শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
৮. তালাক - ডিভোর্স অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৬৫২
তালাক - ডিভোর্স অধ্যায়
৮. বাধ্যকৃত ব্যক্তির দেয়া তালাক
৪৬৫২। আহমদ ইবন দাউদ (রাহঃ) ….. হুযাইফা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি আমার পিতা হুসাইল এর সাথে মদীনার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হলাম এবং আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর কাছে আগমন করছিলাম। অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা পেশ করেন।
দ্বিতীয় পক্ষের আলিমগণ বলেন, কাফিরদের সাথে ওয়াদা অঙ্গীকার থাকায় এটাকে পূর্ণ করার জন্যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের দুজনকে বদরের যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে অনুমতি দেননি। এতে প্রমাণিত হয় যে, সাধারণ আনুগত্যে কিংবা বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে শপথ করার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। অনুরূপভাবে তালাক এবং দাসমুক্তির ক্ষেত্রে এ দুটি অবস্থার ক্ষেত্রে কোনই পার্থক্য নেই। কিছু সংখ্যক হাদীসে উল্লেখিত বিষয়াদির অর্থ সম্বন্ধে অবগত হওয়ার কারণে এ অবগতির মাধ্যমে যেসব হাদীসের বিষয়াদির অর্থ সম্বন্ধে সুস্পষ্ট ধারণা নেই এগুলোকেও অবহিত অর্থের উপর গণ্য করা যতক্ষণ না এটা পারতপক্ষে প্রচলিত অর্থের বিপরীত না হয়, অতি উত্তম পদক্ষেপ। তাহলে হাদীসগুলোর মধ্যে আর বৈপরিত্য থাকবেনা। সুতরাং উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, ইবন আব্বাস (রাযিঃ)-এর হাদীসটি শিরক সম্পর্কে আর হুযাইফার হাদীসটি হচ্ছে তালাক, শপথ ও অনুরূপ বিষয়াদি সম্পর্কে।
চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হল নিম্নরূপঃ যাকে কোন কাজ করতে বাধ্য করা হয় তার কাজটি দুটি অবস্থার কোন একটি ব্যতীত হতে পারেনা। যাকে কাজটি করতে বাধ্য করা হয় সে যদি কাজটি সম্পাদন করে তাহলে সে এমন একটি ব্যক্তির পর্যায়ভুক্ত হয়, যেন সে কাজটিই করে নাই। সুতরাং তার উপর কোন দায়িত্ব বর্তাবে না কিংবা সে এমন একটির পর্যায়ভুক্ত যেন সে কাজটি করেছে। তাহলে তার উপর এমন দায়িত্ব কিংবা বস্তুটি বর্তাবে যা যাকে বাধ্য করানো হয়েছে তার উপর বর্তানোর কথা। আমরা এ ব্যাপারে আরো গবেষণার আশ্রয় নিলাম ও দেখতে পেলাম যে, উলামায়ে কিরাম এ মাসআলায় কোন মতভেদ করছেন না। মাসআলাটি হল কোন মহিলাকে যদি তার স্বামী জোরপূর্বক সঙ্গম করে আর সে রামাদান মাসের রোযাদার হয় কিংবা হজ্জযাত্রী হয় তাহলে তার হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে রোযাও বাতিল হয়ে যাবে। তারা এক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতার প্রতি কোন গুরুত্ব