শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১৩. যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৫০১
যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
২. শুকনা খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর বিক্রয় প্রসঙ্গ
৫৫০১। ইউনুস বলেন, ইবনে ওয়াহব ..... ইমরান ইবনে আবী আনাস হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বনু মাখযুম গােত্রের একজন আযাদ করা গােলাম তাকে বলেছেন যে, একবার তিনি হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াককাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, কেউ কারাে কাছে নির্ধারিত মেয়াদে তাজা খেজুর শুকনাে খেজুরের বিনিময়ে বিক্রয় করতে পারবে কি না? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে এরূপ ক্রয়-বিক্রয় হতে নিষেধ করেছেন।”
এই যে ইমরান ইবন আবী আনাস, তিনি একজন সুপরিচিত পূর্ববর্তী মুহাদ্দিস, তিনিও হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনে আবী কাসীর এর ন্যায় বর্ণনা করেছেন। অতএব আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ হতে যখন হাদীসটি বিভিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে, সে ক্ষেত্রে হাদীসের বিশুদ্ধ অর্থ নির্ণয়ের জন্য আব্দুল্লাহ ইবন ইয়াযীদের হাদীসের পরিবর্তে এই ‘ইমরান’ এর হাদীসকে প্রতিষ্ঠিত মেনে নেয়া হবে। আর তখন হযরত সা'দ (রাযিঃ)-এর হাদীসে যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তাকে বাকী বিক্রয়ের কারণে নিষিদ্ধ বলতে হবে, অন্য কোন কারণে নয়। আর এটাই হলাে আলােচ্য অধ্যায়ে হাদীসগুলাের অর্থগত বিশুদ্ধায়নের উপায়।
যুক্তিভিত্তিক দলীল
আর যুক্তিগত কারণ এই যে, আমরা উলামা-ই কিরামকে দেখি, তারা তাজা খেজুরের বিনিময়ে সমান সমান তাজা খেজুর বিক্রয় করা জায়িয হবার ব্যাপারে কোন দ্বিমত পােষণ করেন না। অনুরূপভাবে শুকনাে খেজুরও সমান সমান শুকনা খেজুরের বিনিময়ে বিক্রয় করা জায়িয হবার ব্যাপারে কোন মতপার্থক্য নেই। যদিও একজনের খেজুরে কিছুটা আর্দ্রতা থাকে, যা অন্যজনের খেজুরে থাকে না। পরবর্তীতে কিন্তু উভয় পক্ষের খেজুরই শুকোতে শুকোতে ভিন্ন মাত্রায় পরিমাণে কমতে থাকে। কিন্তু শুষ্ক হওয়ার সময়ের এই হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করে তারা কিন্তু ক্রয়-বিক্রয় বাতিল ঘােষণা করেননি। বরং তারা দেখেছেন, ক্রয় বিক্রয়ের সময় যে অবস্থা ছিল তার প্রতি। তখন উভয়টাই সমান ছিল। পরবর্তীতে শুকিয়ে বেশকম হওয়ার বিষয়টিকে তারা ‘ধর্তব্য’ করেননি। অতএব এটাই যে, তাজা খেজুর যখন, শুকনাে খেজুরের বিনিময়ে বিক্রয় হবে তখনকার অবস্থার প্রতি দৃষ্টিপাত করতে হবে (সমান সমান কিনা) পরবর্তীতে অবস্থার কি পরিবর্তন হবে সেদিকে দেখার প্রয়ােজন নেই। এটাই ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর মত আর আমাদের মতেও এটাই যুক্তি সংগত।
এই যে ইমরান ইবন আবী আনাস, তিনি একজন সুপরিচিত পূর্ববর্তী মুহাদ্দিস, তিনিও হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনে আবী কাসীর এর ন্যায় বর্ণনা করেছেন। অতএব আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ হতে যখন হাদীসটি বিভিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে, সে ক্ষেত্রে হাদীসের বিশুদ্ধ অর্থ নির্ণয়ের জন্য আব্দুল্লাহ ইবন ইয়াযীদের হাদীসের পরিবর্তে এই ‘ইমরান’ এর হাদীসকে প্রতিষ্ঠিত মেনে নেয়া হবে। আর তখন হযরত সা'দ (রাযিঃ)-এর হাদীসে যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তাকে বাকী বিক্রয়ের কারণে নিষিদ্ধ বলতে হবে, অন্য কোন কারণে নয়। আর এটাই হলাে আলােচ্য অধ্যায়ে হাদীসগুলাের অর্থগত বিশুদ্ধায়নের উপায়।
