শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১৪. উপহার ও সাদ্‌কা প্রদান সংক্রান্ত অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৮৪৭
উপহার ও সাদ্‌কা প্রদান সংক্রান্ত অধ্যায়
কোন পুত্রকে বাদ দিয়ে যে ব্যক্তি তার অপর কোন পুত্রকে দান করে
৫৮৪৭। ইউনুস …… নুমান ইবন বশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একবার তার আব্বা তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট উপস্থিত হলেন। অতঃপর তিনি বললেন : আমার এই পুত্রকে আমি একটা গোলাম দান করেছি। তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন : তোমার প্রত্যেক সন্তানকে কি অনুরূপ দান করেছ? তিনি বললেন, না। রাসূলুল্লাহ ﷺ তখন বললেন: তুমি তাকে ফিরিয়ে নাও।
আবু দাউদ ব্যতীত মুহাদ্দিসের একটি দল হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
আলোচনা : আবু জাফর (রাহঃ) বলেন, একদল উলামা-ই কিরাম এ মত পোষণ করেন, কোন ব্যক্তি যখন তার কোন সন্তানকে বাদ দিয়ে অন্য কোন সন্তানকে দান করে, তার এই দান বাতিল হবে। তারা উল্লেখিত এ হাদীসকে দলীল হিসেবে পেশ করেন। তারা বলেন : নুমান ইবন বশীর (রাযিঃ) কে তার আব্বা যখন গোলাম দান করেছিলেন, তখন তিনি শিশু ছিলেন। অতএব তার পক্ষ হতে তার আব্বাই তা গ্রহন করেছিলেন। কারন ছোট হবার কারনে তার কবজা গ্রহনযোগ্য নয়। অতঃপর নবী ﷺ তার গ্রহণ করার হুকুম আসার পর যখন তাকে বললেন, "গোলামটা ফিরিয়ে নাও", তখন তা এ কথা প্রমান করে যে, কোন এক সন্তানকে দান করে অন্য সন্তানকে দান না করলে যাকে দান করা হয়েছে সে তার মালিক হবে না এবং তার জন্য হেবার চুক্তিও সম্পন্ন হবে না।

আল্লামা আইনী (রাহঃ) বলেন, তাউস, আতা ইবন আবী রবাহ, মুজাহিদ, উরওয়া, ইবন জুরায়জ, নাখঈ, শা'বী, ইবন শুবরুমা, আহমদ, ইসহাক, দাউদ এবং সমস্ত যাহিরপন্হি আলিম।

অপরপক্ষে উলামা-ই কিরামের অন্য একটি জামাত ভিন্নমত পোষণ করে বলেন: প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, সে যেন দানের ব্যাপারে সন্তানদের মধ্যে সমতা অবলম্বন করে। যেন তারা সকলেই তার এই নেক কাজের সমান অধিকারী হয়। আর তার সন্তানদের একজনকে যেন অন্যজনের চেয়ে বেশী না দেয়। এতে যাদের ওপর একে বেশী দেয়া হবে, তাদের অন্তরে মলিনতা সৃষ্টি হবে। অবশ্য যদি কোন সন্তানকে অতিরিক্ত কিছু দান করে থাকে এবং যাকে দান করা হয়েছে, সে যদি তা গ্রহন করে থাকে, যদি সে বড় (বালেগ হয়) অথবা ছোট হলে তার আব্বা যদি তার পক্ষে তাকে জানিয়ে ও সাক্ষী রেখে গ্রহণ করে, তবে তা জায়েয আছে।
আল্লামা আইনী (রাহঃ) বলেন, এ উলামা-ই কিরাম হচ্ছেন, সাওরী, লায়স, ইবন সা'দ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির, ইমাম আবু হানীফা, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী এবং এক রিওয়ায়াত মুতাবিক ইমাম আহমদ (রাহঃ)-ও।