আরোপ করেননি। যদি করতেন তাহলে তারা সাধারণ আনুগত্য ও বাধ্যবাধকতার মধ্যে কোনরূপ পার্থক্য নির্দেশ করতেন। আর রমণীটিকে এমন ব্যক্তিরও অন্তর্ভুক্ত করেননি, যে কাজটি করেনি; বরং তাকে এমন ব্যক্তির পর্যায়ভুক্ত করেছেন, যে কাজটি করেছে এবং তার উপর হুকুম (ফলাফল) প্রতিফলিত হয়েছে, তবে এ ব্যাপারে তার থেকে বিশেষ করে পাপ ক্ষমা করা হয়েছে। অনুরূপভাবে যদি কাউকে কেউ কোন রমণীর সাথে সঙ্গম করতে বাধ্য করে এবং মহিলাকেও এ কাজে বাধ্য করা হয় তাহলে গবেষণায় বলে সঙ্গমকারীর উপর মাহরও আদায় ওয়াজিব হবে, বাধ্যকারীর উপরে নয়। আর সঙ্গমকারীও বাধ্যকারীর কাছে এ মাহর দাবি করতে পারবে না। কেননা বাধ্যকারী তো সঙ্গম করেনি। সঙ্গমের জন্যেই সঙ্গমকারীর উপর মাহর আদায় ওয়াজিব হয়। সুতরাং এ সঙ্গমের জন্যে যা ওয়াজিব হবে তা শুধু সঙ্গমকারীর উপরই ওয়াজিব হবে, অন্যের উপর নয়।
যখন এসব ক্ষেত্রে প্রমাণ হল যে, বাধ্যকৃত ব্যক্তির উপরই কর্তা হিসেবে দায়-দায়িত্ব বর্তায়, যেমন বর্তায় স্বেচ্ছাকর্মের ক্ষেত্রেও; ফলে বাধ্যকৃত ব্যক্তির উপর ঐ মালই ওয়াজিব করা হয়, যা স্বেচ্ছায় কর্মকারীর উপর ওয়াজিব করা হয়, তখন প্রমাণিত হল যে, বলপূর্বক তালাক প্রদানকারী এবং গোলাম আযাদকারী এবং রাজআতকারীর উপরও ‘কর্মসম্পাদক' হিসাবে দায় বর্তাবে, এবং তার কাজগুলো কার্যকর হবে।
যদি কেউ প্রশ্ন করেন, তাহলে তুমি বাধ্যকৃত ব্যক্তির বেচাকেনা ও ইজারাকে অনুমোদন করোনা কেন? উত্তরে তাকে বলা যায় যে, আমরা বেচাকেনা ও ইজারার ক্ষেত্রে লক্ষ্য করেছি যে, ক্রীত পণ্যের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ হবার পর তা ফেরত দেয়া যায়, বেচাকেনায় দর্শনের ইখতিয়ার ও শর্তের ইখতিয়ার থাকতে পারে, কিন্তু নিকাহ, তালাক, রাজা'আত ও দাসমুক্তির ক্ষেত্রে এগুলো পাওয়া যায় না। শর্তাধীন ইখতিয়ার দর্শনহীন ত্রুটির জন্যে প্রত্যোবর্তনের ন্যায় কারণগুলোর মাধ্যমে যা ভঙ্গ হয়ে যায় বাধ্যবাধকতার দ্বারাও এটা ভঙ্গ হয়ে যায়। আর যা একবার প্রতিষ্ঠিত হবার পর কোন কারণে ভঙ্গ হয় না তা বাধ্যবাধকতা কিংবা অন্য কারণেও ভঙ্গ হয় না। এটাই ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর অভিমত। এ ব্যাপারে একটি হাদীসও আমরা খুঁজে পাই যেমনঃ
দ্বিতীয় পক্ষের আলিমগণ বলেন, কাফিরদের সাথে ওয়াদা অঙ্গীকার থাকায় এটাকে পূর্ণ করার জন্যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের দুজনকে বদরের যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে অনুমতি দেননি। এতে প্রমাণিত হয় যে, সাধারণ আনুগত্যে কিংবা বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে শপথ করার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। অনুরূপভাবে তালাক এবং দাসমুক্তির ক্ষেত্রে এ দুটি অবস্থার ক্ষেত্রে কোনই পার্থক্য নেই। কিছু সংখ্যক হাদীসে উল্লেখিত বিষয়াদির অর্থ সম্বন্ধে অবগত হওয়ার কারণে এ অবগতির মাধ্যমে যেসব হাদীসের বিষয়াদির অর্থ সম্বন্ধে সুস্পষ্ট ধারণা নেই এগুলোকেও অবহিত অর্থের উপর গণ্য করা যতক্ষণ না এটা পারতপক্ষে প্রচলিত অর্থের বিপরীত না হয়, অতি উত্তম পদক্ষেপ। তাহলে হাদীসগুলোর মধ্যে আর বৈপরিত্য থাকবেনা। সুতরাং উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, ইবন আব্বাস (রাযিঃ)-এর হাদীসটি শিরক সম্পর্কে আর হুযাইফার হাদীসটি হচ্ছে তালাক, শপথ ও অনুরূপ বিষয়াদি সম্পর্কে।
চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হল নিম্নরূপঃ যাকে কোন কাজ করতে বাধ্য করা হয় তার কাজটি দুটি অবস্থার কোন একটি ব্যতীত হতে পারেনা। যাকে কাজটি করতে বাধ্য করা হয় সে যদি কাজটি সম্পাদন করে তাহলে সে এমন একটি ব্যক্তির পর্যায়ভুক্ত হয়, যেন সে কাজটিই করে নাই। সুতরাং তার উপর কোন দায়িত্ব বর্তাবে না কিংবা সে এমন একটির পর্যায়ভুক্ত যেন সে কাজটি করেছে। তাহলে তার উপর এমন দায়িত্ব কিংবা বস্তুটি বর্তাবে যা যাকে বাধ্য করানো হয়েছে তার উপর বর্তানোর কথা। আমরা এ ব্যাপারে আরো গবেষণার আশ্রয় নিলাম ও দেখতে পেলাম যে, উলামায়ে কিরাম এ মাসআলায় কোন মতভেদ করছেন না। মাসআলাটি হল কোন মহিলাকে যদি তার স্বামী জোরপূর্বক সঙ্গম করে আর সে রামাদান মাসের রোযাদার হয় কিংবা হজ্জযাত্রী হয় তাহলে তার হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে রোযাও বাতিল হয়ে যাবে। তারা এক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতার প্রতি কোন গুরুত্ব আরোপ করেননি। যদি করতেন তাহলে তারা সাধারণ আনুগত্য ও বাধ্যবাধকতার মধ্যে কোনরূপ পার্থক্য নির্দেশ করতেন। আর রমণীটিকে এমন ব্যক্তিরও অন্তর্ভুক্ত করেননি, যে কাজটি করেনি; বরং তাকে এমন ব্যক্তির পর্যায়ভুক্ত করেছেন, যে কাজটি করেছে এবং তার উপর হুকুম (ফলাফল) প্রতিফলিত হয়েছে, তবে এ ব্যাপারে তার থেকে বিশেষ করে পাপ ক্ষমা করা হয়েছে। অনুরূপভাবে যদি কাউকে কেউ কোন রমণীর সাথে সঙ্গম করতে বাধ্য করে এবং মহিলাকেও এ কাজে বাধ্য করা হয় তাহলে গবেষণায় বলে সঙ্গমকারীর উপর মাহরও আদায় ওয়াজিব হবে, বাধ্যকারীর উপরে নয়। আর সঙ্গমকারীও বাধ্যকারীর কাছে এ মাহর দাবি করতে পারবে না। কেননা বাধ্যকারী তো সঙ্গম করেনি। সঙ্গমের জন্যেই সঙ্গমকারীর উপর মাহর আদায় ওয়াজিব হয়। সুতরাং এ সঙ্গমের জন্যে যা ওয়াজিব হবে তা শুধু সঙ্গমকারীর উপরই ওয়াজিব হবে, অন্যের উপর নয়।
যখন এসব ক্ষেত্রে প্রমাণ হল যে, বাধ্যকৃত ব্যক্তির উপরই কর্তা হিসেবে দায়-দায়িত্ব বর্তায়, যেমন বর্তায় স্বেচ্ছাকর্মের ক্ষেত্রেও; ফলে বাধ্যকৃত ব্যক্তির উপর ঐ মালই ওয়াজিব করা হয়, যা স্বেচ্ছায় কর্মকারীর উপর ওয়াজিব করা হয়, তখন প্রমাণিত হল যে, বলপূর্বক তালাক প্রদানকারী এবং গোলাম আযাদকারী এবং রাজআতকারীর উপরও ‘কর্মসম্পাদক' হিসাবে দায় বর্তাবে, এবং তার কাজগুলো কার্যকর হবে।
যদি কেউ প্রশ্ন করেন, তাহলে তুমি বাধ্যকৃত ব্যক্তির বেচাকেনা ও ইজারাকে অনুমোদন করোনা কেন? উত্তরে তাকে বলা যায় যে, আমরা বেচাকেনা ও ইজারার ক্ষেত্রে লক্ষ্য করেছি যে, ক্রীত পণ্যের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ হবার পর তা ফেরত দেয়া যায়, বেচাকেনায় দর্শনের ইখতিয়ার ও শর্তের ইখতিয়ার থাকতে পারে, কিন্তু নিকাহ, তালাক, রাজা'আত ও দাসমুক্তির ক্ষেত্রে এগুলো পাওয়া যায় না। শর্তাধীন ইখতিয়ার দর্শনহীন ত্রুটির জন্যে প্রত্যোবর্তনের ন্যায় কারণগুলোর মাধ্যমে যা ভঙ্গ হয়ে যায় বাধ্যবাধকতার দ্বারাও এটা ভঙ্গ হয়ে যায়। আর যা একবার প্রতিষ্ঠিত হবার পর কোন কারণে ভঙ্গ হয় না তা বাধ্যবাধকতা কিংবা অন্য কারণেও ভঙ্গ হয় না। এটাই ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর অভিমত। এ ব্যাপারে একটি হাদীসও আমরা খুঁজে পাই যেমনঃ
كتاب الطلاق
4652 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ , قَالَ: ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ , قَالَ: حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ , عَنِ الْوَلِيدِ , عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ , عَنْ حُذَيْفَةَ , قَالَ: خَرَجْتُ أَنَا وَأَبِي حُسَيْلٌ، وَنَحْنُ نُرِيدُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوَهُ. قَالُوا: فَلَمَّا مَنَعَهُمَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ حُضُورِ بَدْرٍ , لِاسْتِحْلَافِ الْمُشْرِكِينَ الْقَاهِرِينَ لَهُمَا , عَلَى مَا اسْتَحْلَفُوهُمَا عَلَيْهِ , ثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّ الْحَلِفَ عَلَى الطَّوَاعِيَةِ وَالْإِكْرَاهِ سَوَاءٌ , وَكَذَلِكَ الطَّلَاقُ وَالْعَتَاقُ وَهَذَا أَوْلَى مَا فُعِلَ فِي الْآثَارِ , إِذَا وُقِفَ عَلَى مَعَانِي بَعْضِهَا أَنْ يُحْمَلَ مَا بَقِيَ مِنْهَا عَلَى مَا لَا يُخَالِفُ ذَلِكَ الْمَعْنَى , مَتَى مَا قَدَرَ عَلَى ذَلِكَ , حَتَّى لَا تَضَادَّ فَثَبَتَ بِمَا ذَكَرْنَا أَنَّ حَدِيثَ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا فِي الشِّرْكِ , وَحَدِيثَ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِي الطَّلَاقِ وَالْأَيْمَانِ , وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ وَأَمَّا حُكْمُ ذَلِكَ مِنْ طَرِيقِ النَّظَرِ , فَإِنَّ فِعْلَ الرَّجُلِ مُكْرَهًا , لَا يَخْلُو مِنْ أَحَدِ وَجْهَيْنِ: إِمَّا أَنْ يَكُونَ الْمُكْرَهُ عَلَى ذَلِكَ الْفِعْلِ إِذَا فَعَلَهُ مُكْرَهًا , فِي حُكْمِ مَنْ لَمْ يَفْعَلْهُ , فَلَا يَجِبُ عَلَيْهِ شَيْءٌ أَوْ يَكُونَ فِي حُكْمِ مَنْ فَعَلَهُ , فَيَجِبُ عَلَيْهِ , مَا يَجِبُ عَلَيْهِ لَوْ فَعَلَهُ غَيْرَ مُسْتَكْرَهٍ. فَنَظَرْنَا فِي ذَلِكَ , فَرَأَيْنَاهُمْ لَا يَخْتَلِفُونَ فِي الْمَرْأَةِ إِذَا أَكْرَهَهَا زَوْجُهَا وَهِيَ صَائِمَةٌ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ أَوْ حَاجَّةٌ , فَجَامَعَهَا , أَنَّ حَجَّهَا يَبْطُلُ , وَكَذَلِكَ صَوْمُهَا وَلَمْ يُرَاعُوا فِي ذَلِكَ الِاسْتِكْرَاهِ , فَيُفَرِّقُوا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الطَّوَاعِيَةِ , وَلَا جُعِلَتِ الْمَرْأَةُ فِيهِ فِي حُكْمِ مَنْ لَمْ يَفْعَلْ شَيْئًا , بَلْ قَدْ جُعِلَتْ فِي حُكْمِ مَنْ قَدْ فَعَلَ فِعْلًا يَجِبُ عَلَيْهِ الْحُكْمُ , وَرُفِعَ عَنْهَا الْإِثْمُ فِي ذَلِكَ خَاصَّةً وَكَذَلِكَ لَوْ أَنَّ رَجُلًا أَكْرَهَ رَجُلًا عَلَى جِمَاعِ امْرَأَةٍ اضْطُرَّتْ إِلَى ذَلِكَ , كَانَ الْمَهْرُ , فِي النَّظَرِ , عَلَى الْمُجَامِعِ , لَا عَلَى الْمُكْرَهِ , وَلَا يَرْجِعُ بِهِ الْمُجَامِعُ عَلَى الْمُكْرَهِ , لِأَنَّ الْمُكْرَهَ لَمْ يُجَامِعْ , فَيَجِبُ عَلَيْهِ بِجِمَاعِهِ مَهْرٌ , وَمَا يَجِبُ فِي ذَلِكَ الْجِمَاعِ , فَهُوَ عَلَى الْمُجَامِعِ , لَا عَلَى غَيْرِهِ. فَلَمَّا ثَبَتَ فِي هَذِهِ الْأَشْيَاءِ أَنَّ الْمُكْرَهَ عَلَيْهَا مَحْكُومٌ عَلَيْهِ بِحُكْمِ الْفَاعِلِ كَذَلِكَ فِي الطَّوَاعِيَةِ , فَيُوجِبُونَ عَلَيْهِ فِيهَا مِنَ الْأَمْوَالِ , مَا يَجِبُ عَلَى الْفَاعِلِ لَهَا فِي الطَّوَاعِيَةِ , ثَبَتَ أَنَّهُ كَذَلِكَ الْمُطَلِّقُ وَالْمُعْتِقُ وَالْمُرَاجِعُ فِي الِاسْتِكْرَاهِ , يُحْكَمُ عَلَيْهِ بِحُكْمِ الْفَاعِلِ , فَيَلْزَمُ أَفْعَالَهُ كُلَّهَا. [ص:98] فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: فَلِمَ لَا أَجَزْتَ بَيْعَهُ وَإِجَارَتَهُ؟ قِيلَ لَهُ: إِنَّا قَدْ رَأَيْنَا الْبُيُوعَ وَالْإِجَارَاتِ , قَدْ تُرَدُّ بِالْعُيُوبِ وَبِخِيَارِ الرُّؤْيَةِ , وَبِخِيَارِ الشَّرْطِ , وَلَيْسَ النِّكَاحُ كَذَلِكَ , وَلَا الطَّلَاقُ وَلَا الْمُرَاجَعَةُ وَلَا الْعِتْقُ. فَمَا كَانَ قَدْ تُنْقَضُ بِالْخِيَارِ لِلشُّرُوطِ فِيهِ وَبِالْأَسْبَابِ الَّتِي فِي أَصْلِهِ مِنْ عَدَمِ الرُّؤْيَةِ وَالرَّدِّ بِالْعُيُوبِ , نُقِضَ بِالْإِكْرَاهِ , وَمَا لَا يَجِبُ نَقْضُهُ بِشَيْءٍ بَعْدَ ثُبُوتِهِ , لَمْ يُنْقَضْ بِإِكْرَاهٍ وَلَا بِغَيْرِهِ وَهَذَا قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ , وَأَبِي يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمُ اللهُ، وَقَدْ رَأَيْنَا مِثْلَ هَذَا قَدْ جَاءَتْ بِهِ السُّنَّةُ