শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১২. জিহাদের বিধানাবলী সম্পর্কিত

হাদীস নং: ৫২৭৬
আন্তর্জাতিক নং: ৫২৭৭
জিহাদের বিধানাবলী সম্পর্কিত
১৩. কোন অমুসলিম মহিলা দারুল হারবে ইসলাম গ্রহণের পর দারুল ইসলামে চলে আসা অতঃপর তার স্বামী মুসলমান হয়ে আসা প্রসঙ্গ
৫২৭৬-৭৭। রাওহ ইবনুল ফারাজ (রাহঃ).... ইকরামা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে ঐ ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান নারীর ব্যাপারে রিওয়ায়াত করেন, যে ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানকে বিবাহ করে, তার পর ইসলাম গ্রহণ করে। তিনি বলেন, তাদের দু'জনের মাঝে পৃথক করে দেয়া হবে। কেননা ইসলাম উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন অন্য কোন দীন তদপেক্ষা উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন নয়।

৪৮৭২. ইবন মারযুক (রাহঃ)..... আব্বাস (রাহঃ) থেকে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। তবে তিনি “ইসলাম উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, অন্য কোন দ্বীন উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন নয়” (বাক্যটি) উল্লেখ করেন নাই ।

এটা কি তাঁর মতে জায়িয হবে যে, যখন খ্রিস্টান নারী দারুল ইসলামে ইসলাম গ্রহণ করে এবং তার স্বামী খ্রিস্টান থেকে যায়, তখন কি সে তার থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং তার স্বামীর ইসলাম গ্রহণের অপেক্ষা করা হবেনা যতক্ষণ না সে ইদ্দত থেকে বেরিয়ে আসে। আর ঐ হারবী নারী যে কিতাবী নয়, সে যখন দারুল হারবে ইসলাম গ্রহণ করার পর আমাদের কাছে চলে আসে তবে তার স্বামীকে তার সঙ্গে মিলিত করার জন্য এ বিষয়ে অপেক্ষা করা হবে যে, উক্ত নারীর (স্ত্রীর) ইদ্দত খতম হওয়ার আগে আগে সে (স্বামী) ইসলাম গ্রহণ করবে। বস্তুত এটা অসম্ভব, কেননা যখন তার দারুল ইসলামে ইসলাম গ্রহণ করাটা তাকে তার খ্রিস্টান যিম্মী স্বামী থেকে পৃথক করে দেয়, তাহলে দারুল হারবে তার ইসলাম গ্রহণ করা এবং পরে তার দারুল ইসলামের বেরিয়ে আসা যখন কিনা সে তার মুশরিক স্বামীকে দারুল হারবে ছেড়ে এসেছে, এ অবস্থায় সে তার থেকে পৃথক হয়ে যাওয়া তো আরো অনিবার্য।

ইবন আব্বাস (রাযিঃ)-এর এই অভিমত দ্বারা সাব্যস্ত হলো যে, তিনি মনে করতেন, স্ত্রীর ইসলাম গ্রহণ দ্বারাই ‘ইছমত (দাম্পত্য সম্পর্ক) ছিন্ন হয়েছে; তার ইদ্দত খতম হওয়ার কারণে নয়। সুতরাং এটা অসম্ভব যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক যায়নাব (রাযিঃ)-কে প্রথম বিয়ের উপরই আবুল 'আস (রাযিঃ)-এর কাছে ফিরিয়ে দেয়া সম্বলিত বিধানকে ছেড়ে দিয়েছেন, যা কিনা তাঁর নিকট প্রতিষ্ঠিত এবং তিনি এর পরিপন্থীগ্রহণ করেছেন। এটা কেবল তখন হতে পারে যখন তাঁর নিকট এই হুকুমটি রহিত বলে সাব্যস্ত হবে। রিওয়ায়াতসমূহের আলোকে এটাই হলো এই অনুচ্ছেদের বিশ্লেষণ।

