শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১২. জিহাদের বিধানাবলী সম্পর্কিত
হাদীস নং: ৫৪৬২
জিহাদের বিধানাবলী সম্পর্কিত
২০. অধ্যায়ঃ রাসূলুল্লাহ্ ﷺ কর্তৃক মক্কা বলপূর্বক বিজয় করার প্রমাণ
৫৪৬২। ইবরাহীম ইবনে মারযূক (রাহঃ) ..... ফাখিতা অর্থাৎ উম্মুহানি (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন গােসল করলেন। অতঃপর এক কাপড়ে (জড়িয়ে) আট রাকআত (চাশতের সালাত) আদায় করলেন। তিনি ঐ কাপড়ের দুই প্রান্তকে বিপরীত দিকে করে বেঁধে নিয়েছিলেন। বলেন, আমি বললাম, আমি আমার মুশরিক দেবরদেরকে আশ্রয় প্রদান করেছি এবং আলী (রাযিঃ) তাদেরকে হত্যা করার জন্য লেগে পড়ছেন। বলেন, তিনি বললেন, তার এই অধিকার নেই, যাকে তুমি আশ্রয় দিয়েছ তাকে আমিও আশ্রয় দিলাম এবং যাকে তুমি নিরাপত্তা দিয়েছ তাকে আমিও নিরাপত্তা দিলাম।
তুমি কি লক্ষ্য করছনা যে, আলী (রাযিঃ) মক্কার দুই মাখযুমী ব্যক্তিকে হত্যা করার সংকল্প করেছেন। যদি তারা নিরাপত্তায় থাকত তাহলে তিনি তাদেরকে হত্যা করার জন্য পিছনে পড়তেন না। অতঃপর উম্মুহানি (রাযিঃ) তাদেরকে আশ্রয় প্রদান করেছেন। এতে করে যেন আলী (রাযিঃ) -এর উপর তাদের খুন হারাম হয়ে যায়। কিন্তু তিনি (আলী রা) বলেন নাই যে, আপনি তাদেরকে হত্যা করতে পারবেন না। কেননা এরা দু’জন এবং সমগ্র মক্কাবাসী সন্ধি ও নিরাপত্তায় রয়েছে।
বস্তুত উম্মহানি (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে ঐ দুই মাখযুমী ব্যক্তির ব্যাপারে, আলী (রাযিঃ)-এর সংকল্প এবং নিজের পক্ষ থেকে সেই দুই মাখযুমী ব্যক্তিকে আশ্রয় প্রদানের বিষয়ে বলেছেন। অনন্তর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেছেন, তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছ আমিও তাকে আশ্রয় দিয়েছি এবং তুমি যাকে নিরাপত্তা প্রদান করেছ আমিও তাকে নিরাপত্তা প্রদান করেছি। তিনি (উম্মুহানি রা) কর্তৃক তাদের আশ্রয় প্রদানের পূর্বে আলী (রাযিঃ)-কে তাদেরকে হত্যা করার সংকল্পের কারণে ভর্ৎসনা করেন নাই। এতে প্রতীয়মান হয় যে, যদি তার পক্ষ থেকে আশ্রয় প্রদান সঠিক না হত তাহলে ঐ দু’জনকে হত্যা করা শুদ্ধ হত। আর এটা অসম্ভব যে, পূর্ববর্তী সন্ধি ও নিরাপত্তা বিদ্যমান থাকা অবস্থায় তাদেরকে হত্যা করা তার জন্য বৈধ হবে, এটাই ছিলাে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর মক্কাতে প্রবেশ। সুতরাং এর চেয়ে অধিক স্পষ্ট কথা আর কোনটি হতে পারে?