যুক্তিভিত্তিক দলীল
আর যুক্তিগত কারণ এই যে, আমরা উলামা-ই কিরামকে দেখি, তারা তাজা খেজুরের বিনিময়ে সমান সমান তাজা খেজুর বিক্রয় করা জায়িয হবার ব্যাপারে কোন দ্বিমত পােষণ করেন না। অনুরূপভাবে শুকনাে খেজুরও সমান সমান শুকনা খেজুরের বিনিময়ে বিক্রয় করা জায়িয হবার ব্যাপারে কোন মতপার্থক্য নেই। যদিও একজনের খেজুরে কিছুটা আর্দ্রতা থাকে, যা অন্যজনের খেজুরে থাকে না। পরবর্তীতে কিন্তু উভয় পক্ষের খেজুরই শুকোতে শুকোতে ভিন্ন মাত্রায় পরিমাণে কমতে থাকে। কিন্তু শুষ্ক হওয়ার সময়ের এই হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করে তারা কিন্তু ক্রয়-বিক্রয় বাতিল ঘােষণা করেননি। বরং তারা দেখেছেন, ক্রয় বিক্রয়ের সময় যে অবস্থা ছিল তার প্রতি। তখন উভয়টাই সমান ছিল। পরবর্তীতে শুকিয়ে বেশকম হওয়ার বিষয়টিকে তারা ‘ধর্তব্য’ করেননি। অতএব এটাই যে, তাজা খেজুর যখন, শুকনাে খেজুরের বিনিময়ে বিক্রয় হবে তখনকার অবস্থার প্রতি দৃষ্টিপাত করতে হবে (সমান সমান কিনা) পরবর্তীতে অবস্থার কি পরিবর্তন হবে সেদিকে দেখার প্রয়ােজন নেই। এটাই ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর মত আর আমাদের মতেও এটাই যুক্তি সংগত।
كتاب البيوع و الصرف
5501 - حَدَّثَنَا يُونُسُ، قَالَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، حَدَّثَهُ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي أَنَسٍ، أَنَّ مَوْلًى لِبَنِي مَخْزُومٍ حَدَّثَهُ , أَنَّهُ، سُئِلَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ عَنِ الرَّجُلِ يُسْلِفُ الرَّجُلَ الرُّطَبَ بِالتَّمْرِ إِلَى أَجَلٍ؟ فَقَالَ سَعْدٌ: نَهَانَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ هَذَا [ص:7] فَهَذَا عِمْرَانُ بْنُ أَبِي أَنَسٍ , وَهُوَ رَجُلٌ مُتَقَدِّمٌ مَعْرُوفٌ , قَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ , كَمَا رَوَاهُ يَحْيَى. فَكَانَ يَنْبَغِي فِي تَصْحِيحِ مَعَانِي الْآثَارِ أَنْ يَكُونَ حَدِيثُ عَبْدِ اللهِ بْنِ يَزِيدَ، لَمَّا اخْتُلِفَ عَنْهُ فِيهِ، أَنْ يَرْتَفِعَ وَيَثْبُتَ حَدِيثُ عِمْرَانَ هَذَا. فَيَكُونَ هَذَا النَّهْيُ الَّذِي جَاءَ فِي حَدِيثِ سَعْدٍ هَذَا , إِنَّمَا هُوَ لِعِلَّةِ النَّسِيئَةِ لَا لِغَيْرِ ذَلِكَ. فَهَذَا سَبِيلُ هَذَا الْبَابِ , مِنْ طَرِيقِ تَصْحِيحِ الْآثَارِ. وَأَمَّا وَجْهُهُ مِنْ طَرِيقِ النَّظَرِ , فَإِنَّا قَدْ رَأَيْنَاهُمْ لَا يَخْتَلِفُونَ فِي بَيْعِ الرُّطَبِ بِالرُّطَبِ , مِثْلًا بِمِثْلٍ , أَنَّهُ جَائِزٌ. وَكَذَلِكَ التَّمْرُ بِالتَّمْرِ , مِثْلًا بِمِثْلٍ , وَإِنْ كَانَتْ فِي أَحَدِهِمَا رُطُوبَةٌ لَيْسَتْ فِي الْآخَرِ , وَكُلُّ ذَلِكَ يَنْقُصُ إِذَا بَقِيَ نُقْصَانًا مُخْتَلِفًا وَيَجِفُّ. فَلَمْ يَنْظُرُوا إِلَى ذَلِكَ فِي حَالِ الْجُفُوفِ , فَيُبْطِلُوا الْبَيْعَ بِهِ , بَلْ نَظَرُوا إِلَى حَالِهِ فِي وَقْتِ وُقُوعِ الْبَيْعِ , فَعَمِلُوا عَلَى ذَلِكَ وَلَمْ يُرَاعُوا مَا يَئُولُ إِلَيْهِ بَعْدَ ذَلِكَ مِنْ جُفُوفٍ وَنُقْصَانَ. فَالنَّظَرُ عَلَى ذَلِكَ أَنْ يَكُونَ كَذَلِكَ , الرُّطَبُ بِالتَّمْرِ , يُنْظَرُ إِلَى ذَلِكَ فِي وَقْتِ وُقُوعِ الْبَيْعِ , وَلَا يُنْظَرُ إِلَى مَا يَئُولُ إِلَيْهِ مِنْ تَغْيِيرٍ وَجُفُوفٍ. وَهَذَا قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ رَحْمَةُ اللهِ تَعَالَى عَلَيْهِ وَهُوَ النَّظَرُ عِنْدَنَا