তাহাবী (রাহঃ)-এর যুক্তিভিত্তিক প্রমাণ
যুক্তির নিরিখে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বর্ণনা হলো নিম্নরূপ: আমরা লক্ষ্য করছি যখন কোন নারী ইসলাম গ্রহণ করে এবং তার স্বামী কাফিরই থেকে যায়, সেক্ষেত্রে নতুনভাবে তাকে বিবাহ করা বৈধ হয় না। কেননা সে হলো মুসলিম, আর সে কাফির। সুতরাং আমরা চাচ্ছি যে, ওই অবস্থার বিধান অবগত হওয়া, যা বিয়ের উপর আপতিত হয় এবং তা এরূপ অবস্থা, যার বর্তমানে বিয়ে করা জায়িয নেই। আমরা দেখছি যে, আল্লাহ্ তা'আলা দুধ বোনদেরকে হারাম করেছেন। কোন ব্যক্তি যদি এরূপ কোন বালিকাকে বিয়ে করে যার সঙ্গে তার দুধ সম্পর্কীয় আত্মীয়তা স্থাপিত না থাকে, অতঃপর ঐ বালিকাকে ঐ ব্যক্তির (স্বামীর) মা দুধ পান করায়, তবে এতে সে তার উপর হারাম হয়ে যাবে এবং বিয়ে বাতিল হয়ে যাবে। আর বিয়ের উপর আপতিত দুগ্ধপান বিয়ের পূর্বে পাওয়া যাওয়া দুগ্ধপানের অনুরূপ বিবেচিত হবে। বস্তুত এরূপ প্রচুর দৃষ্টান্ত রয়েছে, যেগুলো উল্লেখ করলে গ্রন্থের কলেবর দীর্ঘতর হয়ে যাবে। এবং এরূপ কতিপয় বস্তু রয়েছে যে, যদি তা বিয়ের পূর্বে হয় অথবা বিয়ের উপর আপতিত হয় তবে তাতে এর বিধান পরিবর্তিত হয়ে যায়।

তা থেকে একটি বিষয় হলো নিম্নরূপ : আল্লাহ্ তা'আলা ঐ নারীর সঙ্গে বিয়ে সম্পর্ক স্থাপন করা হারাম সাব্যস্ত করেছেন, যে তার স্বামীর ইদ্দতের মধ্যে রয়েছে এবং মুসলমানগণ এ বিষয়ে একমত যে, বাতিল বিয়ের কারণে কৃতসহবাসের ইদ্দতও বিয়েকে নিষেধ করে, যেমন তা সঠিক বিয়ের কারণে (ইদ্দতের মাঝে) নিষিদ্ধ। যদি কোন নারীর সঙ্গে সন্দেহ জনিত কারণে সহবাস করা হয় এবং তার স্বামীও বিদ্যমান রয়েছে তাহলে এতে তার উপর ইদ্দত ওয়াজিব হবে। কিন্তু সে তার স্বামী থেকে পৃথক হবেনা এবং এই ইদ্দত ঐ ইদ্দতের ন্যায় হবেনা, যা বিয়ের পূর্বে পাওয়া যায়। তাই এতে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী হুকুমের মাঝে পার্থক্য করা হবে। ১

বস্তুত আমরা ইচ্ছা করছি ঐ নারীর বিধান সম্পর্কে জানতে, যে ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং তার স্বামী কাফির থেকে গিয়েছে। সে কি এতে তার থেকে পৃথক হয়ে যাবে এবং এতে পূর্ববর্তী ও পরবর্তীর বিধান অভিন্ন হবে? যেমনটি দুগ্ধ পানের ব্যাপারে রয়েছে, যা আমরা উল্লেখ করেছি। না কি তার ইসলাম গ্রহণের কারণে সে তার থেকে পৃথক হবে না? এবং তার সদ্য ইসলাম গ্রহণকে বিয়ের পূর্ববর্তী ইসলামের ন্যায় সাব্যস্ত করা হবে না। যেমন ইদ্দতের বিষয়টি আমরা উল্লেখ করেছি যে, তাতে পূর্ববর্তী ও পরবর্তীর বিধান ভিন্নতর। তাই আমরা এতে গভীরভাবে লক্ষ্য করেছি এবং বিয়ের উপর আপতিত ইদ্দতকে এরূপ পেয়েছি যে, যে সময় উক্ত ইদ্দত ওয়াজিব হয় ঐ সময়ও এবং তার পরেও তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ওয়াজিব হয়না। আর যেই দুগ্ধ পানের কথা আমরা উল্লেখ করেছি তাতে 'অবিলম্বে' বিচ্ছেদ ওয়াজিব হয়ে যায় আর যে ইসলাম গ্রহণ বিয়ের পরে আপতিত হয় এ ব্যাপারে সকলের (ফকীহদের) ঐকমত্য যে, এতে বিচ্ছেদ ওয়াজিব হয়ে যায়। একদল আলিম বলেন যে, নারীর (স্ত্রীর) ইসলাম গ্রহণ করতেই বিচ্ছেদ ওয়াজিব হয়ে যায়। আর এটা ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) এর অভিমত। অপর এক দল আলিম বলেন যে, যতক্ষণ না স্বামীর কাছে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত পেশ করা হবে এবং সে অস্বীকার করবে তাদের মাঝে বিচ্ছেদ হবেনা। সুতরাং তখন গিয়ে তাদের মাঝে পৃথক করে দেয়া হবে কিংবা ওই স্বামী ইসলামকে গ্রহণ করে নিবে। তাহলে সে অনুরূপভাবে তার স্ত্রী বহাল থাকবে। আর এটা হলো উমার ইবন খাত্তাব (রাযিঃ)-এর অভিমত। অন্য আরেক দল আলিম বলেন যে, যতক্ষণ না সে তাকে দারুল হিজরত থেকে বের করে দিবে সে তার স্ত্রীই থাকবে। আর এটা হলো আলী ইবন আবী তালিব (রাযিঃ)-এর অভিমত। অতি সত্তর এই সমস্ত রিওয়ায়াতসমূহের ইসনাদ এই অনুচ্ছেদের শেষে আসতেছে ইনসাআল্লাহু তা'আলা।