আর এ বিষয়ে তাদের দলীল হলো, আমরা হযরত নু'মান (রাযিঃ) এর যে হাদীস বর্ণনা করেছি, তার থেকে। সে হাদীস তাদের মতে যেমন বর্ণিত হয়েছে, তাতে এ কথার কোন প্রমাণ নেই যে, নু'মান (রাযিঃ) তখন ছোট ছিলেন। সম্ভবত তখন তিনি বড়ই ছিলেন কিন্তু তিনি গোলাম হস্তগত করেন নি।
প্রথম হাদীসে যে অর্থ বর্ণিত হয়েছে, তার বিপরীত অর্থেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। যেমন:
كتاب الهبة والصدقة
5847 - حَدَّثَنَا يُونُسُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَنَّ مَالِكًا، حَدَّثَهُ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، حَدَّثَاهُ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ إِنَّ أَبَاهُ أَتَى بِهِ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنِّي نَحَلْتُ ابْنِي هَذَا غُلَامًا كَانَ لِي. [ص:85] فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَكُلَّ وَلَدِكَ نَحَلْتَهُ مِثْلَ هَذَا» ، فَقَالَ: لَا، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَارْجِعْهُ» قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَذَهَبَ قَوْمٌ إِلَى أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا نَحَلَ بَعْضَ بَنِيهِ دُونَ بَعْضٍ أَنَّ ذَلِكَ بَاطِلٌ. وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِهَذَا الْحَدِيثِ وَقَالُوا: قَدْ كَانَ النُّعْمَانُ فِي وَقْتِ مَا نَحَلَهُ أَبُوهُ صَغِيرًا فَكَانَ أَبُوهُ قَابِضًا لَهُ لِصِغَرِهِ عَنِ الْقَبْضِ لِنَفْسِهِ. فَلَمَّا قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ارْدُدْهُ بَعْدَمَا كَانَ فِي حُكْمِ مَا قَبَضَ دَلَّ هَذَا أَنَّ النُّحْلَى مِنَ الْوَالِدِ لِبَعْضِ وَلَدِهِ دُونَ بَعْضٍ لَا يَمْلِكُهُ الْمَنْحُولُ وَلَا يَنْعَقِدُ لَهُ عَلَيْهِ هِبَةٌ. وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ فَقَالُوا: يَنْبَغِي لِلرَّجُلِ أَنْ يُسَوِّيَ بَيْنَ وَلَدِهِ فِي الْعَطِيَّةِ لِيَسْتَوُوا فِي الْبِرِّ وَلَا يُفَضِّلُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ فَيُوقِعُ ذَلِكَ لَهُ الْوَحْشَةَ فِي قُلُوبِ الْمَفْضُولِينَ مِنْهُمْ. فَإِنْ نَحَلَ بَعْضَهُمْ شَيْئًا دُونَ بَعْضٍ وَقَبَضَهُ الْمَنْحُولُ لِنَفْسِهِ إِنْ كَانَ كَبِيرًا أَوْ قَبَضَهُ لَهُ أَبُوهُ مِنْ نَفْسِهِ إِنْ كَانَ صَغِيرًا بِإِعْلَامِهِ إِيَّاهُ وَالْإِشْهَادِ بِهِ فَهُوَ جَائِزٌ. وَكَانَ مِنَ الْحُجَّةِ لَهُمْ فِي ذَلِكَ أَنَّ حَدِيثَ النُّعْمَانِ الَّذِي ذَكَرْنَا قَدْ رُوِيَ عَنْهُ عَلَى مَا ذَكَرُوا وَلَيْسَ فِيهِ دَلِيلٌ أَنَّهُ كَانَ حِينَئِذٍ صَغِيرًا وَلَعَلَّهُ وَقَدْ كَانَ كَبِيرًا وَلَمْ يَكُنْ قَبَضَهُ. وَقَدْ رُوِيَ أَيْضًا عَلَى غَيْرِ هَذَا الْمَعْنَى الَّذِي فِي الْحَدِيثِ الْأَوَّلِ.
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
ত্বহাবী শরীফ - হাদীস নং ৫৮৪৭ | মুসলিম বাংলা