অতঃপর এই বিষয়ে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে এর থেকেও অধিকতর স্পষ্ট কথা বর্ণিত আছেঃ
তুমি কি লক্ষ্য করছনা যে, আলী (রাযিঃ) মক্কার দুই মাখযুমী ব্যক্তিকে হত্যা করার সংকল্প করেছেন। যদি তারা নিরাপত্তায় থাকত তাহলে তিনি তাদেরকে হত্যা করার জন্য পিছনে পড়তেন না। অতঃপর উম্মুহানি (রাযিঃ) তাদেরকে আশ্রয় প্রদান করেছেন। এতে করে যেন আলী (রাযিঃ) -এর উপর তাদের খুন হারাম হয়ে যায়। কিন্তু তিনি (আলী রা) বলেন নাই যে, আপনি তাদেরকে হত্যা করতে পারবেন না। কেননা এরা দু’জন এবং সমগ্র মক্কাবাসী সন্ধি ও নিরাপত্তায় রয়েছে।
বস্তুত উম্মহানি (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে ঐ দুই মাখযুমী ব্যক্তির ব্যাপারে, আলী (রাযিঃ)-এর সংকল্প এবং নিজের পক্ষ থেকে সেই দুই মাখযুমী ব্যক্তিকে আশ্রয় প্রদানের বিষয়ে বলেছেন। অনন্তর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেছেন, তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছ আমিও তাকে আশ্রয় দিয়েছি এবং তুমি যাকে নিরাপত্তা প্রদান করেছ আমিও তাকে নিরাপত্তা প্রদান করেছি। তিনি (উম্মুহানি রা) কর্তৃক তাদের আশ্রয় প্রদানের পূর্বে আলী (রাযিঃ)-কে তাদেরকে হত্যা করার সংকল্পের কারণে ভর্ৎসনা করেন নাই। এতে প্রতীয়মান হয় যে, যদি তার পক্ষ থেকে আশ্রয় প্রদান সঠিক না হত তাহলে ঐ দু’জনকে হত্যা করা শুদ্ধ হত। আর এটা অসম্ভব যে, পূর্ববর্তী সন্ধি ও নিরাপত্তা বিদ্যমান থাকা অবস্থায় তাদেরকে হত্যা করা তার জন্য বৈধ হবে, এটাই ছিলাে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর মক্কাতে প্রবেশ। সুতরাং এর চেয়ে অধিক স্পষ্ট কথা আর কোনটি হতে পারে?
অতঃপর এই বিষয়ে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে এর থেকেও অধিকতর স্পষ্ট কথা বর্ণিত আছেঃ
كتاب السير
5462 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ قَالَ: ثنا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ الزَّهْرَانِيُّ قَالَ: ثنا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ أَبِي مُرَّةَ مَوْلَى عَقِيلٍ عَنْ فَاخِتَةَ أُمِّ هَانِئٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا " أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اغْتَسَلَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ ثُمَّ صَلَّى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ مُخَالِفًا بَيْنَ طَرَفَيْهِ , قَالَتْ: فَقُلْتُ: إِنِّي أَجَرْتُ حَمَوَيَّ مِنَ الْمُشْرِكِينَ، وَإِنَّ عَلِيًّا رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يُفَلِّتُ عَلَيْهِمَا لِيَقْتُلَهُمَا , قَالَتْ: فَقَالَ: مَا كَانَ لَهُ ذَلِكَ قَدْ أَجَرْنَا مَنْ أَجَرْتِ وَأَمَّنَّا مَنْ أَمَّنْتِ " أَفَلَا تَرَى أَنَّ عَلِيًّا رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَدْ أَرَادَ قَتْلَ الْمَخْزُومِيِّينَ لِمَكَّةَ؟ وَلَوْ كَانَا فِي أَمَانٍ لَمَا طَلَبَ ذَلِكَ مِنْهُمَا [ص:324] فَأَمَّنَتْهُمَا أُمُّ هَانِئٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا لِيَحْرُمَ بِذَلِكَ دِمَاؤُهُمَا عَلَى عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ وَلَمْ تَقُلْ لَهُ: مَا لَكَ إِلَى قَتْلِهِمَا مِنْ سَبِيلٍ لِأَنَّهُمَا وَسَائِرَ أَهْلِ مَكَّةَ فِي صُلْحٍ وَأَمَانٍ , ثُمَّ أَخْبَرَتْ أُمُّ هَانِئٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَا كَانَ مِنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ وَبِمَا كَانَ مِنْ جِوَارِ هَذَيْنِ الْمَخْزُومِيِّينَ , فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «قَدْ أَجَرْنَا مَنْ أَجَرْتِ وَأَمَّنَّا مَنْ أَمَّنْتِ» وَلَمْ يُعَنِّفْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلِيًّا رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ فِي إِرَادَتِهِ قَتْلَهُمَا قَبْلَ جِوَارِ أُمِّ هَانِئٍ إِيَّاهُمَا , فَدَلَّ ذَلِكَ أَنَّهُ لَوْلَا جِوَارُهَا لَصَحَّ قَتْلُهُمَا وَمُحَالٌ أَنْ يَكُونَ لَهُ قَتْلُهُمَا وَثَمَّةَ أَمَانٌ قَائِمٌ وَصُلْحٌ مُتَقَدِّمٌ لَهُمَا وَهَذَا دُخُولُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَّةَ فَأَيُّ شَيْءٍ أَبْيَنُ مِنْ هَذَا؟ ثُمَّ قَدْ رَوَى أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِي هَذَا الْبَابِ مَا هُوَ أَبْيَنُ مِنْ هَذَا