সুতরাং যখন সাব্যস্ত হলো যে, স্ত্রীর বিয়ের পরে ইসলাম গ্রহণ করা স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদকে অনিবার্য করে, যে কোন অবস্থায়ই হোকনা কেন, তাই প্রমাণিত হলো যে, এর হুকুম ইদ্দতের হুকুম অপেক্ষা দুগ্ধ পানের হুকুমের সঙ্গে অধিকতর সাদৃশ্যপূর্ণ। যখন স্তন্যপানের কারণে বিচ্ছেদ ওয়াজিব হয়ে যায়, তখনই দুগ্ধপান পাওয়া যায় এবং এর দ্বারা নারীর ইদ্দত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করা হবেনা। অনুরূপভাবে ইসলাম গ্রহণকরার বিধানও এটাই হবে।

যৌক্তিকভাবে এই অনুচ্ছেদের বিশ্লেষণ হলো এটা যে, নারী ইসলাম গ্রহণ করতেই স্বীয় স্বামী থেকে পৃথক হয়ে যায়, চাই সে দারুল ইসলামে অবস্থান করুক, অথবা দারুল হারবে। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ), ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এটার বিরোধিতা করে বলেছেন যে, যদি দারুল হারবের অধিবাসী হারবী নারী দারুল হারবে ইসলাম গ্রহণ করে এবং তার স্বামী কাফিরই থেকে যায় তবে যতক্ষণনা তার তিন হায়য (ঋতুস্রাব) আসে অথবা সে দারুল ইসলামের দিকে বেরিয়ে আসে, সে তার স্ত্রী হিসাবে বহাল থাকবে। এই দু'টোর কোন একটি পাওয়া গেলেই সে তার স্বামী থেকে পৃথক হয়ে যাবে। তাঁরা বলেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যুক্তি এটাই যে, ইসলাম গ্রহণ করতেই সে তার স্বামী থেকে পৃথক হয়ে যাবে। তারা বলেন, যখন সে (নারী) ইসলাম গ্রহণ করে এবং তার স্বামী দারুল ইসলামে অবস্থান করে তবে সে পূর্বের ন্যায় তার স্ত্রী থাকবে যতক্ষণ না কাজী (বিচারক) তার স্বামীর উপর ইসলাম (এর দাওয়াত) পেশ করে এবং সে ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে সে তার স্ত্রী বহাল থাকবে অথবা সে (ইসলাম) অস্বীকার করবে তখন তাদের মাঝে পৃথক করে দেয়া হবে। অধিকন্তু তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে কিয়াস এটাই যে, ওই নারী (স্ত্রী) ইসলাম গ্রহণ করা মাত্র তার থেকে পৃথক হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত রিওয়ায়াতকে অনুসরণ করেছি। তারা নিম্নোক্তরূপে উল্লেখ করেছেন :
كتاب السير
5276 - حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ الْفَرَجِ , قَالَ: ثنا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُكَيْرٍ , قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ , عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ , عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ , فِي الْيَهُودِيَّةِ وَالنَّصْرَانِيَّةِ , تَكُونُ تَحْتَ النَّصْرَانِيِّ أَوِ الْيَهُودِيِّ , فَتُسْلِمُ هِيَ , قَالَ «يُفَرَّقُ بَيْنَهُمَا , الْإِسْلَامُ يَعْلُو وَلَا يُعْلَى عَلَيْهِ» [ص:258]

5277 - وَحَدَّثَنَا ابْنُ مَرْزُوقٍ , قَالَ: ثنا أَبُو دَاوُدَ , قَالَ: ثنا قَيْسُ بْنُ الرَّبِيعِ , عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ الْجَزَرِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ , عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مِثْلُهُ , غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ يَقُلْ: الْإِسْلَامُ يَعْلُو وَلَا يُعْلَى أَفَيَجُوزُ أَنْ تَكُونَ النَّصْرَانِيَّةُ عِنْدَهُ إِذَا أَسْلَمَتْ فِي دَارِ الْإِسْلَامِ وَزَوْجُهَا نَصْرَانِيٌّ , أَنَّهَا تَبِينُ مِنْهُ , وَلَا يُنْتَظَرُ بِهَا إِسْلَامُهُ إِلَى أَنْ تَخْرُجَ مِنَ الْعِدَّةِ , وَتَكُونُ الْحَرْبِيَّةُ الَّتِي لَيْسَتْ بِكِتَابِيَّةٍ , إِذَا أَسْلَمَتْ فِي دَارِ الْحَرْبِ , ثُمَّ جَاءَتْنَا مُسْلِمَةً , يُنْتَظَرُ بِهَا إِلْحَاقُ زَوْجِهَا بِهَا مُسْلِمًا , فِيمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ خُرُوجِهَا مِنَ الْعِدَّةِ؟ هَذَا مُحَالٌ , لِأَنَّ إِسْلَامَهَا فِي دَارِ الْإِسْلَامِ إِذَا كَانَ يُبِينُهَا مِنْ زَوْجِهَا النَّصْرَانِيِّ الذِّمِّيِّ , فَإِسْلَامُهَا فِي دَارِ الْحَرْبِ وَخُرُوجُهَا إِلَى دَارِ الْإِسْلَامِ , وَتَرْكُهَا زَوْجَهَا الْمُشْرِكَ فِي دَارِ الْحَرْبِ أَنْ يُبِينَهَا , فَثَبَتَ بِهَذَا , مِنْ قَوْلِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا , أَنَّهُ كَانَ يَرَى الْعِصْمَةَ مُنْقَطِعَةً بِإِسْلَامِ الْمَرْأَةِ , لَا لِخُرُوجِهَا مِنَ الْعِدَّةِ , وَإِذَا ثَبَتَ ذَلِكَ مِنْ قَوْلِهِ , اسْتَحَالَ أَنْ يَكُونَ تَرْكُ مَا قَدْ كَانَ ثَبَتَ عِنْدَهُ , مِنْ حُكْمِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , فِي رَدِّهِ زَيْنَبَ , عَلَى أَبِي الْعَاصِ , عَلَى النِّكَاحِ الْأَوَّلِ , وَصَارَ إِلَى خِلَافِهِ , إِلَّا بَعْدَ ثُبُوتِ نَسْخِ ذَلِكَ عِنْدَهُ , فَهَذَا وَجْهُ هَذَا الْبَابِ مِنْ طَرِيقِ الْآثَارِ , وَأَمَّا النَّظَرُ فِي ذَلِكَ , فَإِنَّا رَأَيْنَا الْمَرْأَةَ إِذَا أَسْلَمَتْ وَزَوْجُهَا كَافِرٌ , فَقَدْ صَارَتْ إِلَى حَالٍ لَا يَجُوزُ أَنْ يَسْتَأْنِفَ نِكَاحَهُ عَلَيْهَا , لِأَنَّهَا مُسْلِمَةٌ وَهُوَ كَافِرٌ , فَأَرَدْنَا أَنْ نَنْظُرَ إِلَى مَا يَطْرَأُ عَلَى النِّكَاحِ , مِمَّا لَا يَجُوزُ مَعَهُ الِاسْتِقْبَالُ لِلنِّكَاحِ , كَيْفَ حُكْمُهُ؟ فَرَأَيْنَا اللهَ , عَزَّ وَجَلَّ , قَدْ حَرَّمَ الْأَخَوَاتِ مِنَ الرَّضَاعَةِ , وَكَانَ مَنْ تَزَوَّجَ امْرَأَةً صَغِيرَةً لَا رَضَاعَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا فَأَرْضَعَتْهَا أُمُّهُ , حُرِّمَتْ عَلَيْهِ بِذَلِكَ , وَانْفَسَخَ النِّكَاحُ , فَكَانَ الرَّضَاعُ الطَّارِئُ عَلَى النِّكَاحِ , فِي حُكْمِ الرَّضَاعِ الْمُتَقَدِّمِ لِلنِّكَاحِ فِي أَشْبَاهٍ لِذَلِكَ , يَطُولُ الْكِتَابُ بِذِكْرِهَا , وَكَانَتْ ثَمَّةَ أَشْيَاءَ , يَخْتَلِفُ فِيهَا الْحُكْمُ إِذَا كَانَتْ مُتَقَدِّمَةً لِلنِّكَاحِ , أَوْ طَرَأَتْ عَلَى النِّكَاحِ , مِنْ ذَلِكَ أَنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ حَرَّمَ نِكَاحَ الْمَرْأَةِ فِي عِدَّتِهَا مِنْ زَوْجِهَا , وَأَجْمَعَ الْمُسْلِمُونَ أَنَّ الْعِدَّةَ مِنَ الْجِمَاعِ فِي النِّكَاحِ الْفَاسِدِ , يَمْنَعُ مِنَ النِّكَاحِ , كَمَا يَمْنَعُ إِذَا كَانَتْ بِسَبَبِ نِكَاحٍ صَحِيحٍ , وَكَانَتِ الْمَرْأَةُ لَوْ وُطِئَتْ بِشُبْهَةٍ , وَلَهَا زَوْجٌ , فَوَجَبَتْ عَلَيْهَا بِذَلكَ عِدَّةٌ , لَمْ تَبِنْ بِذَلِكَ مِنْ زَوْجِهَا , وَلَمْ يُجْعَلْ هَذِهِ الْعِدَّةُ كَالْعِدَّةِ الْمُتَقَدِّمَةِ لِلنِّكَاحِ , فَفُرِّقَ فِي هَذَا , بَيْنَ حُكْمِ الْمُسْتَقْبَلِ وَالْمُسْتَدْبَرِ , فَأَرَدْنَا أَنْ نَنْظُرَ فِي الْمَرْأَةِ إِذَا أَسْلَمَتْ وَزَوْجُهَا كَافِرٌ , هَلْ تَبِينُ مِنْهُ بِذَلِكَ , وَيَكُونُ حُكْمُ مُسْتَقْبِلِ ذَلِكَ وَمُسْتَدْبِرِهِ سَوَاءً , كَمَا كَانَ ذَلِكَ فِي الرِّضَاعِ الَّذِي ذَكَرْنَا؟ أَوْ لَا تَبِينُ مِنْهُ بِإِسْلَامِهَا , فَلَا يَكُونُ حُكْمُ إِسْلَامِهَا الْحَادِثِ كَهُوَ , إِذَا كَانَ قَبْلَ النِّكَاحِ , كَالْعِدَّةِ الَّتِي ذَكَرْنَا الَّتِي فُرِّقَ بَيْنَ حُكْمِ الْمُسْتَقْبِلِ فِيهَا وَحُكْمِ الْمُسْتَدْبِرِ؟ فَنَظَرْنَا فِي ذَلِكَ , فَوَجَدْنَا الْعِدَّةَ الطَّارِئَةَ عَلَى النِّكَاحِ , لَا يَجِبُ فِيهَا فُرْقَةٌ فِي حَالِ وُجُوبِهَا , وَلَا بَعْدَ ذَلِكَ , [ص:259] وَكَانَ الرَّضَاعُ الَّذِي ذَكَرْنَا , يَجِبُ بِهِ الْفُرْقَةُ فِي حَالِ كَوْنِهِ , وَلَا يُنْتَظَرُ بِهَا شَيْءٌ بَعْدَهُ , وَكَانَ الْإِسْلَامُ الطَّارِئُ عَلَى النِّكَاحِ , كُلٌّ قَدْ أَجْمَعَ أَنَّ فُرْقَةً تَجِبُ بِهِ , فَقَالَ قَوْمٌ: تَجِبُ فِي وَقْتِ إِسْلَامِ الْمَرْأَةِ , وَهُوَ قَوْلُ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا , وَقَالَ آخَرُونَ: لَا تَجِبُ الْفُرْقَةُ , حَتَّى تَعْرِضَ عَلَى الزَّوْجِ الْإِسْلَامَ فَيَأْبَاهُ , فَيُفَرَّقُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْمَرْأَةِ أَوْ تَخْتَارُهُ , فَتَكُونُ امْرَأَتُهُ عَلَى حَالِهَا , وَهُوَ قَوْلُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , وَقَالَ آخَرُونَ: هِيَ امْرَأَتُهُ مَا لَمْ يُخْرِجْهَا مِنْ أَرْضِ الْهِجْرَةِ , وَهُوَ قَوْلُ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , وَسَنَأْتِي بِأَسَانِيدَ هَذِهِ الرِّوَايَاتِ فِي آخِرِ هَذَا الْبَابِ , إِنْ شَاءَ اللهُ تَعَالَى , فَلَمَّا ثَبَتَ أَنَّ إِسْلَامَ الزَّوْجَةِ الطَّارِئَ عَلَى النِّكَاحِ: يُوجِبُ الْفُرْقَةَ , بَيْنَ الْمَرْأَةِ وَبَيْنَ زَوْجِهَا , فِي حَالِ مَا ثَبَتَ , أَنَّ حُكْمَ ذَلِكَ بِحُكْمِ الرَّضَاعِ , أَشْبَهُ مِنْهُ بِحُكْمِ الْعِدَّةِ , فَلَمَّا كَانَ الرَّضَاعُ تَجِبُ بِهِ الْفُرْقَةُ سَاعَةَ يَكُونُ , وَلَا يَنْتَظِرُ بِهِ خُرُوجَ الْمَرْأَةِ مِنْ عِدَّتِهَا , كَانَ كَذَلِكَ , الْإِسْلَامُ , فَهَذَا وَجْهُ النَّظَرِ فِي هَذَا الْبَابِ , أَنَّ الْمَرْأَةَ تَبِينُ مِنْ زَوْجِهَا بِإِسْلَامِهَا , فِي دَارِ الْإِسْلَامِ كَانَتْ , أَوْ فِي دَارِ الْحَرْبِ , وَقَدْ كَانَ أَبُو حَنِيفَةَ , وَأَبُو يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٌ رَحِمَهُمُ اللهُ , يُخَالِفُونَ هَذَا , وَيَقُولُونَ فِي الْحَرْبِيَّةِ , إِذَا أَسْلَمَتْ فِي دَارِ الْحَرْبِ وَزَوْجُهَا كَافِرٌ , إِنَّهَا امْرَأَتُهُ , مَا لَمْ تَحِضْ ثَلَاثَ حِيَضٍ , أَوْ تَخْرُجْ إِلَى دَارِ الْإِسْلَامِ , فَأَيُّ ذَلِكَ كَانَتْ بَانَتْ بِهِ مِنْ زَوْجِهَا , وَقَالُوا: كَانَ النَّظَرُ فِي هَذَا , أَنْ تَبِينَ مِنْ زَوْجِهَا بِإِسْلَامِهَا سَاعَةَ أَسْلَمَتْ , وَقَالُوا: إِذَا أَسْلَمَتْ , وَزَوْجُهَا فِي دَارِ الْإِسْلَامِ , فَهِيَ امْرَأَتُهُ عَلَى حَالِهَا , حَتَّى يَعْرِضَ الْقَاضِي عَلَى زَوْجِهَا الْإِسْلَامَ فَيُسْلِمُ , فَتَبْقَى تَحْتَهُ , أَوْ يَأْبَى , فَيُفَرَّقُ بَيْنَهُمَا , وَقَالُوا: كَانَ النَّظَرُ فِي ذَلِكَ أَنْ تَبِينَ مِنْهُ بِإِسْلَامِهَا , سَاعَةَ أَسْلَمَتْ , وَلَكِنَّا قَلَّدْنَا مَا رُوِيَ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , فَذَكَرُوا مَا

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

১. অর্থাৎ যখন বিয়ে বর্তমান থাকা অবস্থায় ইদ্দত অতিবাহিত করে তবে সে বিয়ে অবশিষ্ট থাকবে। আর এটা হলো পূর্ববর্তী। পক্ষান্তরে ইদ্দতের মাঝে বিয়ে করতে চাইলে এটা জায়িয নেই। আর এটা হলো পরবর্তী অনুবাদক।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান