শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১৪. উপহার ও সাদ্‌কা প্রদান সংক্রান্ত অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৮৪৮
উপহার ও সাদ্‌কা প্রদান সংক্রান্ত অধ্যায়
কোন পুত্রকে বাদ দিয়ে যে ব্যক্তি তার অপর কোন পুত্রকে দান করে
৫৮৪৮। নসর ইব্‌ন মারযূক ….. নু'মান ইব্‌ন বশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমার আব্বা আমাকে নিয়ে নবী(ﷺ)-এর নিকট গেলেন এবং তিনি আমাকে একটা গােলাম দান করলেন, (তিনি আমাকে তাঁর নিকট নিয়ে গেলেন এ জন্য যে তাঁকে এ দানের জন্য যে তাঁকে এ দানের জন্য তিনি সাক্ষী বানিয়ে রাখবেন)। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তােমার প্রত্যেক সন্তানকেও কি অনুরূপ দান করেছ? তিনি বললেন, না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ তােমাকে কি একথা আনন্দ দেবে যে, তারা সকলেই তােমার প্রতি সমান সদাচার করুক? তিনি বললেন, জ্বী, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেনঃ তবে তুমি আমাকে ব্যতীত অন্য কাউকে সাক্ষী বানাও।

হযরত বশীর (রাযিঃ) তার পুত্র নু'মানকে যা দান করেছিলেন, সে ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) তাঁকে যে কথা বলেছেন, “আমাকে ব্যতীত অন্য কাউকে সাক্ষী বানাও" তাঁর এ বক্তব্য এ কথাই প্রমাণ করে যে, নু'মানের মালিকানা অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অন্যথায় অন্যকে সাক্ষী বানানাে সঠিক হতাে না। অতএব এ হাদীস প্রথম হাদীসের বিপরীত। কারণ (রাসূলুলুল্লাহ্(ﷺ) -এর) এ বক্তব্য হযরত নু'মান তার আব্বার সাথে যে চুক্তিতে আব্দ্ধ হয়েছেন, তা ফাসেদ হওয়াকে প্রমাণ করে না। বস্তুত রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) কখনাে কখনাে সাক্ষ্য প্রদান করা হতে বিরত থাকতেন। কারণ شهادت (সাক্ষ্য প্রদান করা) এমনই এক বিষয় যে, مشهود له (যার জন্য সাক্ষ্য প্রদান করা হয়)-এর জন্য যামিন (সাক্ষী) তার যামিন হয়ে যায়। অতএব তাঁর পক্ষে শুরুতেই صامت না হবার সুযােগ রয়েছে (অর্থাৎ তিনি ইচ্ছা করলে সাক্ষীই না হতে পারেন)।

এ ছাড়া এর আরাে একটি ব্যাখ্যা হতে পারে। তা হলাে, “আমাকে ব্যতীত অন্য কাউকে সাক্ষী বানাও” কারণ আমি তাে ইমাম। আর যিনি ইমাম হবেন, সাক্ষী হওয়া তাঁর পক্ষে অশােভনীয়। বস্তুত তিনি সাক্ষ্য প্রদান করবেন না; তিনি তাে ফায়সালা দিবেন। আর তাঁর এ বক্তব্য اشهد على هذا غيرى আকদ ও চুক্তি বিশুদ্ধ হবারই প্রমাণ।
كتاب الهبة والصدقة
5848 - فَحَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ مَرْزُوقٍ قَالَ: ثنا الْخَصِيبُ بْنُ نَاصِحٍ قَالَ: ثنا وُهَيْبٌ عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدَ عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ: انْطَلَقَ بِي أَبِي إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحَلَنِي نُحْلَى لِيُشْهِدَهُ عَلَى ذَلِكَ، فَقَالَ: «أَكُلَّ وَلَدِكَ نَحَلْتَهُ مِثْلَ هَذَا» فَقَالَ: لَا. قَالَ: «أَيَسُرُّكَ أَنْ يَكُونُوا إِلَيْكَ فِي الْبِرِّ كُلُّهُمْ سَوَاءً» قَالَ: بَلَى قَالَ: «فَأَشْهِدْ عَلَى هَذَا غَيْرِي» فَكَانَ وَالَّذِي فِي هَذَا الْحَدِيثِ مِنْ قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِبَشِيرٍ فِيمَا كَانَ نَحَلَهُ النُّعْمَانُ أَشْهِدْ عَلَى هَذَا غَيْرِي. فَهَذَا دَلِيلٌ أَنَّ الْمِلْكَ ثَابِتٌ لِأَنَّهُ لَوْ لَمْ يَثْبُتْ لَا يَصِحُّ قَوْلُهُ. فَهَذَا بِخِلَافِ مَا فِي الْحَدِيثِ الْأَوَّلِ لِأَنَّ هَذَا الْقَوْلَ لَا يَدُلُّ عَلَى فَسَادِ الْعَقْدِ الَّذِي كَانَ عَقَدَهُ النُّعْمَانُ لِأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ يَتَوَقَّى الشَّهَادَةَ عَلَى مَالِهِ أَنْ يُشْهِدَ عَلَيْهِ وَعَلَى الْأُمُورِ الَّتِي قَدْ كَانَتْ. وَكَذَلِكَ لِمَنْ بَعْدَهُ لِأَنَّ الشَّهَادَةَ إِنَّمَا هِيَ أَمْرٌ يَتَضَمَّنُهُ الشَّاهِدُ لِلْمَشْهُودِ لَهُ فَلَهُ أَنْ لَا يَتَضَمَّنَ ذَلِكَ. وَقَدْ يُحْتَمَلُ غَيْرُ هَذَا أَيْضًا فَيَكُونُ قَوْلُهُ أَشْهِدْ عَلَى هَذَا غَيْرِي أَيْ: إِنِّي أَنَا الْإِمَامُ وَالْإِمَامُ لَيْسَ مِنْ شَأْنِهِ أَنْ يَشْهَدَ وَإِنَّمَا مِنْ شَأْنِهِ أَنْ يَحْكُمَ. [ص:86] وَفِي قَوْلِهِ أَشْهِدْ عَلَى هَذَا غَيْرِي دَلِيلٌ عَلَى صِحَّةِ الْعَقْدِ.

হাদীসের ব্যাখ্যা:

একথা স্পষ্ট যে, এ হাদীসে সন্তানদের সাথে অসম আচরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং এটাকে বেইনসাফী সাব্যস্ত করা হয়েছে। কোন কোন ফকীহ এটাকে হারাম পর্যন্ত বলেছেন। তবে অধিকাংশ ফকীহ এবং ইমাম চতুষ্টয়ের মধ্যে ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক ও ইমাম শাফেয়ী (রহ) কিছু কিছু দলীল ও ইঙ্গিতের ভিত্তিতে এটাকে হারাম তো বলেননি; কিন্তু মাকরূহ ও অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ সাব্যস্ত করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে যে, এ বিধানটি কেবল ঐ অবস্থায়, যখন কাউকে প্রাধান্য দান শরী‘আতসম্মত কোন কারণ ছাড়াই হয়। কিন্তু যদি কোন কারণ থাকে, তাহলে এ কারণ অনুসারে কাউকে প্রাধান্য দেওয়া বৈধ হবে। যেমন, সন্তানদের মধ্যে কেউ যদি চিররোগী হয় এবং সে অন্য ভাইদের মত জীবিকা উপার্জনের চেষ্টা-সাধনা করতে না পারে, তাহলে তার সাথে বিশেষ আচরণ ন্যায়-নীতির পরিপন্থী হবে না; বরং এক পর্যায়ে জরুরী ও সওয়াবের কাজ বিবেচিত হবে। অনুরূপভাবে সন্তানদের মধ্য থেকে কেউ যদি নিজেকে দ্বীন ও জাতির খেদমতে এভাবে নিয়োজিত করে দেয় যে, জীবিকার চেষ্টায় বেশী অংশগ্রহণ করতে পারে না, তাহলে তার সাথেও উপযোগী পর্যায় পর্যন্ত বিশেষ আচরণ কেবল জায়েযই নয়; বরং সওয়াবের কাজ হবে। অনুরূপভাবে এক ভাইয়ের প্রতি বিশেষ ও প্রাধান্যমূলক আচরণ করাতে অন্য ভাইয়েরা যদি সন্তুষ্ট থাকে, তাহলেও এটা জায়েয হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান