শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১৪. উপহার ও সাদ্‌কা প্রদান সংক্রান্ত অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৮৮৮
উপহার ও সাদ্‌কা প্রদান সংক্রান্ত অধ্যায়
ওয়াকফকৃত সদাকাসমূহ
৫৮৮৮। আহমদ ইব্‌ন আব্দুর রহমান ইব্‌ন ওয়াহব ….. হযরত ইব্‌ন উমর (রাযিঃ) বলেন, হযরত উমর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্(ﷺ)-এর নিকট ছামাগ নামক স্থানে তাঁর যে মাল রয়েছে, তা সদকা করা সম্পর্কে পরামর্শ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) বললেন : তুমি তা এরূপ সদকা কর যে, তার ফল বিতরণ করা হবে এবং মূল ভূমি (দান করবে না) আটকিয়ে রাখবে। না তা বিক্রয় করা যাবে, আর না তা হিবা করা যাবে।

আলােচনা : আবু জাফর বলেন, একদল উলামা-ই কিরাম এ মত পােষণ করেন। যখন কোন ব্যক্তি তার সন্তান, সন্তানের সন্তান ও তার পরবর্তীদের জন্য আল্লাহর রাহে তার বাড়ি ওয়াকফ করে, তবে তা জায়েয আছে। আর এই ওয়াকফ করার কারণে তার মালিকানা অধিকার হতে বের হয়ে আল্লাহ্ পাকের কবযে দাখিল করবে। এরপর তার জন্য সেটা বিক্রয় করার আর কোন পথ থাকবে না। তাঁরা উল্লেখিত এ সব রিওয়ায়াত দ্বারা দলীল পেশ করেন।

যারা এ মত অবলম্বন করেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন, ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ ইব্‌নুল হাসান মাদানী ও বসরী আলিমগণও এ মত পােষণ করেন।

আর এর বিপরীত মত পােষণ করেন উলামা-ই কিরামের অন্য একটি দল। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, ইমাম আবু হানীফা ও যুফার ইব্‌ন হুযায়ল (রাহঃ)। তাঁরা বলেন, ওয়াকফের এ সব মালই মীরাসের অন্তর্ভুক্ত হবে। যে ব্যক্তি ওয়াফ করবে, তার ওয়াক্‌ফের কারণে তার মালিকানা অধিকার হতে বের হবে না। এ ব্যাপারে তাঁদের যে দলীল, তা হলাে, রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) যখন হযরত উমর (রাযিঃ)-কে পরামর্শ দিলেন, তখন তিনি বললেন : মূল ভূমি রেখে দাও এবং গাছের ফল দান করে দাও।

এতে এ সম্ভাবনা আছে যে, রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) তাঁকে ওয়াকফের যে নির্দেশ প্রদান করেছেন, তাতেই তাঁর মালিকানা অধিকার হতে তার ভূমি বের হয়েছে। আর এ সম্ভাবনাও আছে, যে, ওয়াকফ তার মালিকানা অধিকার হতে তাঁর ভূমি বের করবে না, বরং যে অবস্থার ওপর চালু করেছে, তার ওপরই অব্যাহত থাকবে। (অর্থাৎ গাছের ফল-ফলাদি দান করবে এবং ভূমি ও গাছ তার মালিকানায় থাকবে)। আর যখনই তার ইচ্ছা হবে, এটা নসখ ও রহিত করবে। যেমন কোন ব্যক্তি এ কথা বলল, আল্লাহর ওয়াস্তে সে তার খেজুর গাছের ফল সদকা করতে থাকবে যত দিন সে জীবিত থাকবে। তখন তাকে এমন তাে বলা যাবে যে, তুমি তােমার কথা পালন কর কিন্তু তাকে বাধ্য করা যাবে না এবং জোর করেও তার থেকে নেয়া যাবে না। বরং সে যদি স্বেচ্ছায় প্রদান করে, তবে তা উত্তম। আর না দিলে বাধ্য করা যাবে না। অনুরূপ তার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিসরা যদি তার পিতার জারী করা কাজ বহাল রাখে, তবে তাে ভাল, আর যদি তারা অস্বীকার করে, তবে তাদের সে ইখতিয়ার আছে।

আর হযরত উমর (রাযিঃ) যে তাঁর ওয়াকফ শেষ পর্যন্ত বহাল রয়েছে; তা এ কথা প্রমাণ করে না যে, তাঁর পরিবারের কারাে পক্ষে এ ওয়াকফ ভংগ করার অধিকার ছিল না, বরং যা প্রমাণ করে তা হলাে, যদি তারা হযরত উমর (রাযিঃ)-এর ইন্তিকালের পর ঐ ভূমি লাভের জন্য মামলা করতেন এবং তাদেরকে তা না দেয়া হতাে তবে এটা প্রমাণিত হতাে যে, তাদের জন্য ওয়াকফের চুক্তি ভংগ করার এখতিয়ার নেই ।

আর যদি ওয়াকফের মালের মধ্যে ওয়াকফকারীকে বাধ্য করা জায়েয হতাে, তবে তা উমরা-এর মত দান হতাে যা এ কথাই প্রমাণ করে যে, ওয়াকফের মাল বিক্রয় করা যাবে না। কিন্তু হযরত উমর (রাযিঃ)-এর পরিবারের লােকেরা যে ওয়াকফের মাল হিসেবে তা রেখে দিয়েছিলেন, তার কারণ হলাে, হযরত উমর (রাযিঃ) তা ওয়াকফ করেছিলেন এবং তাঁর জীবিতাবস্থায় যেভাবে তিনি চালু রেখেছিলেন, সেভাবেই তা চলতে থাকবে এটাই তাদের অভিপ্রায় ছিল। আমাদের নিকট এমন কোন তথ্য আসেনি যে, তাদের কেউ তা লাভ করার জন্য কোন চেষ্টা করেছেন।

অথচ হযরত উমর (রাযিঃ) হতে এমন রিওয়ায়াত বর্ণিত আছে যা প্রমাণ করে যে, তার জন্য ওয়াকফ ভংগ করার এখতিয়ার ছিল।
كتاب الهبة والصدقة
5888 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَهْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَمِّي، قَالَ: حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ الْمُطَّلِبِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ نَافِعٍ، مَوْلَى ابْنِ عُمَرَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ، اسْتَشَارَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَنْ يَتَصَدَّقَ بِمَالِهِ بِثَمْغٍ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَصَدَّقْ بِهِ تَقْسِمُ ثَمَرَهُ وَتَحْبِسُ أَصْلَهُ لَا تُبَاعُ وَلَا تُوهَبُ» قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَذَهَبَ قَوْمٌ إِلَى أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا أَوْقَفَ دَارِهِ عَلَى وَلَدِهِ وَوَلَدِ وَلَدِهِ ثُمَّ مَنْ بَعْدَهُمْ فِي سَبِيلِ اللهِ أَنَّ ذَلِكَ جَائِزٌ وَأَنَّهَا قَدْ خَرَجَتْ بِذَلِكَ مِنْ مِلْكِهِ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَلَا سَبِيلَ لَهُ بَعْدَ ذَلِكَ إِلَى بَيْعِهَا وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِهَذِهِ الْآثَارِ. وَمِمَّنْ قَالَ بِذَلِكَ أَبُو يُوسُفَ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمَا وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ وَأَهْلِ الْبَصْرَةِ. وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ مِنْهُمْ أَبُو حَنِيفَةَ وَزُفَرُ بْنُ الْهُذَيْلِ رَحِمَهُ اللهُ عَلَيْهِمَا فَقَالُوا: هَذَا كُلُّهُ مِيرَاثٌ لَا يَخْرُجُ مِنْ مِلْكِ الَّذِي أَوْقَفَهُ بِهَذَا السَّبَبِ. وَكَانَ مِنَ الْحُجَّةِ لَهُمْ فِي ذَلِكَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا شَاوَرَهُ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِي ذَلِكَ قَالَ لَهُ حَبِّسْ أَصْلَهَا وَسَبِّلِ الثَّمَرَةَ. فَقَدْ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مَا أَمَرَهُ بِهِ مِنْ ذَلِكَ يَخْرُجُ بِهِ مِنْ مِلْكِهِ وَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ لَا يُخْرِجُهَا مِنْ مِلْكِهِ [ص:96] وَلَكِنَّهَا تَكُونُ جَارِيَةً عَلَى مَا أَجْرَاهَا عَلَيْهِ مِنْ ذَلِكَ مَا تَرَكَهَا وَيَكُونُ لَهُ فَسْخُ ذَلِكَ مَتَى شَاءَ. كَرَجُلٍ جَعَلَ لِلَّهِ عَلَيْهِ أَنْ يَتَصَدَّقَ بِثَمَرَةِ نَخْلِهِ مَا عَاشَ فَيُقَالُ لَهُ: أَنْفِذْ ذَلِكَ وَلَا يُجْبَرُ عَلَيْهِ وَلَا يُؤْخَذُ بِهِ إِنْ شَاءَ وَإِنْ أَبَى. وَلَكِنْ إِنْ أَنْفَذَ ذَلِكَ فَحَسَنٌ وَإِنْ مَنَعَهُ لَمْ يُجْبَرْ عَلَيْهِ. وَكَذَلِكَ وَرَثَتُهُ مِنْ بَعْدِهِ إِنْ أَنَفَذُوا ذَلِكَ عَلَى مَا كَانَ أَبُوهُمْ أَجْرَاهُ عَلَيْهِ فَحَسَنٌ وَإِنْ مَنَعُوهُ كَانَ ذَلِكَ لَهُمْ. وَلَيْسَ فِي بَقَاءِ حَبْسِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ إِلَى غَايَتِنَا هَذِهِ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ لِأَحَدٍ مِنْ أَهْلِهِ نَقْضُهُ. وَإِنَّمَا الَّذِي يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ لَيْسَ لَهُمْ نَقْضُهُ لَوْ كَانُوا خَاصَمُوا فِيهِ بَعْدَ مَوْتِهِ فَمُنِعُوا مِنْ ذَلِكَ. وَلَوْ جَازَ ذَلِكَ لَكَانَ فِيهِ الْعُمْرَى مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ الْأَوْقَافَ لَا تُبَاعُ. وَلَكِنْ إِنَّمَا جَاءَنَا تَرْكُهُمْ لِوَقْفِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَجْرِي عَلَى مَا كَانَ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَجْرَاهُ عَلَيْهِ فِي حَيَاتِهِ وَلَمْ يَبْلُغْنَا أَنَّ أَحَدًا مِنْهُمْ عَرَضَ فِيهِ بِشَيْءٍ. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ قَدْ كَانَ لَهُ نَقْضُهُ
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান