শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১৩. যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৪৯৭
যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
১. পরস্পরে অতিরিক্ত লেন-দেন করে গমের বিনিময়ে যব বিক্রয় প্রসঙ্গ
৫৪৯৭। ইবরাহীম ইবনে আবী দাউদ ..... মুসলিম ইবনে ইয়াসার এবং অন্য আর একজন রাবী হতে বর্ণনা করেন। তারা বলেন, “একবার এক মানযিলে হযরত উবাদা ইবনে ছামিত ও আবু মু'আবিয়া (রাযিঃ) একটি গির্জায় একত্রিত হন। তখন হযরত উবাদা ইবনে ছামিত (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন, “তােমরা সােনার বিনিময়ে সােনা, রূপার বিনিময়ে রূপা, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর এবং লবণের বিনিময়ে লবণ সমান সমান ও নগদ ব্যতীত ক্রয়-বিক্রয় কর না। রাবীদ্বয়ের একজন বলেন, হযরত উবাদা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে নির্দেশ প্রদান করেছেন, “আমরা যেন সােনাকে রূপার বিনিময়ে গমকে যবের বিনিময়ে এবং যবকে গমের বিনিময়ে যেমন ইচ্ছা তেমন বিক্রয় করি”।**
ইমাম তাহাবী (রাহঃ) এর যুক্তিভিত্তিক দলীল
আবু জাফর বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে বর্ণিত এসব হাদীসে দ্বিগুণ যবের বিনিময়ে একগুণ গম বিক্রয় করা যে জায়িয সে কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অতএব বিভিন্ন শ্রেণীর খাদ্যসামগ্রীর বেশকম পরিমাণের বিনিময়ের বৈধতা ‘হাদীসিয় দলিল দ্বারা প্রমাণিত হল। অতঃপর আমরা যুক্তির আলােকে এর হুকুম অন্বেষণ করেছি, যাতে আমরা যুক্তির মাধ্যমে এর সঠিক ফায়সালা জানতে পারি। আমরা নবী (ﷺ)-এর সাহাবায়ে কিরামকে দেখেছি, তারা ‘ইয়ামীন' (বা কসম) এর কাফফারা কি পরিমাণ গম হবে, সে বিষয়ে মতপার্থক্য করেছেন। কেউ কেউ বলেন, প্রতি মিসকীনকে অর্ধ ছা গম দিতে হবে। আবার কেউ বলেন, প্রতি মিসকীনকে এক মুদ্দ গম দিতে হবে। অতঃপর দেখা যায় তারা অর্ধ ছা গম নির্ধারণ করেন, তারা যবের ক্ষেত্রে নির্ধারণ করেন এক-ছা। আর যারা এক মুদ্দ গম নির্ধারণ করেন, তারা যবের ক্ষেত্রে নির্ধারণ করেন দু মুদ্দ। আর এসব বিষয় আমরা অন্য স্থানে সাহাবা কিরাম হতে সনদসহ পূর্বেই আলােচনা করেছি। এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, গম ও যব দুটো পৃথক বস্তু। কারণ, অভিন্ন হলে একটির জন্য অন্যটি অবশ্যই যথেষ্ট হত।
যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, গমের স্থানে যবের পরিমাণ তাে অতিরিক্ত এ কারণে প্রদান করা হয় যে, গমের তুলনায় যবের মূল্য বেশী এবং যব সস্তা। তবে প্রশ্নের জবাব হলাে, 'ইয়ামীন' এর কাফফারা আদায় করার ব্যাপারে কিন্তু উত্তম গম ও অনুত্তম গমকে পৃথক করে দেখা হয় না, দুটোকেই দেখি, সমপরিমাণ দেয়া হয়। অনুরূপভাবে যব দ্বারা কাফফারা আদায় করার ক্ষেত্রেও উত্তম ও অনুত্তম যবে কোন পার্থক্য করা হয় না। দেখুন না, যে ব্যক্তির ওপর 'ইয়ামীন' এর কাফফারা ওয়াজিব হলাে আর সে প্রতি মিসকীনকে অর্ধ মুদ্দ দান করল, যা অর্ধ ছা' এর সমমানের হলাে, তা কিন্তু তার অর্ধ ছা'র গমের জন্য যথেষ্ট হবে না আর এক মুদ্দ গমের জন্যও যথেষ্ট হবে না। অতএব আমরা যা উল্লেখ করলাম তা যখন এরকমই এবং ‘ইয়ামীন' এর কাফফারা সমূহেও গমের মতই যব দ্বারা কাফফারা আদায় করা হত। এতে একথা প্রমাণিত হয় যে, যব গম হতে পৃথক বস্তু। অতএব এ দ্বারা একথা প্রমাণিত হলাে যে, দ্বিগুণ ও ততােধিক যবের বিনিময়ে একগুণ গম ক্রয়-বিক্রয় করায় কোন অসুবিধা নেই। আর এটাই ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাযিঃ)-এর মাযহাব।
ইমাম তাহাবী (রাহঃ) এর যুক্তিভিত্তিক দলীল
আবু জাফর বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে বর্ণিত এসব হাদীসে দ্বিগুণ যবের বিনিময়ে একগুণ গম বিক্রয় করা যে জায়িয সে কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অতএব বিভিন্ন শ্রেণীর খাদ্যসামগ্রীর বেশকম পরিমাণের বিনিময়ের বৈধতা ‘হাদীসিয় দলিল দ্বারা প্রমাণিত হল। অতঃপর আমরা যুক্তির আলােকে এর হুকুম অন্বেষণ করেছি, যাতে আমরা যুক্তির মাধ্যমে এর সঠিক ফায়সালা জানতে পারি। আমরা নবী (ﷺ)-এর সাহাবায়ে কিরামকে দেখেছি, তারা ‘ইয়ামীন' (বা কসম) এর কাফফারা কি পরিমাণ গম হবে, সে বিষয়ে মতপার্থক্য করেছেন। কেউ কেউ বলেন, প্রতি মিসকীনকে অর্ধ ছা গম দিতে হবে। আবার কেউ বলেন, প্রতি মিসকীনকে এক মুদ্দ গম দিতে হবে। অতঃপর দেখা যায় তারা অর্ধ ছা গম নির্ধারণ করেন, তারা যবের ক্ষেত্রে নির্ধারণ করেন এক-ছা। আর যারা এক মুদ্দ গম নির্ধারণ করেন, তারা যবের ক্ষেত্রে নির্ধারণ করেন দু মুদ্দ। আর এসব বিষয় আমরা অন্য স্থানে সাহাবা কিরাম হতে সনদসহ পূর্বেই আলােচনা করেছি। এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, গম ও যব দুটো পৃথক বস্তু। কারণ, অভিন্ন হলে একটির জন্য অন্যটি অবশ্যই যথেষ্ট হত।
যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, গমের স্থানে যবের পরিমাণ তাে অতিরিক্ত এ কারণে প্রদান করা হয় যে, গমের তুলনায় যবের মূল্য বেশী এবং যব সস্তা। তবে প্রশ্নের জবাব হলাে, 'ইয়ামীন' এর কাফফারা আদায় করার ব্যাপারে কিন্তু উত্তম গম ও অনুত্তম গমকে পৃথক করে দেখা হয় না, দুটোকেই দেখি, সমপরিমাণ দেয়া হয়। অনুরূপভাবে যব দ্বারা কাফফারা আদায় করার ক্ষেত্রেও উত্তম ও অনুত্তম যবে কোন পার্থক্য করা হয় না। দেখুন না, যে ব্যক্তির ওপর 'ইয়ামীন' এর কাফফারা ওয়াজিব হলাে আর সে প্রতি মিসকীনকে অর্ধ মুদ্দ দান করল, যা অর্ধ ছা' এর সমমানের হলাে, তা কিন্তু তার অর্ধ ছা'র গমের জন্য যথেষ্ট হবে না আর এক মুদ্দ গমের জন্যও যথেষ্ট হবে না। অতএব আমরা যা উল্লেখ করলাম তা যখন এরকমই এবং ‘ইয়ামীন' এর কাফফারা সমূহেও গমের মতই যব দ্বারা কাফফারা আদায় করা হত। এতে একথা প্রমাণিত হয় যে, যব গম হতে পৃথক বস্তু। অতএব এ দ্বারা একথা প্রমাণিত হলাে যে, দ্বিগুণ ও ততােধিক যবের বিনিময়ে একগুণ গম ক্রয়-বিক্রয় করায় কোন অসুবিধা নেই। আর এটাই ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাযিঃ)-এর মাযহাব।
كتاب البيوع و الصرف
5497 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي دَاوُدَ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ، قَالَ: ثنا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: ثنا سَلَمَةُ بْنُ عَلْقَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ، وَذَكَرَ آخَرَ حَدَّثَاهُ , أَوْ، حَدَّثَنَا قَالَ: جَمَعَ الْمَنْزِلُ بَيْنَ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ وَمُعَاوِيَةَ , فِي كَنِيسَةٍ أَوْ بِيعَةٍ. فَحَدَّثَ عُبَادَةُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ «لَا تَبِيعُوا الذَّهَبَ بِالذَّهَبِ , وَلَا الْوَرِقَ بِالْوَرِقِ , وَلَا الْبُرَّ بِالْبُرِّ , وَلَا الشَّعِيرَ بِالشَّعِيرِ , وَلَا التَّمْرَ بِالتَّمْرِ , وَلَا الْمِلْحَ بِالْمِلْحِ , إِلَّا سَوَاءً بِسَوَاءٍ , عَيْنًا بِعَيْنٍ» قَالَ أَحَدُهُمَا , وَلَمْ يَقُلِ الْآخَرُ: قَالَ عُبَادَةُ: أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَبِيعَ الذَّهَبَ بِالْفِضَّةِ , وَالْبُرَّ بِالشَّعِيرِ , وَالشَّعِيرَ بِالْبُرِّ , يَدًا بِيَدٍ , كَيْفَ شِئْنَا قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَفِي هَذِهِ الْآثَارِ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِبَاحَةُ بَيْعِ الشَّعِيرِ بِالْحِنْطَةِ مِثْلَيْنِ بِمِثْلٍ , فَقَدْ ثَبَتَ الْقَوْلُ بِذَلِكَ مِنْ طَرِيقِ الْآثَارِ , ثُمَّ الْتَمَسْنَا حُكْمَ ذَلِكَ مِنَ الْحِنْطَةِ كَمْ هِيَ؟ فَقَالَ بَعْضُهُمْ: هِيَ نِصْفُ صَاعٍ لِكُلِّ مِسْكِينٍ , وَقَالَ بَعْضُهُمْ: هِيَ مُدٌّ لِكُلِّ مِسْكِينٍ. فَكَانَ الَّذِينَ جَعَلُوهَا مِنَ الْحِنْطَةِ نِصْفَ صَاعٍ , يَجْعَلُونَهَا مِنَ الشَّعِيرِ صَاعًا , وَكَانَ الَّذِي جَعَلُوهَا مِنَ الْحِنْطَةِ مُدًّا , يَجْعَلُونَهَا مِنَ الشَّعِيرِ مُدَّيْنِ , وَقَدْ ذَكَرْنَا ذَلِكَ بِأَسَانِيدِهِ عَنْهُمْ فِي غَيْرِ هَذَا الْمَوْضِعِ. فَثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّهُمَا نَوْعَانِ مُخْتَلِفَانِ , لِأَنَّهُمَا لَوْ كَانَا مِنْ نَوْعٍ وَاحِدٍ , إِذًا لَأَجْزَأَ مِنْ أَحَدِهِمَا مَا يُجْزِئُ مِنَ الْآخَرِ. فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: إِنَّهُ إِنَّمَا زِيدَ فِي الشَّعِيرِ , عَلَى مَا جُعِلَ فِي ذَلِكَ مِنَ الْحِنْطَةِ , لِغُلُوِّ الْحِنْطَةِ , وَاتِّسَاعِ الشَّعِيرِ. فَالْجَوَابُ لَهُ فِي ذَلِكَ , أَنَّا رَأَيْنَا مَا يُعْطَى مِنْ جَيِّدِ الْحِنْطَةِ وَمِنْ رَدِيئِهَا فِي كَفَّارَةِ الْأَيْمَانِ سَوَاءً , وَكَذَلِكَ الشَّعِيرُ. أَلَا تَرَى أَنَّ مَنْ وَجَبَتْ عَلَيْهِ كَفَّارَةُ يَمِينٍ , فَأَعْطَى كُلَّ مِسْكِينٍ نِصْفَ مُدٍّ , يُسَاوِي نِصْفَ صَاعٍ , أَنَّ ذَلِكَ لَا يُجْزِئُهُ مِنْ نِصْفِ صَاعٍ , وَلَا مِنْ مُدٍّ. فَلَمَّا كَانَ مَا ذَكَرْنَا كَذَلِكَ , وَكَانَ الشَّعِيرُ يُؤَدَّى مِنْهُ كَفَّارَاتُ الْأَيْمَانِ مِثْلَيْ مَا يُؤَدَّى مِنَ الْحِنْطَةِ , فَثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّهُ نَوْعٌ خِلَافُ الْحِنْطَةِ. فَثَبَتَ بِذَلِكَ أَنْ لَا بَأْسَ بِبَيْعِهِ بِالْحِنْطَةِ , مِثْلَيْنِ بِمِثْلٍ وَأَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ , وَهَذَا قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ , وَأَبِي يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
** হাদীসটি ইমাম বায়হাক্বী তার 'সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।