শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১২. জিহাদের বিধানাবলী সম্পর্কিত

হাদীস নং: ৫৪৬৩
জিহাদের বিধানাবলী সম্পর্কিত
২০. অধ্যায়ঃ রাসূলুল্লাহ্ ﷺ কর্তৃক মক্কা বলপূর্বক বিজয় করার প্রমাণ
৫৪৬৩। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ ইবনে আবী মারইয়াম (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে রিবাহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিনিধি দল মু'আবিয়া (রাযিঃ)-এর খিদমতে উপস্থিত হয় এবং আমাদের মাঝে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) ও বিদ্যমান ছিলেন। তিনি বললেন, হে আনসারের দল! আমি কি তােমাদেরকে তােমাদের সম্পর্কিত একটি হাদীস শুনাব না? অতঃপর তিনি মক্কা বিজয়ের বিষয় উল্লেখ করে বললেন, যখন নবী (ﷺ) মক্কাতে আগমন করেন তখন তিনি এভাবে প্রবেশ করেন যে, যুবাইর ইবনে আওয়াম (রাযিঃ) কে সৈন্য বাহিনীর একাংশের উপর নির্ধারণ করেন, খালিদ ইবনে ওলীদ (রাযিঃ)-কে অপরাংশের উপর নির্ধারণ করেন এবং আবু উবায়দা (রাযিঃ) কে সম্মুখাংশের উপর নির্ধারণ করেন। তারা বাতনে ওয়াদীতে চলে গিয়েছিলেন। আর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সৈন্য বাহিনীর একাংশে ছিলেন। তিনি লক্ষ্য করলেন এবং আমাকে দেখলেন। বললেন, হে আবু হুরায়রা! আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! (ﷺ) আমি উপস্থিত। বললেন, আনসারদেরকে আমার কাছে ডাক এবং আনসারদের ব্যতীত অন্য কাউকে ডেকনা। বলেন, তিনি তাদেরকে ডাকলেন। তারা তার চারপাশে সমবেত হলাে এবং কুরায়শরা নিজেদের লম্পট ও তাদের অনুসারীদেকে একত্রিত করল। তারা বলল, এরা সম্মুখে অগ্রসর হয়েছে, যদি তারা সফল হয় তবে আমরা তাদের সঙ্গী হয়ে যাব। আর যদি তারা মারা যায়। তাহলে আমরা তাদেরকে ততটুকু সম্পদ প্রদান করব যা তারা চাইবে। নবী (ﷺ)-এর পাশে যখন আনসারগণ একত্রিত হলেন তখন তিনি তাদেরকে বললেন, কুরায়শদের লম্পট ও তাদের অনুসারীদের প্রতি লক্ষ্য রেখ। অতঃপর এক হাত অপর হাতের উপর রেখে বললেন, তাদেরকে উত্তমরূপে কাট (হত্যা কর)। অবশেষে তােমরা সাফা (পাহাড়ে) আমার সঙ্গে এসে মিলিত হও। সুতরাং তারা চললেন, আমাদের থেকে যে কেউ যাকে ইচ্ছা করত হত্যা করত এবং তাদের কেউ আমাদের দিকে মনােনিবেশ করে নাই। আবু সুফইয়ান (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (ﷺ) কুরায়শের যুবকদেরকে রক্ষা করুন। (অন্যথায়) আজকের পরে কুরায়শের অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকবেনা। নবী (ﷺ) বললেন, যে ব্যক্তি নিজের দরজা বন্ধ করে দিবে সে নিরাপদ, যে ব্যক্তি আবু সুফইয়ানের গৃহে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ। অনন্তর লোকেরা তাদের দরজা বন্ধ করে দিল। নবী (ﷺ) তাশরীফ আনলেন এবং হাজরে আসওয়াদ-এর নিকট এসে তা চুম্বন করলেন, এর পর বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলেন। অতঃপর বায়তুল্লাহর একপাশে স্থাপিত মূর্তির কাছে এলেন, যাকে তারা উপাসনা করত। তার হাতে ধনুক ছিলাে, তিনি ধনুকের প্রান্ত ধারণ করেছিলেন। যখন তিনি মূর্তির কাছে এলেন তখন এর চোখগুলােতে (ধনুকের প্রান্ত) বিদ্ধ করতে লাগলেন আর বলতে লাগলেনঃ
جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا
যখন তিনি তাওয়াফ থেকে অবসর হলেন তখন সাফা'র দিকে তাশরীফ নিয়ে গেলেন এবং এর উপর আরােহণ করে বায়তুল্লাহর দিকে দৃষ্টিপাত করলেন। তারপর তাঁর হাত উত্তোলন করে আল্লাহ্ তা'আলার প্রশংসা করতে লাগলেন এবং তার কাছে দু'আ করলেন, যা আল্লাহ্ তা'আলা চেয়েছেন। আনসারগণ এর নীচে ছিলেন। আনসারগণ পরস্পরে বলতে লাগলেন, তাঁকে আত্মীয়তার প্রতি আকর্ষণ এবং গােত্রের প্রতি মেহেরবানী পেয়ে বসেছে। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, তাঁর উপর এই মর্মে ওহী এলাে আর যখন তার উপর ওহী আসত সেটা আমাদের (সাহাবাদের) উপর গােপন থাকত না এবং (আমাদের) লােকদের থেকে কেউ নবী (ﷺ)-এর দিকে মাথা উঠাতে পারত না; অবশেষে ওহী (অবতরণ) সমাপ্ত হয়ে যেত। নবী (ﷺ) বললেন, হে আনসারের দল! তােমরা কি এটা বলেছ যে, ঐ ব্যক্তিকে (তাকে) আত্মীয়তার প্রতি আকর্ষণ এবং কবীলার প্রতি মেহেরবানী পেয়ে বসেছে। তারা বললেন, সম্ভবত এই আলােচনা হয়েছে। তিনি বললেন, কস্মিনকালেও নয়, আমি আল্লাহর বান্দা ও তার রাসূল। আমি আল্লাহ্ তা'আলার দিকে এবং তােমাদের দিকে হিজরত করেছি। আমার জীবন তােমাদের জীবনের সাথে এবং আমার মৃত্যু তােমাদের মৃত্যুর সাথে সম্পৃক্ত। অনন্তর তারা কাঁদতে কাঁদতে সম্মুখে অগ্রসর হলেন এবং বলতে লাগলেন, আল্লাহর কসম! আমরাতাে এই কথা শুধু আল্লাহ্ তা'আলা ও তাঁর রাসূলের সঙ্গে কৃপণতার কারণে বলেছি (অর্থাৎ আমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সাঃ কে অন্য কাউকে দিতে চাইনি)। তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা'আলা ও তার রাসূল তােমাদের সত্যায়ন করছেন এবং তােমাদের ওযর গ্রহণ করছেন।

বস্তুত, এই আবু হুরায়রা (রাযিঃ), লােকটি বলছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে) মক্কাতে প্রবেশ করার সময় কুরায়শরা তাদের লম্পটদের এবং তাদের অনুসারীদেরকে যুদ্ধের জন্য একত্রিত করে এবং বলেছিলাে, এরা অগ্রসর হয়েছে (এসেছে)। যদি তারা সফলকাম হয় তবে আমরা তাদের সঙ্গী হয়ে যাব। আর যদি তারা নিহত হয় তাহলে তারা যা কিছু আমাদের কাছে চাইবে আমরা প্রদান করব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের একথা সম্পর্কে অবহিত হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি আনসরদেরকে বললেন, কুরায়শদের লম্পটদের ও তাদের অনুসারীদের প্রতি লক্ষ্য রেখ । অতঃপর তিনি তাঁর এক হাত অপর হাতের উপর মেরে বললেন, তাদেরকে উত্তমরূপে কাট। অবশেষে তােমরা সাফা পাহাড়ে এসে আমার সঙ্গে মিলিত হবে। অনন্তর আমাদের থেকে যে ব্যক্তি যাকে ইচ্ছা করছে হত্যা করেছে এবং তাদের থেকে কেউ আমাদের দিকে মনােনিবেশ করে নাই। এই প্রবেশ কি নিরাপত্তার উপর ছিলাে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের প্রতি ইহসান ও ক্ষমা করেছেন। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত এই হাদীসে সুলায়মান ইবনে মুগীরা (রাযিঃ)-এর রিওয়ায়াত অপেক্ষা কিছুটা অতিরিক্তও বর্ণিত আছে।
