শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১২. জিহাদের বিধানাবলী সম্পর্কিত

হাদীস নং: ৫২৭৫
জিহাদের বিধানাবলী সম্পর্কিত
১৩. কোন অমুসলিম মহিলা দারুল হারবে ইসলাম গ্রহণের পর দারুল ইসলামে চলে আসা অতঃপর তার স্বামী মুসলমান হয়ে আসা প্রসঙ্গ
৫২৭৫। আবু বকর মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দা ইব্‌ন আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন যায়দ (রাহঃ) .....আবু তাওবা ইবন রাবী' ইবন নাফি' (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান (রাহঃ) কে এই মর্মে জিজ্ঞাসা করলাম যে, যায়নাব (রাযিঃ)-এর ব্যাপারে মতবিরোধ কোথা থেকে সৃষ্টি হয়েছে? কতক আলিম বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে (যায়নাব রা) আবুল আস (রাযিঃ)-এর কাছে প্রথম বিয়ের উপরই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আবার কতক আলিম বলেছেন যে, তাঁকে নতুনভাবে বিয়ে দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তোমরা কি দেখতে পাচ্ছনা যে, তাদের প্রত্যেক দলই সেই কথাই বলছে, যা তারা নবী (ﷺ) থেকে শুনেছে। ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান (রাহঃ) বলেছেন, তাদের মাঝে মতবিরোধ এইজন্য সৃষ্টি হয়নি, বরং তাঁদের মতবিরোধের কারণ হলো যে, আল্লাহ্ তা'আলা সূরা আল-মুমতাহিনায় ঈমানদার নারীদেরকে কাফিরদের কাছে প্রত্যাবর্তন করাকে হারাম সাব্যস্ত করেছেন, যা প্রথমে বৈধ ছিলো। আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাযিঃ)-এর এই বিষয়টি জানা ছিলো। অতঃপর তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যায়নাব (রাযিঃ) কে (তাঁর স্বামী) আবুল 'আস (রাযিঃ)-এর কাছে (ইসলাম গ্রহণের পর) ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। ইতিপূর্বে তাঁর ধারণা ছিলো যে, এই বিষয়টি জায়িয নেই। কেননা আল্লাহ্ তা'আলা ঈমানদার নারীদেরকে কাফিরদের কাছে প্রত্যাবর্তন করাকে হারাম সাব্যস্ত করেছেন। তাই তাঁর মতে এটা ছিলো নতুন বিয়ের দ্বারা প্রত্যাবর্তন। এ জন্যই তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে (যায়নাব রা) নতুনভাবে বিয়ে দিয়ে তাঁর কাছে (ইসলাম গ্রহণের পর) ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। পক্ষান্তরে আব্দুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রাযিঃ)-এর এই বিষয়টি জানা ছিলনা যে, আল্লাহ্ তা'আলা ঈমানদার নারীদেরকে কাফিরদের কাছে প্রত্যাবর্তন করাকে হারাম সাব্যস্ত করেছেন। পরে যখন তিনি নবী (ﷺ) কর্তৃক যায়নাব (রাযিঃ)-কে আবুল 'আস (রাযিঃ)-এর কাছে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে জানলেন তখন তিনি বললেন যে, তিনি তাঁকে প্রথম বিয়ের উপরই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কেননা তাঁর মতে আবুল 'আস (রাযিঃ)-এর ইসলাম গ্রহণ এবং যায়নাব (রাযিঃ)-এর ইসলামের মাঝে তাদের উভয়ের সংঘটিত বিয়ে বাতিল হয়নি।

ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, এই কারণেই তাদের মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, ঐ কারণে নয় যে, তারা নবী (ﷺ) থেকে যায়নাব (রাযিঃ)-কে আবুল 'আস (রাযিঃ)-এর কাছে ফিরিয়ে দেয়ার কথা শুনে বলেছেন যে, তিনি প্রথম বিয়ের উপরই অথবা নতুনভাবে বিয়ে দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

ইমাম আবু জা'ফর তাহাবী (রাহঃ) বলেন : মুহাম্মাদ (রাহঃ) সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কতইনা চমৎকার কথা বলেছেন। আর এই বিশুদ্ধ বক্তব্যের ভিত্তিতে এই অনুচ্ছেদের রিওয়ায়াতসমূহের বিশুদ্ধকরণ নীতিমালায় আব্দুল্লাহ্ ইবন আমর (রাযিঃ)-এর অভিমতের বিশুদ্ধতা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। বস্তুত এ বিষয়ে দলীল হলো আব্দুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রাযিঃ)-এর অভিমত ঐ খ্রিস্টান নারীর ব্যাপারে, যে দারুল ইসলামে ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং তার স্বামী হলো কাফির, যা নিম্নোক্ত রিওয়ায়াতে বর্ণিত হয়েছে :
كتاب السير
5275 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ زَيْدٍ , قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٌ , قَالَ: قُلْتُ لِمُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ مِنْ أَيْنَ جَاءَ اخْتِلَافُهُمْ فِي زَيْنَبَ؟ فَقَالَ بَعْضُهُمْ: رَدَّهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أَبِي الْعَاصِ عَلَى النِّكَاحِ الْأَوَّلِ , وَقَالَ بَعْضُهُمْ: رَدَّهَا بِنِكَاحٍ جَدِيدٍ أَتَرَى كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ سَمِعَ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا قَالَ؟ فَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ لَمْ يَجِئِ اخْتِلَافُهُمْ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ , وَإِنَّمَا جَاءَ اخْتِلَافُهُمْ أَنَّ اللهَ إِنَّمَا حَرَّمَ أَنْ تَرْجِعَ الْمُؤْمِنَاتُ إِلَى الْكُفَّارِ فِي سُورَةِ الْمُمْتَحَنَةِ , بَعْدَمَا كَانَ ذَلِكَ جَائِزًا حَلَالًا , فَعَلِمَ ذَلِكَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَمْرٍو , ثُمَّ رَأَى أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ رَدَّ زَيْنَبَ , عَلَى أَبِي الْعَاصِ , بَعْدَمَا كَانَ عَلِمَ حُرْمَتَهَا عَلَيْهِ , بِتَحْرِيمِ اللهِ الْمُؤْمِنَاتِ عَلَى الْكُفَّارِ , فَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ عِنْدَهُ إِلَّا بِنِكَاحٍ جَدِيدٍ , فَقَالَ: رَدَّهَا عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنِكَاحٍ جَدِيدٍ , وَلَمْ يَعْلَمْ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا , بِتَحْرِيمِ اللهِ , عَزَّ وَجَلَّ , الْمُؤْمِنَاتِ عَلَى الْكُفَّارِ , حَتَّى عَلِمَ بِرَدِّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَيْنَبَ , عَلَى أَبِي الْعَاصِ فَقَالَ: رَدَّهَا عَلَيْهِ بِالنِّكَاحِ الْأَوَّلِ , لِأَنَّهُ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ , بَيْنَ إِسْلَامِهِ وَإِسْلَامِهَا , فَسْخٌ لِلنِّكَاحِ الَّذِي كَانَ بَيْنَهُمَا , قَالَ مُحَمَّدٌ رَحِمَهُ اللهُ , فَمِنْ هَاهُنَا جَاءَ اخْتِلَافُهُمْ , لَا مِنَ اخْتِلَافٍ سَمِعُوهُ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ذِكْرِهِ , مَا رَدَّ زَيْنَبَ بِهِ عَلَى أَبِي الْعَاصِ أَنَّهُ النِّكَاحُ الْأَوَّلُ , أَوِ النِّكَاحُ الْجَدِيدُ قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: وَقَدْ أَحْسَنَ مُحَمَّدٌ فِي هَذَا , وَتَصْحِيحُ الْآثَارِ فِي هَذَا الْبَابِ عَلَى هَذَا الْمَعْنَى الصَّحِيحِ , يُوجِبُ صِحَّةَ مَا قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَمْرٍو , وَالدَّلِيلُ عَلَى ذَلِكَ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا , قَدْ كَانَ يَقُولُ فِي النَّصْرَانِيَّةِ إِذَا أَسْلَمَتْ فِي دَارِ الْإِسْلَامِ , وَزَوْجُهَا كَافِرٌ , مَا قَدْ
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান