবার হাযরামাওত-এর এক ব্যক্তি এবং কিন্দা-এর এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট উপস্থিত হলাে। হাযরামী ব্যক্তি বললাে, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার একটা যমীন এই ব্যক্তি জোরপূর্বক দখল করে আছে। তখন কিন্দী ব্যক্তি বললাে, সেটা তাে আমারই যমীন, যা আমার দখলে আছে এবং আমি তা চাষাবাদ করি । সে যমীনে তার কোন অধিকার নেই। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) " হাযরামীকে বললেন, তােমার কি কোন দলীল-প্রমাণ আছে? বললাে, জী না। তখন রাবী বললেন, তবে তাকে হলফ দাও। তখন সে বললাে, তার হলফ গ্রহণযােগ্য হবে না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তােমার জন্য তার থেকে এর চেয়ে অন্য কিছু হবে না। অতঃপর কিন্দী ব্যক্তি হলফ করার জন্য অগ্রসর হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, জেনে রাখ! সে যদি যুলুম করে খাবার উদ্দেশ্যে তােমার মালের ওপর হলফ করে, তবে আল্লাহর সাথে তার সাক্ষাত ঘটবে এমন অবস্থায় যে, তার থেকে তিনি বিমুখ হবেন।
ফাহদ পর্যায়ক্রমে জান্দাল ও আবুল আহওয়াস হতে বর্ণনা করেন। অতঃপর আবুল আহওয়াস তার সনদে অনরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি তার বর্ণনায় বলেন, فقال الحضرمي: يا رسول الله إن هذا قد غلبني على أرض كانت لي ‘হাযরামী বললাে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার একটা যমীন ছিল, এই ব্যক্তি তা জোরপূর্বক দখল করে আছে।'
(ইমাম) আবু জাফর (তাহাবী) (রাহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বললেন, তােমার দলীল পেশ করতে হবে, অথবা তার হলফ গ্রহণ করতে হবে। তােমার জন্য এছাড়া অন্য কোন ব্যবস্থা নেই। এটা এ কথাই প্রমাণ করে যে, مدعي তার দলীল ব্যতীত কিছুরই হকদার হবে না। সুতরাং এ কথা একজন সাক্ষী ও হলফসহ ফয়সালা করার বৈধতা প্রত্যাখ্যান করে। আমাদের জন্য উত্তম হবে, প্রথম হাদীসের যে বিভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে, তার মধ্য হতে যে ব্যাখ্যা এ হাদীসের সহিত সংগতিপূর্ণ হবে, সে অর্থে প্রয়ােগ করা; আমদের বিরােধীগণ যে ব্যাখ্যা প্রদান করেন তার ওপর নয়। অথচ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন :لَوْ يُعْطَى النَّاسُ بِدَعْوَاهُمْ لَادَّعَى نَاسٌ دِمَاءَ رِجَالٍ وَأَمْوَالَهُمْ وَلَكِنَّ الْيَمِينَ عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِ
অর্থাৎ মানুষের দাবির কারণেই যদি তাদেরকে প্রদান করা হয়, তবে মানুষ লােকজনের খুন ও তাদের মালের দাবি করে বসবে। কিন্তু ( مدعي এর দলীল না থাকলে) مدعي عليه এর ওপর হলফ করা জরুরী হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর এ বাণী এ কথাই প্রমাণ করে যে, হলফ সর্বদা কেবল مدعي عليه -এর ওপরই প্রযােজ্য হবে। আর আমরা এ কথা সনদসহ পূর্বেই এ কিতাবে বর্ণনা করেছি।
এ ব্যাপারে যুক্তি এই যে, যারা এক সাক্ষী ও হলফের মাধ্যমে ফয়সালা বৈধ মনে করেন, তাদের খণ্ডনে এর চেয়ে বেশী কিছু বলার দরকার নেই যে, তারা এটাকে শুধু মালের বিষয়ে খাস করেন, অন্যান্য বিষয়ে নয়। বস্তুত মাল ব্যতীত অন্য বিষয়ে যখন একজন সাক্ষী ও হলফ দ্বারা ফয়সালা করা যায় না বলে প্রমাণিত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে যুক্তির দাবি এটাই যে, মাল ব্যতীত অন্যান্য বিষয়েও অনুরূপ ফয়সালা করা যাবে না। আর এটাই আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর মত ও মাযহাব।
ফাহদ পর্যায়ক্রমে জান্দাল ও আবুল আহওয়াস হতে বর্ণনা করেন। অতঃপর আবুল আহওয়াস তার সনদে অনরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি তার বর্ণনায় বলেন, فقال الحضرمي: يا رسول الله إن هذا قد غلبني على أرض كانت لي ‘হাযরামী বললাে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার একটা যমীন ছিল, এই ব্যক্তি তা জোরপূর্বক দখল করে আছে।'
(ইমাম) আবু জাফর (তাহাবী) (রাহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বললেন, তােমার দলীল পেশ করতে হবে, অথবা তার হলফ গ্রহণ করতে হবে। তােমার জন্য এছাড়া অন্য কোন ব্যবস্থা নেই। এটা এ কথাই প্রমাণ করে যে, مدعي তার দলীল ব্যতীত কিছুরই হকদার হবে না। সুতরাং এ কথা একজন সাক্ষী ও হলফসহ ফয়সালা করার বৈধতা প্রত্যাখ্যান করে। আমাদের জন্য উত্তম হবে, প্রথম হাদীসের যে বিভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে, তার মধ্য হতে যে ব্যাখ্যা এ হাদীসের সহিত সংগতিপূর্ণ হবে, সে অর্থে প্রয়ােগ করা; আমদের বিরােধীগণ যে ব্যাখ্যা প্রদান করেন তার ওপর নয়। অথচ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন :لَوْ يُعْطَى النَّاسُ بِدَعْوَاهُمْ لَادَّعَى نَاسٌ دِمَاءَ رِجَالٍ وَأَمْوَالَهُمْ وَلَكِنَّ الْيَمِينَ عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِ
অর্থাৎ মানুষের দাবির কারণেই যদি তাদেরকে প্রদান করা হয়, তবে মানুষ লােকজনের খুন ও তাদের মালের দাবি করে বসবে। কিন্তু ( مدعي এর দলীল না থাকলে) مدعي عليه এর ওপর হলফ করা জরুরী হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর এ বাণী এ কথাই প্রমাণ করে যে, হলফ সর্বদা কেবল مدعي عليه -এর ওপরই প্রযােজ্য হবে। আর আমরা এ কথা সনদসহ পূর্বেই এ কিতাবে বর্ণনা করেছি।
এ ব্যাপারে যুক্তি এই যে, যারা এক সাক্ষী ও হলফের মাধ্যমে ফয়সালা বৈধ মনে করেন, তাদের খণ্ডনে এর চেয়ে বেশী কিছু বলার দরকার নেই যে, তারা এটাকে শুধু মালের বিষয়ে খাস করেন, অন্যান্য বিষয়ে নয়। বস্তুত মাল ব্যতীত অন্য বিষয়ে যখন একজন সাক্ষী ও হলফ দ্বারা ফয়সালা করা যায় না বলে প্রমাণিত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে যুক্তির দাবি এটাই যে, মাল ব্যতীত অন্যান্য বিষয়েও অনুরূপ ফয়সালা করা যাবে না। আর এটাই আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর মত ও মাযহাব।
كتاب القضاء والشهادات
6125 - حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ الْفَرَجِ قَالَ: ثنا يُوسُفُ بْنُ عَدِيٍّ قَالَ: ثنا أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ مِنْ حَضْرَمَوْتَ وَرَجُلٌ مِنْ كِنْدَةَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ الْحَضْرَمِيُّ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ هَذَا قَدْ غَلَبَنِي عَلَى أَرْضٍ كَانَتْ لِي. فَقَالَ الْكِنْدِيُّ: هِيَ أَرْضِي فِي يَدِي أَزْرَعُهَا لَيْسَ لَهُ فِيهَا حَقٌّ. فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْحَضْرَمِيِّ: «أَلَكَ بَيِّنَةٌ؟» ، فَقَالَ: لَا. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَأُحَلِّفُهُ؟» ، فَقَالَ: إِنَّهُ لَيْسَ لَهُ يَمِينٌ. فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ لَكَ مِنْهُ إِلَّا ذَلِكَ» . فَانْطَلَقَ لِيُحَلِّفَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَمَا أَنَّهُ إِنْ حَلَفَ عَلَى مَالِكِ ظَالِمًا لِيَأْكُلَهُ لَقِيَ اللهَ وَهُوَ عَنْهُ مُعْرِضٌ
6126 - حَدَّثَنَا فَهْدٌ، قَالَ: ثنا جَنْدَلُ بْنُ وَالِقٍ، قَالَ: ثنا أَبُو الْأَحْوَصِ، فَذَكَرَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ فَقَالَ الْحَضْرَمِيُّ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ هَذَا غَلَبَنِي عَلَى أَرْضٍ كَانَتْ لِي قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَلَمَّا قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمِينُكَ أَوْ يَمِينُهُ لَيْسَ لَكُمْ فِيهِ إِلَّا ذَلِكَ دَلَّ عَلَى أَنَّهُ لَا يَسْتَحِقُّ شَيْئًا بِغَيْرِ الْبَيِّنَةِ فَهَذَا يَنْفِي الْقَضَاءَ بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِدِ. وَالَّذِي هُوَ أَوْلَى بِنَا أَنْ نَحْمِلَ وَجْهَ مَا اخْتَلَفَ فِيهِ تَأْوِيلُهُ مِنَ الْحَدِيثِ الْأَوَّلِ عَلَى مَا يُوَافِقُ هَذَا لَا عَلَى مَا يُخَالِفُهُ. وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ يُعْطَى النَّاسُ بِدَعْوَاهُمْ لَادَّعَى نَاسٌ دِمَاءَ رِجَالٍ وَأَمْوَالَهُمْ وَلَكِنَّ الْيَمِينَ عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِ» . فَدَلَّ ذَلِكَ أَنَّ الْيَمِينَ لَا يَكُونُ أَبَدًا إِلَّا عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِ وَقَدْ ذَكَرْنَا ذَلِكَ بِالْإِسْنَادِ فِيمَا تَقَدَّمَ مِنْ هَذَا الْكِتَابِ. وَأَمَّا النَّظَرُ فِي هَذَا فَإِنَّهُ يُغْنِينَا عَنْ ذِكْرِ أَكْثَرِ فَسَادِ قَوْلِ الَّذِينَ ذَهَبُوا إِلَى الْقَضَاءِ بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِدِ. فَجَعَلُوا ذَلِكَ فِي الْأَمْوَالِ خَاصَّةً دُونَ سَائِرِ الْأَشْيَاءِ. فَلَمَّا ثَبَتَ أَنَّهُ لَا يُقْضَى بِيَمِينٍ وَشَاهِدٍ فِي غَيْرِ الْأَمْوَالِ كَانَ حُكْمُ الْأَمْوَالِ فِي النَّظَرِ أَيْضًا كَذَلِكَ. وَهَذَا قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمُ اللهُ تَعَالَى
6126 - حَدَّثَنَا فَهْدٌ، قَالَ: ثنا جَنْدَلُ بْنُ وَالِقٍ، قَالَ: ثنا أَبُو الْأَحْوَصِ، فَذَكَرَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ فَقَالَ الْحَضْرَمِيُّ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ هَذَا غَلَبَنِي عَلَى أَرْضٍ كَانَتْ لِي قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَلَمَّا قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمِينُكَ أَوْ يَمِينُهُ لَيْسَ لَكُمْ فِيهِ إِلَّا ذَلِكَ دَلَّ عَلَى أَنَّهُ لَا يَسْتَحِقُّ شَيْئًا بِغَيْرِ الْبَيِّنَةِ فَهَذَا يَنْفِي الْقَضَاءَ بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِدِ. وَالَّذِي هُوَ أَوْلَى بِنَا أَنْ نَحْمِلَ وَجْهَ مَا اخْتَلَفَ فِيهِ تَأْوِيلُهُ مِنَ الْحَدِيثِ الْأَوَّلِ عَلَى مَا يُوَافِقُ هَذَا لَا عَلَى مَا يُخَالِفُهُ. وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ يُعْطَى النَّاسُ بِدَعْوَاهُمْ لَادَّعَى نَاسٌ دِمَاءَ رِجَالٍ وَأَمْوَالَهُمْ وَلَكِنَّ الْيَمِينَ عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِ» . فَدَلَّ ذَلِكَ أَنَّ الْيَمِينَ لَا يَكُونُ أَبَدًا إِلَّا عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِ وَقَدْ ذَكَرْنَا ذَلِكَ بِالْإِسْنَادِ فِيمَا تَقَدَّمَ مِنْ هَذَا الْكِتَابِ. وَأَمَّا النَّظَرُ فِي هَذَا فَإِنَّهُ يُغْنِينَا عَنْ ذِكْرِ أَكْثَرِ فَسَادِ قَوْلِ الَّذِينَ ذَهَبُوا إِلَى الْقَضَاءِ بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِدِ. فَجَعَلُوا ذَلِكَ فِي الْأَمْوَالِ خَاصَّةً دُونَ سَائِرِ الْأَشْيَاءِ. فَلَمَّا ثَبَتَ أَنَّهُ لَا يُقْضَى بِيَمِينٍ وَشَاهِدٍ فِي غَيْرِ الْأَمْوَالِ كَانَ حُكْمُ الْأَمْوَالِ فِي النَّظَرِ أَيْضًا كَذَلِكَ. وَهَذَا قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمُ اللهُ تَعَالَى
হাদীসের ব্যাখ্যা:
নিঃসন্দেহে কোন বান্দার জন্য এটা চূড়ান্ত পর্যায়ের দুর্ভাগ্য যে, ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির কারণে আল্লাহ তা'আলা আখিরাতে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। এটা তার জন্য অভিশপ্ত ও ক্ষমার অযোগ্য হওয়ার লক্ষণ হবে। এর পূর্বে আশ'আস ইব্ন কায়সের হাদীসে এরূপ লোকদের জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ যে আয়াত তিলাওয়াত করেছিলেন-
{إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا أُولَئِكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [آل عمران: 77]
হযরত ওয়াইলের সেই হাদীসে وهو عنه معرض এ হাদীসেরই এজমালী ব্যাখ্যা। আর আয়াতের বর্ণনা যেন তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা।
সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় একটি বাক্য এই-
فَانْطَلَقَ لِيَحْلِفَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَمَّا أَدْبَرَ الخ
যার তরজমা এই করা হয়েছে, যখন সেই কিন্দী শপথ করার জন্য অন্য দিকে চললেন, তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, সম্ভবত সেই কিন্দীকে বলে থাকবেন, মসজিদে গিয়ে নামায পড়ে সবার সামনে শপথ কর, অথবা মিম্বরের পাশে দাঁড়িয়ে শপথ কর। এরপর যখন তিনি শপথ করার জন্য সেই দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তাকে সতর্ক করেন, যে কেউ মিথ্যা শপথ করে অপরের মাল অবৈধ পন্থায় অর্জন করবে আখিরাতে তার এই পরিণতি হবে।
সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় একথা উল্লেখ নেই যে, এরপর সেই ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করেছিলেন না কি শপথ গ্রহণ করা থেকে বিরত ছিলেন। কিন্তু অন্য বর্ণনায় হাজরামী ও কিন্দীর এ মোকদ্দমা সম্পর্কে হযরত আশ্আস ইবনে কায়স-এর হাদীসের শেষে এ কথা রয়েছে- রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন আখিরাতের মন্দ পরিণতির ভয় শুনালেন, তখন কিন্দী শপথ করা থেকে থেমে গেলেন। তিনি স্বীকার করলেন যে, এ জমি বাদী হাজরামীরই। সুতরাং রাসূলুল্লাহ ﷺ সে অনুযায়ীই ফায়সালা প্রদান করেন।
{إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا أُولَئِكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [آل عمران: 77]
হযরত ওয়াইলের সেই হাদীসে وهو عنه معرض এ হাদীসেরই এজমালী ব্যাখ্যা। আর আয়াতের বর্ণনা যেন তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা।
সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় একটি বাক্য এই-
فَانْطَلَقَ لِيَحْلِفَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَمَّا أَدْبَرَ الخ
যার তরজমা এই করা হয়েছে, যখন সেই কিন্দী শপথ করার জন্য অন্য দিকে চললেন, তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, সম্ভবত সেই কিন্দীকে বলে থাকবেন, মসজিদে গিয়ে নামায পড়ে সবার সামনে শপথ কর, অথবা মিম্বরের পাশে দাঁড়িয়ে শপথ কর। এরপর যখন তিনি শপথ করার জন্য সেই দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তাকে সতর্ক করেন, যে কেউ মিথ্যা শপথ করে অপরের মাল অবৈধ পন্থায় অর্জন করবে আখিরাতে তার এই পরিণতি হবে।
সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় একথা উল্লেখ নেই যে, এরপর সেই ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করেছিলেন না কি শপথ গ্রহণ করা থেকে বিরত ছিলেন। কিন্তু অন্য বর্ণনায় হাজরামী ও কিন্দীর এ মোকদ্দমা সম্পর্কে হযরত আশ্আস ইবনে কায়স-এর হাদীসের শেষে এ কথা রয়েছে- রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন আখিরাতের মন্দ পরিণতির ভয় শুনালেন, তখন কিন্দী শপথ করা থেকে থেমে গেলেন। তিনি স্বীকার করলেন যে, এ জমি বাদী হাজরামীরই। সুতরাং রাসূলুল্লাহ ﷺ সে অনুযায়ীই ফায়সালা প্রদান করেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)