كتاب السير
5463 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ , قَالَ: ثنا أُمَيَّةُ بْنُ مُوسَى , قَالَ: ثنا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ , قَالَ أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ , عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ , عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ رَبَاحٍ , قَالَ: وَفَدْنَا إِلَى مُعَاوِيَةَ , وَفِينَا أَبُو هُرَيْرَةَ فَقَالَ: أَلَا أُخْبِرْكُمْ بِحَدِيثٍ مِنْ حَدِيثِكُمْ يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ؟ ثُمَّ ذَكَرَ فَتْحَ مَكَّةَ فَقَالَ: أَقْبَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ قَدِمَ مَكَّةَ فَبَعَثَ الزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ عَلَى إِحْدَى الْمُجَنَّبَتَيْنِ وَبَعَثَ خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ عَلَى الْمُجَنَّبَةِ الْأُخْرَى وَبَعَثَ أَبَا عُبَيْدَةَ عَلَى الْحُسَّرِ فَأَخَذُوا بَطْنَ الْوَادِي وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي كَتِيبَةٍ فَنَظَرَ فَرَآنِي فَقَالَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ فَقُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللهِ قَالَ: اهْتِفْ لِي بِالْأَنْصَارِ وَلَا يَأْتِنِي إِلَّا أَنْصَارِيٌّ , قَالَ: فَهَتَفَ بِهِمْ حَتَّى إِذَا طَافُوا بِهِ وَقَدْ وَبَّشَتْ قُرَيْشٌ أَوْبَاشَهَا وَأَتْبَاعَهَا فَقَالُوا: تَقَدَّمَ هَؤُلَاءِ فَإِنْ كَانَ لَهُمْ شَيْءٌ كُنَّا مَعَهُمْ وَإِنْ أُصِيبُوا أُعْطِينَا الَّذِي سَأَلْنَا , فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْأَنْصَارِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ , حِينَ طَافُوا بِهِ , انْظُرُوا إِلَى أَوْبَاشِ قُرَيْشٍ وَأَتْبَاعِهِمْ ثُمَّ قَالَ بِإِحْدَى يَدَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى احْصُدُوهُمْ حَصَادًا حَتَّى تُوَافُونِي بِالصَّفَا فَانْطَلَقُوا فَمَا يَشَاءُ أَحَدٌ مِنَّا أَنْ يَقْتُلَ مَا شَاءَ إِلَّا قَتَلَ وَمَا تَوَجَّهَ إِلَيْنَا أَحَدٌ مِنْهُمْ , فَقَالَ أَبُو سُفْيَانَ: يَا رَسُولَ اللهِ أُبِيحَتْ خَضْرَاءُ قُرَيْشٍ وَلَا قُرَيْشَ بَعْدَ الْيَوْمِ , فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ أَغْلَقَ بَابَهُ فَهُوَ آمِنٌ وَمَنْ دَخَلَ دَارَ أَبِي سُفْيَانَ فَهُوَ آمِنٌ فَأَغْلَقَ النَّاسُ أَبْوَابَهُمْ , وَأَقْبَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى أَتَى الْحَجَرَ فَاسْتَلَمَهُ ثُمَّ طَافَ بِالْبَيْتِ فَأَتَى عَلَى صَنَمٍ إِلَى جَنْبِ الْبَيْتِ يَعْبُدُونَهُ , وَفِي يَدِهِ قَوْسٌ فَهُوَ آخِذٌ بِسِيَةِ الْقَوْسِ , فَلَمَّا أَنْ أَتَى عَلَى الصَّنَمِ جَعَلَ يَطْعَنُ فِي عَيْنَيْهِ وَيَقُولُ «جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا» , [ص:325] حَتَّى إِذَا فَرَغَ مِنْ طَوَافِهِ أَتَى الصَّفَا فَصَعِدَ عَلَيْهَا حَتَّى نَظَرَ إِلَى الْبَيْتِ فَرَفَعَ يَدَيْهِ فَجَعَلَ يَحْمَدُ اللهَ وَيَدْعُوهُ بِمَا شَاءَ اللهُ , وَالْأَنْصَارُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ تَحْتَهُ , فَقَالَتِ الْأَنْصَارُ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ: أَمَّا الرَّجُلُ فَقَدْ أَدْرَكَتْهُ رَغْبَةٌ فِي قَرَابَتِهِ وَرَأْفَةٌ بِعَشِيرَتِهِ , فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: وَجَاءَهُ الْوَحْيُ بِهِ وَكَانَ إِذَا جَاءَ لَمْ يَخْفَ عَلَيْنَا فَلَيْسَ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ يَرْفَعُ رَأْسَهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى يُقْضَى الْوَحْيُ , قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ أَقُلْتُمْ: أَمَّا الرَّجُلُ فَقَدْ أَدْرَكَتْهُ رَغْبَةٌ فِي قَرَابَتِهِ وَرَأْفَةٌ بِعَشِيرَتِهِ؟ قَالُوا: لَوْ كَانَ ذَكَرَ , قَالَ كَلًّا إِنِّي عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ هَاجَرْتُ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَإِلَيْكُمْ , وَالْمَحْيَا مَحْيَاكُمْ , وَالْمَمَاتُ مَمَاتُكُمْ فَأَقْبَلُوا يَبْكُونَ إِلَيْهِ وَيَقُولُونَ: وَاللهِ مَا قُلْنَا الَّذِي قُلْنَا إِلَّا ضَنًّا بِاللهِ وَرَسُولِهِ قَالَ فَإِنَّ اللهَ وَرَسُولَهُ يُصَدِّقَانِكُمْ وَيَعْذِرَانِكُمْ " فَهَذَا أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يُخْبِرُ أَنَّ قُرَيْشًا عِنْدَ دُخُولِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَّةَ وَبَّشَتْ أَوْبَاشَهَا وَأَتْبَاعَهَا فَقَالُوا: تَقَدَّمَ هَؤُلَاءِ فَإِنْ كَانَ لَهُمْ شَيْءٌ كُنَّا مَعَهُمْ وَإِنْ أُصِيبُوا أُعْطِينَا الَّذِي سَأَلْنَا وَأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَفَ عَلَى ذَلِكَ مِنْهُمْ فَقَالَ لِلْأَنْصَارِ انْظُرُوا إِلَى أَوْبَاشِ قُرَيْشٍ وَأَتْبَاعِهِمْ «ثُمَّ قَالَ بِإِحْدَى يَدَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى» احْصُدُوهُمْ حَصَادًا حَتَّى تُوَافُونِي بِالصَّفَا " فَمَا يَشَاءُ أَحَدٌ مِنَّا أَنْ يَقْتُلَ مَنْ شَاءَ إِلَّا قَتَلَ وَمَا تَوَجَّهَ إِلَيْنَا أَحَدٌ مِنْهُمْ فَيَكُونُ مِنْ هَذَا دُخُولًا عَلَى أَمَانٍ ثُمَّ كَانَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ ذَلِكَ الْمَنُّ عَلَيْهِمْ , وَالصَّفْحُ , وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ زِيَادَةٌ عَلَى مَا فِي حَدِيثِ سُلَيْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান